তারপরও নৌকা কেন হারে? | বিশ্ব | DW | 19.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

তারপরও নৌকা কেন হারে?

এবারের উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি৷ অংশ নেয়নি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্য কোনো শরিক৷ ২০ দলীয় জোটের শরিকরাও নির্বাচনে অংশ নেয়নি৷ তারপরও বিদ্রোহী আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চেপে ধরেছে আওয়ামী লীগকে৷ কেন এই পরিস্থিতি?

যদি মঙ্গলবারে শেষ পঞ্চম ধাপের নির্বাচনের কথা বলি, তাহলে ২০টি উপজেলার তিনটিতে আগেই নৌকা প্রার্থীরা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন৷ ১৭টি উপজেলায় নির্বাচন হয়েছে৷ ফলাফলে দেখা যায়, ৯টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন৷ আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছে আটটিতে৷ আর এই আটটিতে জয়ী হতেও তাদের প্রভাব বিস্তার করতে হয়েছে৷
চলতি বছরের ১০ মার্চে উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচন হয়৷ মোট পাঁচ ধাপে ৪৬৫টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হয়৷ এর মধ্যে ১১০টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ভোট হয়নি৷ প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন৷ তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের৷ জানা গেছে, এই উপজেলাগুলোতে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থীর বাইরে নানা উপায়ে প্রার্থী হতে দেয়া হয়নি৷ এই ১১০টি উপজেলা বাদ দিলে, বাকি ৩৫৫টি উপজেলার নির্বাচনের ফলাফলে ১৩৬টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন বলে নির্বাচন কমিশন এবং আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে৷ আর কোনো দলীয় সমর্থন সরাসরি নেই এরকম অন্ততঃ ৬০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী৷ এছাড়া জাতীয় পার্টির তিন এবং জেপির একজন জয়ী হয়েছেন৷ যে ৩৫৫ উপজেলায় ভোট হয়েছে তার ১৫৫টিতে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ৷ আর বিদ্রোহী এবং অন্যরা জয়ী হয়েছে ২০০ উপজেলায়৷ তাই বলে এত কিছুর পরও এবারের উপজেলা নির্বাচনে নৌকা হেরেছে, এটা বলাই যায়৷

অডিও শুনুন 01:35

আওয়ামী লীগ হেরেছে তাঁরা এটা মানতে চাইবেন না: ড. বদিউল আলম মজুমদার

সুশাসনের জন্য নাগরিকের(সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এখন হয়তো আওয়ামী লীগ বলবে, যাঁরা বিদ্রোহী তাঁরাতো আওয়ামী লীগেরই৷ তাই আওয়ামী লীগ হেরেছে তাঁরা এটা মানতে চাইবেন না৷ কিন্তু আমি বলবো, এই ধরনের একটি নির্বাচনেও ভোটাররা ক্ষমতাসীনদের প্রত্যাখ্যান করেছে৷ তারা বিদ্রোহী প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে, কিন্তু আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের ভোট দেয়নি৷ এটাই প্রত্যাখ্যানের প্রমাণ৷ আর এটা করেছে তারা হতাশা থেকে৷ ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার জবাব দিয়েছে৷''

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয়ভাবে ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপেরনির্বাচন হওয়ার পর ফলাফল বিশ্লেষণ করেছে৷আর তাদের বিশ্লেষণে প্রার্থী বাছাইয়ের দুর্বলাতাকেই হারের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ এর বাইরে স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগে কোন্দল, সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত প্রার্থীর প্রতি ঝোঁক এবং বহিরাগতদের অনুপ্রবেশকে দায়ী করা হয়েছে৷ বেশ কিছু জায়গায় আওয়ামী লীগ দলীয় কোন্দলের কারণে কাউকেই নৌকা প্রতীক দেয়নি৷ আবার বিএনপি নির্বাচনে না থাকায় প্রথম ধাপের নির্বাচনের পর বিদ্রোহীদের প্রতি আর কড়া মনোভাব পোষণ করেনি দলটি৷

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মঙ্গলবার পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী৷ আর এই উপজেলায় ভোটের ক্ষেত্রে কোনো অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা কাজে লাগেনি৷ ওই উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুল হক খান মজনু বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ যাকে মনোনয়ন দিয়েছিলো, সে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে এসেছে৷ আর যিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জয়ী হয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান৷ তাই যখন সবাই ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন, তখন বিদ্রোহী প্রার্থীকেই ভোট দিয়েছে৷'' তিনি বলেন, ‘‘এটা শুধু আমাদের উপজেলায়ই নয়, সারা দেশেই আওয়ামী লীগ নয় এরকম অনেকেই আওয়ামী লীগের মনোননয়ন পেয়েছেন৷''
এবারের উপজেলা নির্বাচনে গড়ে ৪০ ভাগ ভোট পড়েছে বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন৷ তবে বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, বাস্তবে এরচেয়ে আরো অনেক কম ভোট পড়েছে৷ তিনি বলেন, ‘‘মানুষ ভোট দিতে পারে না৷ তাই ভোটের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে৷ উপজেলা নির্বাচনে তা প্রমাণ হয়েছে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন