তারুণ্যের সাহিত্য, তারুণ্যের প্রকাশনা | বিশ্ব | DW | 05.02.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

তারুণ্যের সাহিত্য, তারুণ্যের প্রকাশনা

বাংলাদেশে সারাবছর যেসব বই প্রকাশিত হয়, তার মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ ভাগই তরুণ এবং নবীন লেখকদের৷ বিশেষ করে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় তরুণ লেখকদের বই প্রকাশের আগ্রহই বেশি৷

শুধু লেখালেখিতে নয়, তরুণরা প্রকাশনা শিল্পেও আগ্রহী হয়ে উঠছেন৷ আর তাঁরা এটাকে দেখছেন একটি সৃষ্টিশীল ব্যবসা হিসেবে৷ তাঁদের ভাবনা, তাঁরা যদি নতুন লেখক, তরুণ লেখক বের করে আনতে না পারেন, তাহলে এই ব্যবসায় কেন? শুধু প্রতিষ্ঠিত লেখকদের লেখা ছাপলে তো তা বিক্রি এমনিতেই হবে৷ তাহলে প্রকাশকের কৃতিত্ব কোথায়? একজন ভালো প্রকাশক নতুন লেখক-প্রতিভা খুঁজে বের করবেন৷ তাঁদের লেখা প্রকাশ করে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেবেন৷ নতুন পাঠক শ্রেণি গড়ে তুলবেন৷ এটাই প্রকাশকের কাজ৷

ব্যবসা অবশ্যই প্রকাশক করবেন৷ কারণ, তিনি তো অর্থ লগ্নি করে লোকসান দেবেন না৷ কিন্তু খ্যাতিমানদের বই প্রকাশ করে ব্যবসা করা সহজ কাজ৷ এটা যে কেউ করতে পারেন৷ কিন্তু প্রতিভা খূঁজে বের করে তার সাহিত্যকর্ম পাঠকের হাতে তুলে দিয়ে ব্যবসা করা একজন মেধাবী প্রকাশকের কাজ৷ আসলে একজন দায়িত্বশীল প্রকাশককে সেটাই করতে হয়৷ আর এটা না করলে শেষ পর্যন্ত ব্যবসাটাও আর থাকে না৷ বৃত্ত ভাঙা যায় না৷ জিম্মি হয়ে থাকতে হয়৷ নতুনদের জন্য পথ তৈরি হয় না৷

অডিও শুনুন 07:06

‘গণিতের বইয়েরও পাঠক আছে’

তরুণ লেখক আর প্রকাশকদের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের এই নতুন ভাবনার সঙ্গে পরিচয় হয়৷ শুধু তাই নয়, প্রচলিত গল্প, উপন্যাস আর কবিতার যে ঐতিহ্যগত ধারা, তা থেকেও বেরিয়ে আসার প্রবণতা স্পষ্ট৷ ফিকশন থেকে নন-ফিকশন ধারার দিকে ঝোঁক বাড়ছে৷

তরুণ লেখক চমক হাসানের কথাই বলা যাক৷ তাঁকে কিন্তু খুঁজে বের করেছেন আরেকজন তরুণ প্রকাশক মাহবুবুর রহমান৷ তাঁর প্রকাশনা সংস্থার নাম ‘আদর্শ'৷ চমক হাসান পড়াশুনা করেছেন বুয়েটে৷ তিনি একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার৷ বুয়েটে পড়াশুনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পিএইচডি করেন৷ গণিতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা প্রচণ্ড৷ জড়িত ছিলেন গণিত অলিম্পিয়াডের সঙ্গে৷তিনি গণিত পড়াতেও পছন্দ করতেন৷ দেশে থাকতে পড়াতেনও৷ কিন্তু বিদেশে গিয়ে সে সুযোগ হাতছাড়া হয়৷ কিন্তু তিনি ছাড়বার পাত্র নন৷ কাজটি শুরু করেন ইউটিউবে৷ বিভিন্ন ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে গণিতের মজার বিষয়গুলো তুলে ধরেন৷ সাবসক্রাইবার বাড়ে৷ ফেসবুকে ফলোয়ার হয় ৫ লাখেরও বেশি৷

আদর্শ প্রকাশনীর মাহবুবুর রহমানের নজরে আসে বিষয়টি৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমার কাছে মনে হলো, তিনি সেলিব্রেটি কোনো অভিনেতা, লেখক বা খেলোয়াড় নন, তারপরও তাঁর কেন ফেসবুকে ৫ লাখের বেশি ফলোয়ার? আমি ফেসবুকে এবং তাঁর ইউটিউবের পোস্ট দেখতে শুরু করি৷ আমার কাছে মনে হলো তিনি যে পোস্ট দেন, তা মানুষকে, বিশেষ করে তরুণদের আকর্ষণ করে৷ গণিতের মতো বিষয়কে তিনি মানুষের কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যা মানুষকে আনন্দ দেয়৷ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করি৷ বই আকারে লিখতে বলি৷ কিছু পরামর্শও দেই৷ তিনি লিখলেন, তার প্রথম বই ‘গণিতের অঙ্গে: হাশি খুশি গণিত'৷ ভালো বিক্রি হলো৷ মানুষ পড়ল৷ তাঁর বইয়ের পাঠক গড়ে উঠছে৷ পাঠক তাঁর বই চাচ্ছেন৷''

অডিও শুনুন 08:53

‘প্রকাশক বলেন, ইউটিউব কনটেন্ট দিয়েই বই করা সম্ভব’

চমক হাসান বইমেলার জন্য ঢাকায় এসেছেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমার প্রকাশক আমাকে বলেন, আমার ইউটিউব ভিডিও'র কনটেন্ট দিয়েই একটা বই করা সম্ভব৷ ২০১৫ সালে ‘গণিতের অঙ্গে: হাশি খুশি গণিত' বইটি প্রকাশ হওয়ার পর অনলাইন বুক শপ রকমারিডটকমে  এটা বেস্ট সেলার হয়৷ আমার এই বইয়ে গণিত শেখানোর কোনো ব্যাপার নেই৷ গণিতের আনন্দকে ছড়িয়ে দেয়ার বিষয় আছে৷ গণিতের মজাগুলো আছে৷ এরপর আমার দ্বিতীয় বই ‘অঙ্ক ভাইয়া' প্রকাশ হয় ২০১৮ সালে৷ এটা গণিত প্রশ্নোত্তরের বই৷ আর এবার বই মেলায় আসছে ‘নিমিখ পানে: ক্যালকুলাসের পথ পরিভ্রমণ'৷ এখানেও ক্যালকুলাস শেখানোর কোনো বিষয় নেই৷ আছে ক্যালকুলাসের মজা-আনন্দ৷''

চমক হাসানের সৌভাগ্য যে, প্রকাশক তাঁকে খুঁজে নিয়েছেন৷ কিন্তু এমন সৌভাগ্য সব তরুণ লেখকের হয় না৷ তাঁদের প্রকাশক পেতে অনেক বেগ পেতে হয়৷ কেউ কেউ প্রতারিতও হন৷

চমক হাসানই বললেন, ‘‘আমাকে হয়তো প্রকাশক খুঁজে নিয়েছেন৷ কিন্তু আমি আমার অনেক বন্ধুকে জানি, যাঁরা ভালো লেখেন৷ কিন্তু তাঁদের বই প্রকাশের জন্য প্রকাশক পাওয় যায় না৷ কথা দিয়েও শেষ পর্যন্ত বই ছাপেন না৷ পান্ডুলিপি পড়ে থাকে৷ হতাশা বাড়ে৷''

তবে তিনি বলেন, ‘‘রবীন্দ্রনাথের মতো করে লেখার প্রয়োজন নেই৷ প্রয়োজন নেই জীবনানন্দ দাসের মতো করে লেখার৷ তাঁদের লেখা তাঁরা লিখে গেছেন৷ আমাকে নতুন একটি জায়গা করে নিতে হবে৷ আমার নিজস্বতা থাকতে হবে৷ ভিন্ন স্বাদ দিতে হবে পাঠকদের৷ আর প্রকাশকদেরও দায়িত্ব হলো তরুণদের ভালো লেখা খুঁজে নেয়া৷ সেটা তাঁরা পাণ্ডুলিপি আহ্বান করে করতে পারেন অথবা অন্য কোনোভাবে৷''

তরুণ প্রকাশক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘‘এখন সারা বছর যে বই প্রকাশ হয় তার মধ্যে আমার বিবেচনায় ৬০ ভাগই তরুণ লেখকের বই৷ তরুণরা লেখক হিসেবে এগিয়ে আসছেন৷ আমরা বিবেচনা করি তরুণের কোনো লেখা সাহিত্যে নতুন কী মাত্রা যোগ করবে৷ নতুন কী ভ্যালু অ্যাড করবে৷ সাহিত্যে কতটা অবদান রাখবে৷ আমি মনে করি, সেই বিবেচনা থেকে তরুণদের লেখা ছাপলে পুঁজি হারানোর আশঙ্কা নেই৷ পুঁজি উঠে আসবে৷ আমরা ঝুঁকি নেবো৷''

অডিও শুনুন 10:09

‘ভালো লেখাই যথেষ্ট নয়, বিপণনকৌশলও গুরুত্বপূর্ণ’

বাংলাদেশে এখনো গল্প, উপন্যাস ও কবিতারই প্রাধান্য৷ কিন্তু মাহবুবুর রহমান মনে করেন, ‘‘বিশ্ব ব্যবস্থা পাল্টে যাচ্ছে৷ মানুষের রুচি বদলাচ্ছে৷ এটা প্রবীণদের চেয়ে তরুণ লেখকরাই ধরতে পারেন ভালো৷ উন্নত বিশ্বে কিন্তু এখন নন-ফিকশন লেখার প্রাধান্য৷ আমাদের দেশেও সেটা শুরু হয়েছে৷ তরুণরা সেটা করছেন৷ এখন প্রকাশককে সেটা বুঝতে হবে৷ তিনি যদি সেটা না বোঝেন, তাহলে নতুন লেখক কীভাবে সৃষ্টি হবে৷ পাঠক কীভাবে সৃষ্টি হবে৷ এটাই তো প্রকাশকের কাজ৷''

এখন তরুণদের লেখা প্রকাশকের কাছে যাওয়ার আগেই পাঠকপ্রিয় হওয়ার সুযোগ আছে৷ পত্রিকার সাহিত্যপাতার মতো নয় যে অনেক দিন ঘুরে একটা লেখা ছাপাতে হবে৷ কোনো লেখক চাইলে অনলাইনে নিজের ব্লগে লিখতে পারেন৷ ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিজের লেখা প্রকাশ করতে পারেন৷ আর পাঠক যদি তাঁর লেখা পছন্দ করেন, তাহলে এখান থেকেও তাঁর লেখার বাজার গড়ে উঠতে পারে৷ প্রকাশকের দৃষ্টি পড়তে পারে৷ কিন্তু এমনটি তো সবার ক্ষেত্রে হয় না৷

তরুণ লেখক শেরিফ আল সায়ার বললেন, ‘‘তরুণ বা নবীন লেখকদের প্রতি প্রকাশকদের এক ধরনের অবহেলা বরাবরের মতোই আছে৷'' তাঁর এ পর্যন্ত দু'টি গল্পের বই এবং একটি গবেষণাগ্রন্থ বের হয়েছে৷ আর এবারের বইমেলায় আসছে তাঁর তৃতীয় গল্পের বই ‘খাঁচাবন্দি মানুষেরা'৷ এই বইয়ের গল্পগুলোতে তিনি এই সময়ের রাষ্ট্র, রাজনীতি, সম্পর্কের নানা দিক তুলে এনেছেন৷ সায়ার মনে করেন, ‘‘ভালো লেখাই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে বিপণনকৌশলও খুব গুরুত্বপূর্ণ৷'' তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘‘একজন তরুণ লেখকের বইয়ের ওপর বুক রিভিউয়ের আয়োজন করা হয়েছিল৷ পুরস্কার রাখা হয়েছিল ল্যাপটপ৷ তাতে তিনি ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন৷ অনেকে তাঁর বই পড়েছেন৷ পড়ে রিভিউ লিখেছেন৷ তিনি লেখেনও ভালো৷ সব মিলিয়ে তিনি ভালোই সাড়া পেয়েছেন৷ আবার  কেউ বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে অনেক ক্রিয়েটিভ৷ আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে তরুণেরা আলোচিত, তাঁদের বইও ভালো বিক্রি হয়৷ তবে ভালো লেখাটা হলো আসল কথা৷''

তরুণদের লেখা শেষ পর্যন্ত প্রকাশকরা নিলেও রয়্যালটি কী তারা পান? বই বিক্রির লাভের অংশ লেখকের ঘরে কি যায়? সায়ার বলেন, ‘‘রয়্যালটির সাথে বই বিক্রির বিষয়টি জড়িত৷ একটা স্মার্ট অ্যামাউন্টের বই বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশকরা রয়্যালটি দিতে চান না৷ তবে অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে, কোনো কোনো প্রকাশক দিচ্ছেন৷ আমার ক্ষেত্রে আমি স্পষ্ট৷ আমি প্রকাশককে বলি, আমার দুটি বই বিক্রি হলেও রয়্যালটি দিতে হবে৷''

অডিও শুনুন 04:57

‘তরুণ লেখকদের অবহেলা দেখেই একটি প্ল্যাটফর্ম গড়তে চেয়েছি’

তবে নিজের টাকায় বই ছাপানোর প্রবণতার কথাও জানালেন তরুণ লেখক শেরিফ আল সায়ার৷ তিনি বলেন, ‘‘এরকম অনেক লেখক আছেন, তাঁরা হয়তো জানেন না যে, প্রকাশক তাঁকে টাকা দেবেন৷ উল্টো বই ছাপার জন্য প্রকাশকই লেখকের কাছ থেকে টাকা নেন৷ এটা কোন বিবেচনায় হয়, আমি জানি না৷ তবে এই বিষয়টি লেখক, প্রকাশক উভয়ই গোপন রাখেন৷''

সায়ার বলেন, ‘‘তবে এখন অনেক প্রকাশকই তরুণদের বই ছাপতে আগ্রহী হচ্ছেন৷ আমার ধারণা, প্রকাশিত বইয়ের ৫০ ভাগই এখন তরুণ লেখকদের৷''

তরুণ লেখকদের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি তরুণ প্রকাশকও বাড়ছে৷ কেউ কেউ আছেন সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে চাকরি না করে প্রকাশনা শিল্পকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিচ্ছেন৷ সেরকমই একজন দেশ পাবলিকেশন্স-এর অচিন্ত্য চয়ন৷ তিনি বগুড়া থেকে ২০০৮ সালে ৩০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ঢাকায় আসেন প্রকাশক হতে৷ তিনি তখন লেখালেখিও করতেন৷ ২০১২ সালে তাঁর প্রকাশনা সংস্থা দাঁড়িয়ে যায়৷  এবার বই মেলার হিসাব ধরলে এ পর্যন্ত দেশ পাবলিকেশন্স থেকে ৫০০ বই বের হয়েছে, যার মধ্যে ৮০ ভাগই তরুণদের লেখা বই বলে জানান অচিন্ত্য চয়ন৷ কেন প্রকাশক হলেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘তরুণ লেখকদের প্রতি প্রকাশকদের অবহেলা, অপমান এবং প্রতারণা দেখেই আমি তাঁদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম গড়তে চেয়েছি৷ আর সেখান থেকেই আমি প্রকাশক হই৷ একটা আশ্রয় গড়ে তুলতে চাই৷ আমরা একটা স্লোগান নিয়ে কাজ করি দেশের গর্ব– তারুণ্য৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের এই প্রকাশনা থেকে অনেক তরুণের লেখা জনপ্রিয় হয়েছে৷ অনেক লেখক তৈরি হচ্ছে৷ আমরা মানকে অবশ্যই গুরুত্ব দেই৷ আর  মেধাবী তরুণ লেখকদের খুঁজে বের করি৷ আমরা লেখকদের নিয়ম মেনে শতকরা ১৫ ভাগ রয়্যালটি দেই৷''

এই তরুণ লেখক জানান, ‘‘গত ৩-৪ বছরে পরিস্থিতি বদলে গেছে৷ তরুণ প্রকাশকের সংখ্যা এখন প্রায় ২০ ভাগ৷'' তিনি বলেন, ‘‘তরুণ প্রকাশক বাড়ছে৷ তরুণ লেখক বাড়ছে৷ বাড়ছে তরুণ পাঠক, যাঁরা নতুন ধরনের  সাহিত্য পড়তে চান৷ ভিন্ন স্বাদের লেখা পছন্দ করেন৷'' তরুণ এই প্রকাশক আরো বলেন, ‘‘আমরা ব্যাংক লোন চাই৷ কিন্তু আমাদের নানা বাহানায় তা দেয়া হয় না৷ আমরা যদি আরো একটু বেশি পুঁজি পাই, তাহলে প্রকাশনা শিল্পকে সত্যিকারের শিল্পে রূপান্তরিত করতে পারব৷''

অডিও শুনুন 06:01

‘ব্লগ আমাকে সহায়তা করেছে’

 ‘সোনাইলের বনে' ছোট গল্পের বইয়ের জন্য জেমকন তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কার-২০১৮ পেয়েছেন তরুণ লেখক হামিম কামাল৷ তিনি মনে করেন, ‘‘লেখক হিসেবে জায়গা করে নেয়ার কোনো শর্টকাট পথ নেই৷ এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং এর শেষ নেই৷ তবে অগ্রজদের সহযোগিতা, প্রকাশকদের সহযোগিতা প্রয়োজন৷ যেমন, ২০০৬ সাল থেকে লেখালেখি করলেও আমার কাছে পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকরা লেখা চেয়েছেন ২০১১-১২ সালে৷ তবে এই সময়ে অগ্রজদের সান্নিধ্যে, চর্চার মাধ্যমে আমার  নিজের চিন্তা এবং ধারণা পরিশীলিত হয়েছে, আমার নিজস্ব একটা শৈলী তৈরি হয়েছে৷ এটা অব্যাহত থাকতে হয়৷''

তিনি বলেন, ‘‘ব্লগ আমাকে সহায়তা করেছে৷ ব্লগে লেখালেখি আমাকে একটা পরিচিতি এনে দেয়৷২০০৬ থেকে ২০১৩-র আগ পর্যন্ত ব্লগের একটা হাই টাইম গেছে৷ আমি একটি সাহিত্য পত্রিকায় কাজ করেছি৷ পরে তারাই প্রকাশনা সংস্থা দেয়৷ তখন আমার প্রকাশক পেয়ে যাই সহজেই৷ তবে লেখককে এক দীর্ঘ পথতো পাড়ি দিতেই হবে৷''

হামিম কামালের এর আগে দু'টি উপন্যাসও বের হয়েছে৷ তাঁর মতে, ‘‘প্রত্যেক লেখককে যেন ভিন্নভাবে চেনা যায়৷ প্রত্যেক মানুষের জীবন-দর্শন আলাদা৷ দেখার চোখ আলাদা৷ তাই লেখকেরও একটি আলাদা শৈলী তৈরি হয়ে যায়৷ পৃথিবীতে এত মানুষ, তার মধ্যে আমরা দশ জনকে তুলে আনছি কেন? ওই আলাদা শৈলীর কারণেই৷''

তাই তরুণ লেখক প্রকল্প যতটা না প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন তরুণ লেখকদের চিন্তার স্বাধীনতা, প্রকাশের স্বাধীনতা, ভাববার স্বাধীনতা৷ তাঁদের অবহেলা না করে এগিয়ে যাওয়ার পথ করে দিতে হবে৷ শেরিফ আল সায়ার বলেন, ‘‘তরুণদের সাহিত্যচর্চার সেই লিটল ম্যাগ আর আগের মতো নেই৷ সেটাকে যদি আরো একটু জায়গা দেয়া যায়, তাহলে ভালো হয়৷'' তরুণরাই চিন্তায় নতুনত্ব আনছে বলে মনে করেন প্রকাশক মাহবুবুর রহমান৷ তাঁরাই নতুন পাঠক তৈরি করছেন৷ নতুন পাঠকের মনের খোরাক দিচ্ছেন৷ ভাঙছেন সাহিত্যের প্রচলিত ধারা৷ আর তরুণ প্রকাশকরাই প্রধানত এগিয়ে আসছেন তরুণ লেখকদের জন্য৷ তবে এটা যেন কোনো শ্লোগান না হয়৷ এটা যেন কোনো ব্যবসা না হয়৷ প্রতিভা আর মেধাকেই শেষ পর্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে৷ তরুণদের দাবি সেটাই৷

পাঠক বইমেলায় তরুণদের লেখা নিয়ে আপনার ভাবনা কী? লিখুন নীচের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন