তালেবানি হুমকির কবলে পাকিস্তানের বৌদ্ধ ঐতিহ্য | বিশ্ব | DW | 23.11.2009
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

তালেবানি হুমকির কবলে পাকিস্তানের বৌদ্ধ ঐতিহ্য

তালেবানি উত্থানের প্রেক্ষিতে বন্ধ হয়ে গেছে বৌদ্ধ ঐতিহ্য সমৃদ্ধ সোয়াত জাদুঘর, পেশাওয়ারের জাদুঘরে বিদেশি পর্যটকরা যেতে পারছেন না৷ গান্ধার শিল্পকলার প্রাণকেন্দ্র তক্ষশিলাতেও নেই পর্যটকের ভিড়৷

তালেবান গোষ্ঠী আগে ধ্বংস করেছিল আফগানিস্তানের বৌদ্ধ ঐতিহ্য, এবার তাদের লক্ষ্য পাকিস্তান

তালেবান গোষ্ঠী আগে ধ্বংস করেছিল আফগানিস্তানের বৌদ্ধ ঐতিহ্য, এবার তাদের লক্ষ্য পাকিস্তান

মুখ থুবড়ে পড়েছে সেখানকার দেশি-বিদেশি প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কার্যক্রম৷

এমন তালেবানি তৎপরতায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়া পাকিস্তানের সমৃদ্ধ বৌদ্ধ ঐতিহ্য ধ্বংসের হুমকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন দেশি-বিদেশি প্রত্নতত্ত্ববিদরা৷

পাকিস্তানের অন্যতম সেরা প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা তক্ষশিলা জাদুঘরের কিউরেটর আব্দুল নাসির খান বলছিলেন, ‘‘এটা খুবই স্পষ্ট যে পরিস্থিতি যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে এটা (তালেবানি তৎপরতা)

Hakimullah Mehsud Taliban Tehrik e Taliban

পাকিস্তানের তেহরিক ই তালেবানের প্রধান হাকিমুল্লাহ মাসুদ (ফাইল ফটো)

আমাদের সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস করে দেবে৷''

তক্ষশিলাও নিরাপদ নয়!

খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতক থেকে শুরু করে ২য় খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বৌদ্ধ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পচর্চার গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য সমৃদ্ধ তক্ষশিলা রাজধানী ইসলামাবাদের মাত্র ২০ কিলেমিটার দক্ষিণে অবস্থিত৷ কিন্তু উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের লাগাতার তালেবানি সহিংসতায় তক্ষশিলাও নিরাপদ নয়৷

নাসির খান বলেন,‘‘এমনকী তক্ষশিলাতেও নিরাপদ বোধ করি না আমরা৷ সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনও আমাদের সতর্ক করে দিয়েছে৷ আমরা বাড়তি নিরাপত্তার কিছু ব্যবস্থা নিলেও তা যথেষ্ট নয় এবং আমাদের পর্যাপ্ত তহবিলও নেই৷''

আক্ষেপ করে তিনি জানান,‘‘সপ্তাহের পর সপ্তাহেও আমরা একজনও বিদেশি পর্যটক পাই না৷ যদি পর্যটকরা না আসে, যদি প্রত্নস্থানগুলোর সংরক্ষণ না হয়, নিরাপত্তার হুমকি থাকে, গবেষণা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে প্রত্নতত্ত্বের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে ভেবে দেখেছেন?''

বামিয়ানের ভূত পাকিস্তানেও


প্রাচীন গান্ধার রাজত্বের অপর প্রত্নতীর্থ বর্তমান আফগানিস্তানের বামিয়ানে ২০০১ সালে যুগল বুদ্ধমূর্তি বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়ে তালেবান গোষ্ঠী বিশ্ববাসীকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল৷ সেসময় থেকেই পাকিস্তানে উগ্রপন্থী এই ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান চলছে৷

সংগীত, চারুকলা, নৃত্য, নারীশিক্ষা এবং মূর্তি উপসনার বিরোধিতা করে

Pakistan Selbstmordanschlag Auto Bombe

পাকিস্তানে তালেবান হামলা এখন নিত্য দিনের ঘটনা

পাকিস্তানের ওই অঞ্চলে তালেবানি তৎপরতা বিস্তারের কারণে প্রত্নতত্ত্ববিদরা আশঙ্কা করছেন, বামিয়ানের মতো এখানেও মৌলবাদীদের শ্যেনদৃষ্টির কবলে আছে বৌদ্ধ প্রত্নসম্ভার৷

সোয়াত উপত্যকায় ১৯৫৬ সাল থেকে সক্রিয় ছিল ইতালিয় প্রত্নতত্ত্ববিদরা৷ কিন্তু ২০০৭ সালে শরিয়া আইনের দাবিতে সোয়াতে তালেবান উত্থানের কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সেখানে গবেষণা কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন ইতালিয় প্রত্নতত্ত্ববিদরা৷ পরের বছরের সেপ্টম্বরে সোয়াতে বুদ্ধের চিত্র খোদাই করা বিখ্যাত বিশাল প্রস্তরখণ্ডটি দুই দফায় বোমা মেরে গুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তালেবান জঙ্গিরা৷

পাকিস্তানে ইতালিয় প্রত্নতাত্ত্বিক মিশনের সমন্বয়কারী লুসা অলিভিয়েরি ই-মেইলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, সেখানে পুনরায় কাজ শুরুর কোনো পরিকল্পনা এখনও হয়নি৷ পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলছেন একসময় ১৫-২০টি বিদেশি প্রত্নতাত্ত্বিক মিশন কাজ করলেও এখন প্রায় সবগুলোই বন্ধ৷

পর্যটক নেই, জাদুঘর বন্ধ

এ পরিস্থিতিতেই সমস্ত প্রত্নসামগ্রী সরিয়ে নিয়ে ২০০৮ সালে সোয়াত জাদুঘর বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ সতেরো বছর ওই জাদুঘরের কিউরেটরর দায়িত্বে থাকা নাসির খান জানান, সোয়াতের প্রধান শহর মিনগোরাতে জাদুঘর ভবনটি সেনাবাহিনী অধিগ্রহণ করে নেয়৷ সেনা-তালেবান সংঘর্ষে বোমা বিস্ফোরণে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো ভবনের সংস্কার ছাড়া সেখানে আবার কার্যক্রম শুরু অসম্ভব৷

একসময় গান্ধার রাজত্বের অন্যতম কেন্দ্র বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও প্রত্নতত্ত্বের আরেক তীর্থ বর্তমানের সহিংসতা বিক্ষুব্ধ পেশাওয়ার৷ এখানকার জাদুঘরটি খোলা থাকলেও কোনো পর্যটক নেই৷ জাদুঘর কর্মকর্তা কাজী ইজাজ বলেন,‘‘প্রায় দেড়বছর ধরে বিদেশি পর্যটকরা পাকিস্তানের এ অংশে আসা একদমই ছেড়ে দিয়েছে৷''

তিনি আরও জানান,‘‘পর্যটন কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে গেছে৷ বিদেশি পর্যটকরা আসা বন্ধ করে দিয়েছে.... জাদুঘর, স্থাপত্য এবং প্রত্নস্থানগুলো জনশূন্য হয়ে পড়ছে৷''

সংঘাতময় উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে ছোটোবড় প্রায় ১০টি জাদুঘর রয়েছে৷ এদের মধ্যে একটি চিত্রল উপত্যকার অনন্য কালাশ সংস্কৃতি তুলে ধরার প্রয়াসে নির্মাণাধীন৷ পরিষ্কার ত্বক আর হালকা চোখের কালাশদের নিয়ে বিদ্বানদের আগ্রহ ব্যাপক৷ কারও মতে তারা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো প্রাচীন জাতিগোষ্ঠীর বংশধর৷ কেউ বলেন, তারা ভারত বিজয় করতে আসা মহাবীর আলেকজান্ডারের সৈন্যবাহিনীর থেকে যাওয়া অংশের উত্তরসূরি৷ পাকিস্তানের অপরাপর আদিবাসীদের চেয়ে আলাদা ভাষা ও বিশিষ্ট সংস্কৃতির চর্চা ধরে রাখা কালাশরা একটি অনন্য জাতিগোষ্ঠী হিসেবে সুবিদিত৷ কিন্তু কালাশ জাদুঘর কার্যক্রমের এক স্বেচ্ছাসেবকও এ সেপ্টম্বরে অপহৃত হয়েছেন জঙ্গিদের হাতে৷ তাকে আফগানিস্তানে পাচার করে দেওয়া হয়েছে বলেও শোনা গেছে৷

প্রতিবেদক: মুনীর উদ্দিন আহমেদ

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন