তামিমের ব্যাট চেয়ে নিয়ে খেলেন মাশরাফী | বিশ্ব | DW | 05.05.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ক্রিকেট

তামিমের ব্যাট চেয়ে নিয়ে খেলেন মাশরাফী

ঘরবন্দী এ সময়ে তামিম ইকবালের সঙ্গে অনলাইন আড্ডায় ক্রিকেট জীবনের নানা ঘটনার কথা বলেছেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা৷ ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করে খেলায় ফেরা বা বিপদে দলকে আগলে রাখার স্মৃতিচারণ ছাড়াও দিয়েছেন নানা পরামর্শ৷

আড্ডার শুরু জাতীয় দলের সাবেক লেফ্টহ্যান্ড স্পিনার মঞ্জুরুল রানাকে স্মরণ করে৷ ২০০৭ সালে খুলনায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় সম্ভাবনাময় এই ক্রিকেটারের জীবনপ্রদীপ নিভে যায়৷

ইনজুরির কারণে মাশরাফীর ক্যারিয়ারও এভাবে অকালে শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল৷ দুই পায়ে মোট সাতটি অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা তাকে ‘নিজের ভালোর জন্য’ খেলা ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন৷ কিন্তু নিজেকে শক্ত রেখে বার বার ফিরে আসেন তিনি৷

মাশরাফী জানান, সাইড স্ট্রেইনের চিকিৎসা করাতে ভারতে গিয়ে তিনি প্রথম তাঁর বাম পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার কথা জানতে পারেন৷

‘‘লিগামেন্ট জিনিসটা কী তখন আমি সেটাই জানতাম না৷ যা হোক, ডাক্তাররা বললেন অপারেশন করাতে হবে৷ ছয় থেকে আট ‍মাস খেলতে পারবো না৷ আমি অপারেশন করে বাড়ি ফিরলাম৷

‘‘চট্টগ্রামে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে মার্ক বুচারের ক্যাচ ধরতে ঝাঁপ দেই এবং আবারও ইনজুরিতে পড়ি৷ কোচ ডেভ হোয়াটমোর চিকিৎসার জন্য আমাকে অস্ট্রেলিয়ায় ডেভিড ইয়াংয়ের কাছে পাঠান৷ উনি দেখে বললেন, এবার ডান পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়েছে এবং আগেরবার বাম পায়ে যে অপারেশন হয়েছিল সেটা খুব ভুল ছিল৷ তিনি দুই পায়ে পরপর তিনটা অপারেশন করেন৷ দুই মাস সেখানে থাকতে হয়েছিল৷’’ 

একসঙ্গে তিনটি অপারেশনের ধাক্কা কিভাবে সামলে ছিলেন? তামিমের এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এ অধিনায়ক বলেন, ‘‘তখন বয়স কম ছিল৷ তাই দ্রুত ধকল কাটিয়ে উঠেছিলাম৷ তবে ২০০৮ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে হওয়া অপারেশন তিনটিতে আমি খুব ভেঙ্গে পড়েছিলাম৷’’

খেলতে গিয়ে হাত ভেঙ্গে যাওয়ায় তামিমকেও অস্ত্রোপচারের জন্য ডেভিড ইয়াংয়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল৷ তামিমের কাছে মাশরাফী তখনও ক্রিকেট খেলছেন জানতে পেরে এই শল্য চিকিৎসক খুব অবাক হয়েছিলেন৷

তামিমের মুখে, তিনি আমাকে বলেছিলেন ওনার চিকিৎসক জীবনে আর কোনো ঘটনা ওনাকে এতটা অবাক করেনি৷

মাশরাফী বলেন, ‘‘ডেভিড আমাকে অপারেশন টেবিলেই বলেছিলেন, তুমি ক্রিকেটের সঙ্গে থাকো কিন্তু খেলাটা ছেড়ে দাও; আর সম্ভব না৷ আমি বলেছিলাম, এই প্রথম আমি অস্ট্রেলিয়ায় এসে আপসেট হলাম৷ বলি, তুমি অপারেশন করো, বাকিটা আমি বুঝে নিব৷’’

গত মার্চে জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে ওয়ান ডে সিরিজে অধিনায়ক হিসেবে নিজের শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন মাশরাফী৷ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ান ডে অধিনায়ক এখন তামিম৷

তামিম বলেন, অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফী সব সময় দলকে আগলে রাখতেন৷

Cricket Bangladesch Mashrafe Bin Mortaza

আড্ডায় এই ছবির পেছনের গল্পও উঠে এসেছে

একটি ঘটনার স্মৃতিচারণে তামিম বলেন, ‘‘একবার আমার খুব বাজে সময় যাচ্ছিল৷ আমি আউট হয়ে ফেরার সময় একজন বললো ‘তামিমকে পরের ম্যাচে রাখা উচিত হবে না'৷ ভাই আপনি পাশেই দাঁড়ানো ছিলেন৷ উত্তরে বলেছিলেন, ‘সেটা হলে আমি পদত্যাগ করবো’৷’’

এ প্রসঙ্গে মাশরাফী বলেন, ‘‘অধিনায়ক হিসেবে সব সময় দলকে আগলে রাখতে হয়৷ দলের কাছে তুই যখন এই আস্থার জায়গাটা তৈরি করতে পারবি তখন সবাই তোর জন্য জান দিয়ে খেলবে৷ নেতৃত্বের গুণ থাকার পরও তুই অধিনায়ক হতে চাইতি না৷ ফলে এর আগে তুই ভালো করতে পারিসনি৷ তবে এবার যেহেতু দায়িত্ব মন থেকে নিয়েছিস আমি জানি তুই ভালো করবি৷’’

তামিম আড্ডায় জানান, খেলা নিয়ে মাশরাফীর বেশ কিছু ভবিষ্যতবাণী মিলে যাওয়ার কথা৷ কিভাবে মাশরাফী এটা করতেন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘অনেকে অনেক কথা বলে, তোকেও বলবে৷ তবে সব সময় নিজের মন যা বলে বা ‘গাট ফিলিং’ যেটা বলে সেটা শুনবি৷ আমিও তাই করতাম৷ তাতে হেরে গেলেও রাতে ঘুমাতে পারতাম৷ মনে হতো, যা করেছি নিজের বিচেনায় করেছি৷’’

দলীয় ‍নানা বিষয়ে তামিমের সঙ্গে মাশরাফীর প্রায়ই বিরোধ হত৷ এরকম একবার কথা কাটাকাটির পর মাশরাফী বাথরুমের দেয়ালে লিখে রেখেছিলেন ‘তামিম ছয় মাস পর পরবর্তী শতকের দেখা পাবে’৷ ঠিক ছয় মাস তিনদিন পর পরবর্তী শতকের দেখা পেয়েছিলেন তামিম৷

তামিম জানান, এভাবে ভালো খেলার বা ‘তুই সেঞ্চুরি করবি’ বলে তাঁর কাছ থেকে ব্যাট আদায় করতেন মাশরাফী৷

তাঁর ব্যাট নিয়ে আগ্রহের কারণ জানতে চাইলে মাশরাফী বলেন, ‘‘তোর ব্যাট অনেক উন্নত৷ এক একটা ৫০ হাজার টাকা দাম৷ আমি ভাবতাম, এত টাকা দিয়ে ব্যাট কেনার দরকার কী, তোরটা নিয়ে খেললেই হয়৷ আমার আসালে মাইন্ড সেট হয়ে গিয়েছিল, তোর ব্যাট দিয়েই খেলতে হবে.....৷’’

এভাবে তাদের আড্ডায় একে একে সাকিব আল-হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, ছাড়াও উঠে আসে মুস্তাফিজুর রহমান, লিটন দাস, সৌম্য সরকারের নাম৷ প্রত্যেককে এক একজন ম্যাচ উইনার বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন মাশরাফী, তামিমকে বলেছেন, তাদের প্রটেক্ট করতে৷

দেশের সবচেয়ে সফল ক্যাপ্টেন বলেন, সাকিব বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার, চার নম্বরে ব্যাট করতে নামাদের দলে সর্বোচ্চ ব্যাটিং গড় মুশফিকের৷ দলের প্রয়োজনে ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নামা মাহমুদউল্লাহর আত্মত্যাগের কথাও বলেন তিনি৷ বলেন, ‘‘রিয়াদ অনায়াসে চার বা পাঁচ নম্বরে ব্যাট করার যোগ্য এবং করতে চায়, সেটা হলে হয়তো ওর নামের পাশে আরো রান যোগ হতো৷ কিন্তু টেলএন্ডে ভালো ব্যাটসম্যান না থাকায় দলের ভারসাম্য রক্ষায় ও ছয় নম্বরে নামে৷’’

তামিমের ভাই নাফিস ইকবালের সঙ্গে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট এবং জাতীয় দলে খেলেছেন মাশরাফী৷ দুজনের মধ্যে খুব ভালো বন্ধুত্ব৷ অমিত সম্ভাবনা নিয়ে জাতীয় দলে এলেও নাফিস শেষ পর্যন্ত জ্বলে উঠতে পারেননি৷ ১১ টেস্ট আর ১৬ ওয়ানডে তে থেমে যায় তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার৷ দলে জায়গা পান তাঁর ভাই তামিম৷

অল্প বয়সে বাবা হারা ভাই-বোনকে আগলে রাখতে নাফিসের আত্মত্যাগের কথা এই আড্ডায় তামিমকে শোনান মাশরাফী৷ বলেন, ‘‘নাফিস জাতীয় দলের সঙ্গে বিভিন্ন সিরিজ বা সফরে দৈনিক ভাতা থেকে টাকা বাঁচাতেন ভাইয়ের জন্য৷

‘‘তোর জন্য তোর ভাই যা করেছে, আমরা জানি৷ মনে আছে, এক পেন্সের বার্গার খেত নাফিস৷ আমি একদিন ওকে বলেছিলাম, ‘তুই যদি শরীরে না দিস (যথেষ্ট খাবার), তাহলে বাঁচবি কীভাবে আর খেলবি কীভাবে৷’ পরে বুঝেছি, ও আসলে তোর জন্যই সব করত৷ টাকা বাঁচাত তোর জন্য, তুই যেন একটা ভালো ব্যাট দিয়ে খেলতে পারিস৷’’

এভাবেই সোমবার রাতে ফেসবুক লাইভে ঘণ্টাখানেক প্রাণবন্ত আড্ডায় নিজেদের অনেক অজানা কথা জানান তামিম ও মাশরাফী৷

এসএনএল/কেএম

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন