তাহলে কি আরেকটি ‘কালো আইন′! | বিশ্ব | DW | 07.10.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

তাহলে কি আরেকটি ‘কালো আইন'!

পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার আর সর্বোচ্চ শাস্তির মেয়াদ বাড়িয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) বিল-২০১৩ সংসদে রবিবার পাস হয়েছে৷ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়৷

পাস হওয়া এই বিলটির ৫৭ নম্বর ধারা নিয়ে অনেকদিন ধরেই আলোচনা চলছিল৷ এ বছরের ১৯ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদিত হওয়ার পর ব্লগার আরিফ জেবতিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমএ ২৭ আগস্ট তারিখে ‘আরেকটি কালো আইনের হাতছানি' শীর্ষক একটি বিশ্লেষণধর্মী লেখা লেখেন৷ এই লেখায় ৫৭ নম্বর ধারাটি পুরোটাই তুলে দেয়া হয়েছে৷ এই ধারাতে আছে, ‘‘ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে মিথ্যা ও অশ্লীল কিছু প্রকাশ করলে এবং তার কারণে মানহানি, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগলে বা কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়া হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে৷''

আরিফ জেবতিক লিখেছিলেন, ‘‘এ আইনে গুরুত্বপূর্ণ যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেটি হচ্ছে এ অপরাধে এখন পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে৷ পুলিশের গ্রেফতার-বাণিজ্য সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে, তারা জানেন পুলিশের এ ক্ষমতা দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষের উপর কত বড় ঝুঁকির সুযোগ তৈরি করবে৷''

জেবতিকের শেষ লাইনটি ছিল এরকম, ‘‘এ বিশ্বায়নের যুগে ইন্টারনেট ব্যবহারে অপ্রয়োজনীয় কড়াকড়ির এ আইন আমাদের ইতিহাসে আরেকটি ‘কালো আইন'-এর নমুনা হিসেবেই চিহ্নিত হবে ভবিষ্যতে৷''

এখন যখন বিলটি পাস হলো তখন জেবতিক তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘তথ্য প্রযুক্তি আইন পাস হয়েছে৷ ৫৭ ধারা বলবৎ৷ দারোগা বাবু চাইলেই আপনাকে গারদে পুরে ফেলতে পারবেন অজামিনযোগ্য ধারায়৷''

মোবাশ্বার হাসান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘এই বিল একটা পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে: বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ যারাই সরকারে থাকুক না কেন তাদের সমালোচনা করো না৷''

আজাদ মাস্টার লিখেছেন, ‘‘যা বুঝলাম বাংলাদেশের মধ্যে থেকে অনলাইনে বাংলায় স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ চর্চার কবর খুড়া হলো৷'' সাইফুর রহমান ইমতিয়াজ লিখেছেন, ‘‘ভাই বিদেশ যাইতে মুঞ্চায়৷ দেশে থাইকা আর কিছু কওয়ার অবস্থা নাই৷ কোন সময় পুলিশ বাবাজীরা আবার শ্বশুরবাড়ির দাওয়াত দেয়৷''

তবে লিংকন হুসেইন আইনের কার্যকর হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘ধুর এত ভয় পাইলে চলবে? জাল ভোট দিলে ২ বছরের জেল!! কিন্তু বাস্তবে ২ দিনেও জেল হয় না৷ এইটা বাংলাদেশ, কোন আইনটা কার্যকর হয়েছে একটু বলবেন?''

সংকলন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন