‘তারেক রহমানের ফাঁসি চাই′ | বিশ্ব | DW | 10.10.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগাওয়াচ

‘তারেক রহমানের ফাঁসি চাই'

২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন৷ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ায়৷ তাঁরা মনে করেন, তারেক রহমানের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল৷

২১ আগস্ট চালানো গ্রেনেড হামলার মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত৷ এই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, সাবেক সাংসদ কায়কোবাদসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে৷

মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া তিন আসামির মৃত্যুদণ্ডের জন্য আপিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক৷ রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, ‘‘এই হামলার মূল নায়ক তারেক রহমান৷ তিনি আওয়ামী লীগকে ও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সপাটে শেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের নায়ক ছিলেন৷ মূল হোতা তারেকের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল৷''

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই রায় সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন৷ নিয়াজ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘ভয়াল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা-হত্যাকাণ্ডের রায়— বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেক-সহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন৷ তারেকের ফাঁসি হলে মনটা শান্তি পেতো৷''

সাংবাদিক সুলাইমান নিলয় লিখেছেন, ‘‘মনে হয়, তারেকের সর্বোচ্চ সাজাই হয়েছে৷ ফাঁসি হলে তাকে নিশ্চিতভাবেই ফিরিয়ে আনা যেতো না৷ এখন সেই সম্ভাবনা খানিকটা হলেও বেঁচে রইলো....''

ব্লগার অজন্তা দেব রায় তারেককে মৃত্যুদণ্ড না দেয়ার কারণ হিসেবে বলেছেন,‘‘

‘‘একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মূল মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানকে কেন সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি এই নিয়ে দেখলাম অনেকেই হতাশ৷ দেখুন, বিচারকেরা নিশ্চয়ই সব দিক বিবেচনা করেই এই রায় দিয়েছেন৷ তাছাড়া, তারেক রহমান ব্রিটেনে পলাতক অবস্থায় আছেন, খুব সম্ভবত এই দেশের রাজনৈতিক আশ্রয়ে৷ শুধু রায় দিয়ে দিলেই তো হলো না৷ রায় কার্যকর করতে হলে তাকে দেশে ফিরিয়ে তো নিতে হবে৷ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা চৌধুরী মুঈনুদ্দীনের এক্সট্রাডিশন ক্যাম্পেইন করতে গিয়ে দেখেছি মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি থাকার কারণে মানবাধিকারের দোহাই দিয়ে এখানকার আইন তাকে দেশে ফেরত নিতে দেবে না৷৷ তারেক রহমানের ফাঁসির রায় হলে তার ক্ষেত্রে ও ঠিক তাই ঘটতো৷ সুতরাং ভেবে দেখুন যা হয়েছে তা ভালো হয়েছে কিনা৷''

ডয়চে ভেলের ফেসবুক পাতাতেও অনেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন৷

জেরিন খান তারেক রহমানের ফাঁসি দাবি করেছেন৷  একই দাবি জানিয়েছেন মাহমুদ অভি৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘তারেক বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের জনক, আমার পরিচিত শুভানুধ্যায়ী ভাই, বন্ধু আক্রান্ত হয়েছে ঐ হামলায়৷ আমি আওয়ামীপন্থি নই৷ আমি সিপিবি'র সমর্থক৷ সিপিবি'র বোমা হামলার বিচার হয় নাই৷''

রায়ের আগের দিন থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন৷ তাঁদের মধ্যে একজন বাকি বিল্লাহ৷ তবে তাঁর প্রতিক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘

‘‘এই মামলার বিচারের সাথে সার্বিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কোনো প্রত্যাশা এই শাসক গোষ্ঠীর কাছে আর রাখি না৷ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় হওয়ার পর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলাম, আশা করি, এই বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর গোটা রাষ্ট্র ও সমাজ পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে৷ যুদ্ধাপরাধীদের ন্যায়বিচারের মুখোমুখি করতে যত আন্দোলন-সংগ্রাম; তার পুরোটা জুড়েও সমাজের সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্খাই মুখ্য ছিল৷ বলা বাহুল্য, আমাদের আকাঙ্খা পূরণ হয়নি৷ বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ভূমিকা রেখেছে যে হাত, আশা ছিল দেশের সকল মানুষের জন্য সুবিচার নিশ্চিত করবে সে৷ কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, তা না করে সেই একই হাত ত্বকী, তনু বা এরকম আরো অনেকের খুনীর ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে৷ কুৎসিত এই সত্য সবার সামনে উন্মুক্ত, কোনো রাখঢাক নেই৷ মানুষ যে ক্ষমতা দিয়েছিল, তা মানুষের বিরুদ্ধেই কাজে লাগছে৷ তাই আজ, ভয়াল ২১শে আগস্টের কুখ্যাত খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হলেও দেশের মানুষ তাকে পার্শিয়াল ন্যায়বিচার হিসেবেই দেখবে৷ কারণ তারা দেখেছে, খুনী বিপ্লব কিংবা জোসেফকে বাঁচাতে কারা ঢাল হয়েছে৷''

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন