তারকা হাতি মালি নিয়ে উদ্বেগ-বিতর্ক | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 21.10.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

তারকা হাতি মালি নিয়ে উদ্বেগ-বিতর্ক

তারকা হাতি মালি’কে কেন্দ্র করে প্রাণী অধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন পপ তারকা, নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক, যাজক এবং সমাজকর্মীরাও৷ ফলে এখন শুধু মালি নয়, বরং ম্যানিলা চিড়িয়াখানার সকল প্রাণীর যত্ন ও অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷

৩৮ বছর বয়সি তারকা হাতি মালি৷ সে যখন মাত্র তিন বছরের শিশু তখন অস্ট্রেলিয়া থেকে তাকে নিয়ে আসা হয় ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায়৷ সেই থেকে অপরিসর লোহার খাঁচায় সে পার করেছে ৩৫টি বছর৷ এখনও শিশুদের হাত থেকে বাদাম ও অন্যান্য খাবার নিয়ে এবং অঙ্গভঙ্গি করে দর্শনার্থীদের আনন্দ দিয়ে যাচ্ছে মালি৷

তবে মালির বয়সের ভার এবং মন ও স্বাস্থ্যের দিকে প্রথম দৃষ্টি পড়ে ম্যানিলা ভিত্তিক ‘প্রাণীর প্রতি নৈতিক যত্নবান মানুষ' নামের সংস্থাটির৷ সংগঠনটির ইংরেজি নামের সংক্ষিপ্তরূপ ‘পেটা'৷ এই সংস্থার কর্মীরা সাত বছর আগেই দাবি তোলেন মালি'কে চিড়িয়াখানা থেকে বের করে থাইল্যান্ডের অভয়ারণ্যে পাঠানোর৷ কারণ এতোদিন ধরে সঙ্গী ছাড়াই একাকী দিন কাটাতে হয়েছে মালিকে৷ ফলে মালির যৌবনের সুন্দর সময়গুলো মলিনতায় ভরে ছিল৷ এখনও যদি সে তার প্রজাতির সঙ্গীদের সাথে সময় কাটাতে না পায়, তাহলে হয়তো একদিন সে পাগল হয়ে যাবে - এমন আশঙ্কা অধিকার কর্মীদের৷

পেটা'র প্রচার ব্যবস্থাপক রোচে রিগোদোন বলেন, ‘‘মালি অবশ্যই অসুখী৷ শারীরিক এবং মানসিক উভয়দিক থেকেই তাকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে৷'' তবে এখন মালির যত্ন এবং অধিকার নিয়ে শুধু অধিকার কর্মীরাই নয়, তাঁদের সাথে কণ্ঠ মিলিয়েছেন বিশ্বের নামিদামি অনেকেই৷ ব্রিটিশ পপ তারকা মোরিসি গত মে মাসে ম্যানিলায় সংগীত আসরে গান গাইতে গিয়ে মালির অবস্থা দেখে সেদেশের প্রেসিডেন্ট বেনিনো আকুইনো'কে চিঠিতে লিখেন, ‘‘মালিকে নিষ্ঠুরভাবে সকল মৌলিক তাড়না থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তার নিজেকে আবিষ্কার করার সুযোগ হয়নি এবং এখন সে পাগল হয়ে যাওয়ার দশায় রয়েছে৷''

ফিলিপাইনের প্রভাবশালী ক্যাথলিক বিশপ কনফারেন্সের প্রধান আর্চবিশপ খোসে পালমা একটি চিঠিতে আহ্বান জানিয়েছেন মালিকে থাইল্যান্ডে পাঠানোর জন্য৷ এছাড়া তিনি স্থানীয় মডেল এবং অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে একটি গোষ্ঠী তৈরি করেছেন৷ মালির অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে টুইট করেছেন এই গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য ইসাবেল রোসেস এবং চিন-চিন গুতিয়ের্রেজ এর মতো তারকারা৷

মালির অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাকে অভয়ারণ্যে পাঠানোর জন্য দেশটির সরকারের কাছে আরো চিঠি লিখেছেন ২০০৩ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী জনপ্রিয় লেখক জে এম কোটজে এবং বিখ্যাত প্রাণী অধিকার সংগঠক জেন গুডঅল৷ এমন স্বনামধন্য মানুষদের আন্দোলনের ফলও কিছুটা পাওয়া গেছে৷ তা হলো, প্রেসিডেন্ট আকুইনো পশুসম্পদ দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন মালিকে থাইল্যান্ডে পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য৷ তবে এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি৷

এদিকে, স্থানীয় অধিকার কর্মীরা বলছেন, ম্যানিলা চিড়িয়াখানায় শুধু মালি একা সমস্যায় নেই৷ বরং সেখানে পশুদের যত্ন ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে রয়েছে আরো অনেক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা৷ কারণ ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই চিড়িয়াখানাটিতে সেই অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় আগে তৈরি অপরিসর লোহার খাঁচায় রাখা হয়েছে সিংহ, বাঘ, ভাল্লুক, চিতা, জিরাফ, শিম্পাঞ্জি এবং বাইসনগুলোকে৷ এদের অনেকেই বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে শেষ পর্যন্ত সেখানেই মারা গেছে৷ কিন্তু অর্থের অভাবে সেসব প্রাণীকে অভয়ারণ্যে ছেড়ে দিয়ে নতুন প্রাণী নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়নি৷ উল্লেখ্য, বছরে সাড়ে নয় লাখ দর্শনার্থী ম্যানিলা চিড়িয়াখানা যান৷ সেখানে রয়েছে ১০২ প্রজাতির ৭১৭টি পশু৷

এএইচ / আরআই (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন