তালেবান শাসনেও বাড়ছে আফিম চাষ | বিশ্ব | DW | 13.12.2021

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

আফগানিস্তান

তালেবান শাসনেও বাড়ছে আফিম চাষ

অর্থনৈতিক সংকটে আছে আফগানিস্তান৷ দারিদ্র্য বাড়ছে৷ তাই জীবিকার তাগিদে আফিম চাষে নামছেন অনেকে৷

দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানে আফিম তৈরির জন্য পপি চাষ হয়ে আসছে৷ মূলত ব্যথানাশক ওষুধ তৈরির জন্য পপি গাছ চাষ করা হলেও তা থেকে তৈরি করা বেশিরভাগ আফিমই ব্যবহৃত হয় নেশাদ্রব্য হিসেবে৷ 

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা -র তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বের সব আফিমজাত পণ্যের শতকরা ৮৫ ভাগের জোগানদাতা আফগানিস্তান৷ বিশ্বের মোট আফিমসেবীর শতকরা ৮০ জনের চাহিদা পূরণকারীও এশিয়ার এই দেশ৷

১৯৯৬ সালে তালেবান যখন প্রথম দফা ক্ষমতায় আসে, তখন দেশটিতে আফিমের উৎপাদন অনেক কমেছিল৷ পাঁচ বছরের শাসনকালে বছরে মোট আফিম উৎপাদন ১৯৬ মেট্রিক টনে নামিয়ে এনেছিল তখনকার তালেবান সরকার৷ কিন্তু তালেবান সরকারের পতনের পর আফগানিস্তানের কিছু অঞ্চলে আবার আফিমের চাষ বাড়তে থাকে৷ সরকারের চেষ্টা সত্ত্বেও আফিম চাষ তখন নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, মূলত তালেবানের সমর্থক অধ্যুষিত সেসব অঞ্চলে আফিম চাষ ক্রমাগত বেড়ে চলার কারণও তালেবান৷

সংগঠনটির যোদ্ধারা গত প্রায় দুই দশক অঞ্চলগুলিতে সমর্থন ধরে রাখার জন্য আফিম চাষিদের  কোনো বাধা দেয়নি বলে মনে করেন সাবেক আফগান সেনা কর্মকর্তা৷

তবে গত আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর আফিম চাষ বন্ধ করার ঘোষণা দেয় তালেবান৷ সেই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি সরকার৷ ফলে চরম অর্থনৈতিক সংকটগ্রস্ত দেশটিতে বহু মানুষ আবার নতুন করে ঝুঁকছে আফিম চাষের দিকে৷ ফলে দ্রুত বাড়ছে আফিম চাষ৷ ইউএনওডিসির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের তুলনায় চলতি বছরে আফিম চাষ ইতিমধ্যে ৮ শতাংশ বেড়েছে৷

পপির বীজ নিংড়ে বের করা সাদা দুধের মতো রস শুকিয়ে তৈরি হয় আফিম৷ ইউএনওডিসির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, চলতি বছরে আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে ১.৮ বিলিয়ন থেকে ২.৭ বিলিয়ন ডলারের অবদান রাখতে পারে আফিম৷

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেনা কর্মকর্তা মনে করেন, অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত আফগানিস্তানের একটা উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষ সহজ আয়ের উপায় হিসেবে আফিম চাষকে বেছে নেবে এটা খুবই স্বাভাবিক৷ এবং অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির কোনো আশা জাগাতে না পারা তালেবান সরকার আফিম চাষ রোধে এখন যে খুব কঠোর ব্যবস্থা নেবে না- এটাও অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়৷

প্রসঙ্গত, তালেবানের বিরুদ্ধে অনেক দিন ধরেই অস্ত্র কেনা এবং বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলা পরিচালনার খরচ তোলার জন্য মাদক ব্যবসানির্ভরতার অভিযোগ আছে৷

শবনম ফন হাইন/ এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়