তারেক জিয়া কোন দেশের নাগরিক? | বিশ্ব | DW | 23.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

তারেক জিয়া কোন দেশের নাগরিক?

চলছে অভিযোগ-পালটা অভিযোগ৷ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন যে, এমন প্রমাণ আছে যা তারেক বাংলাদেশের নাগরিক আছেন কিনা সেই প্রশ্ন তুলছে৷ নাগরিক না থাকলে তিনি কীভাবে বিএনপির চেয়ারপার্সন হন সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি৷

default

ফাইল ছবি

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম গত শনিবার লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন৷ তাহলে তিনি কীভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন? সোমবার বিকেলে গুলশানের বাসায় সাংবাদিক সম্মেলন করে একই কথা বলেছেন শাহরিয়ার আলম৷ তবে এবার তিনি কিছু তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে বলেন, ‘‘২০১৪ সালের ২ জুন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ও কন্যার পাসপোর্ট জমা দেন৷ এরপর আর তাঁরা নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেননি৷ ফলে তাঁদের নাগরিকত্ব থাকতে পারে না৷'' তিনি দাবি করেন, এর পক্ষে সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত তাঁর কাছে রয়েছে৷ তাঁর এই বক্তব্যের পর তারেক রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে৷

এর আগে সোমবার দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, তারেক রহমানের বাংলাদেশি পাসপোর্ট জমা দেওয়ার যে খবর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বরাতে সংবাদমাধ্যমে এসেছে, বিএনপি তা প্রতাখ্যান করছে৷

অডিও শুনুন 00:59
এখন লাইভ
00:59 মিনিট

শাহরিয়ার আলম কী বলেছেন তা তিনিই জানেন: মির্জা ফখরুল

এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেন তিনি৷ তিনি বলেন, ‘‘পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নির্জলা মিথ্যা কথা বলেছেন৷ আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনে জমা দিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি প্রদর্শন করুন৷ হাইকমিশন তো সরকারের অধীনেই, তাদের বলুন সেটি দেখাতে৷''

রিজভীর এই বক্তব্যের পরই তারেক রহমানের আইনজীবী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের লন্ডনে দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে তাঁকে আইনি নোটিশ পাঠান৷ সোমবার দুপুরে সরকারি ডাকযোগে নোটিশটি পাঠিয়েছেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান৷

এই পরিস্থিতিতে বিএনপি কী ভাবছে? ডয়চে ভেলের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘‘শাহরিয়ার আলম কী বলেছেন তা তিনিই জানেন৷ এ নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না৷'' তারেক রহমান কি সহসা দেশে ফিরবেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেছেন৷ তিনি সেখানে চিকিৎসা করাচ্ছেন৷'' সরকার প্রধান থেকে শুরু করে অনেক মন্ত্রীও বলছেন, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ আপনাদের ভাষ্য কী? জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘তারা সরকারে আছেন, তারা ভালো বলতে পারবেন তারা কী করছেন৷ এটা নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই৷''

অডিও শুনুন 01:22
এখন লাইভ
01:22 মিনিট

সংবিধানে নাগরিকত্ব চলে যাওয়ার কোন ব্যাখা নেই: মনসুর হাবীব

পাসপোর্ট জমা দিলে কি নাগরিকত্ব চলে যায়? সংবিধানে কী ব্যাখা আছে, এ নিয়ে আইনই বা কি বলছে? সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী মনসুর হাবিব ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সংবিধানে নাগরিকত্ব চলে যাওয়ার কোনো ব্যাখা নেই৷ আর তারেক রহমান যদি পাসপোর্ট জমা দিয়ে থাকেনও, তাহলেও নাগরিকত্ব যাওয়ার প্রশ্ন উঠছে কেন? অনেকেই দেশের বাইরে আছেন৷ কিন্তু তাদের তো নাগরিকত্ব চলে যাচ্ছে না৷ আমাদের আইনে নাগরিকত্ব পাওয়ার নানা ব্যাখ্যা আছে, যাওয়ার ব্যাখ্যা নেই৷ তারেক রহমান তো জন্মসূত্রে বাংলাদেশি৷ তাহলে এই ধরনের আলোচনা ‘রাজনীতি' ছাড়া আর কিছুই না৷ আমি এটাকে অপরাজনীতি বলবো৷''

সম্প্রতি লন্ডন সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্য থেকে ফিরিয়ে আনতে ওই দেশের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে৷ এরপর রবিবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও ঢাকায় সাংবাদিক সম্মেলন করে একই কথা বলেছেন৷ আইনমন্ত্রী একটু যোগ করে বলেছেন, ‘‘বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকলেও এখন এই ধরনের চুক্তি করতে তো আমাদের বাধা নেই৷ তাছাড়া মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাক্ট বলে একটি আইন আছে৷ এই আইনের আলোকে কিছু অপরাধীকে বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকা সত্ত্বেও আমরা কিন্তু আনতে পারি৷ সেই মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাক্ট আমাদের দুই দেশেরই আছে৷''

তখন থেকেই তারেক রহমানকে নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে৷ নতুন যোগ হয়েছে নাগরিকত্ব আর সর্বশেষ লিগ্যাল নোর্টিশ৷ আইনজীবী কায়সার কামাল বলেছেন, ‘‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন- এই মর্মে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম যে বক্তব্য দিয়েছেন এবং সেই বক্তব্য যে দুটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, তা প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে৷ তারেক রহমানের নির্দেশে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে৷'' আগামী ১০ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে, প্রতিমন্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে মামলা করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি৷

অডিও শুনুন 01:26
এখন লাইভ
01:26 মিনিট

নির্বাচন করতে হলে বাংলাদেশের ভোটার হতে হবে, ভোটার হতে হলে নাগরিক হতে হবে: সাখাওয়াত হোসেন

নাগরিকত্ব নিয়ে নির্বাচনী আইনে কী ব্যাখ্যা আছে? সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নির্বাচন করতে হলে বাংলাদেশের ভোটার হতে হবে৷ ভোটার হতে হলে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে৷'' কেউ যদি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে দেয় তাহলে কি তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান হতে পারেন? জবাবে জনাব সাখাওয়াত বলেন, ‘‘আরপিওতে এমন কিছু বলা নেই৷ এটা যে কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব বিষয়৷ আমাদের উপমহাদেশে তো এমন উদাহরণ আছে৷ ভারতে কংগ্রেস প্রধান সোনিয়া গান্ধী৷ বিদেশি নাগরিক হওয়ায় তিনি তখন প্রধানমন্ত্রী হননি৷ ফলে নাগরিকত্ব না থাকলে পার্টি প্রধান হওয়া যাবে না, এমন কোনো কথা কোথাও লেখা নেই৷''

প্রসঙ্গত, সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০০৮ সালে জামিনে মুক্ত হয়ে লন্ডনে যান খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান৷ এরপর থেকে স্ত্রী-কন্যা নিয়ে তিনি সেখানেই বসবাস করে আসছেন৷ দুই বছর আগে মুদ্রাপাচারের এক মামলায় তারেককে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয় হাইকোর্ট৷ আর গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত৷ ওই মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর এখন কারাগারে আছেন তারেকের মা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও