তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের ৫ বছরেও মেলেনি ক্ষতিপূরণ | বিশ্ব | DW | 25.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের ৫ বছরেও মেলেনি ক্ষতিপূরণ

শ্রমিক সংগঠনগুলোর অব্যাহত আন্দোলন, দেশি-বিদেশি চাপ সত্ত্বেও ক্ষতিপূরণ পাননি তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থরা৷ ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১১ জন শ্রমিক মারা যান, দগ্ধ ও আহত হন ১০৪ জন৷

সেই ঘটনায় তাজরীনের মালিক দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তারসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়৷ মামলার বিচার এখনো ঝুলে আছে৷ গত দুই বছর আগে এই মামলার বিচার শুরু হয়েছে৷ এ পর্যন্ত আদালতে মাত্র ৭ জন আসামীকে হাজির করা গেছে৷ ফলে মামলাটির বিচারকাজ কোনভাবেই এগুচ্ছে না, শুধু সময় পার হচ্ছে৷ 

অডিও শুনুন 01:58
এখন লাইভ
01:58 মিনিট

‘‘এগুলো বলতে বলতে আমরা ক্লান্ত’’

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরাতো সেই ঘটনার পর থেকেই আন্দোলন করে আসছি৷ কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি৷ অর্থের অভাবে তাদের চিকিৎসাও হচ্ছে না৷ অনেকেই জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে গেছেন৷ বহু শ্রমিক ওই ঘটনার পর থেকে কোনো কাজই করতে পারছেন না৷''

তিনি বলেন, ‘‘এগুলো বলতে বলতে আমরা ক্লান্ত৷ আর মামলার কথা কি বলব? রাষ্ট্র তো তাজরীনের মালিককে ছাড় দিতেই যেন বসে আছে৷ সাক্ষীদের আনা যাচ্ছে না৷ কেনো আনা যায় না, এ তো আপনারাও বোঝেন৷ কিভাবে তাকে সুবিধা দেয়া যায়, সেই চেষ্টাই হচ্ছে৷''

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে সিআইডির পরিদর্শক এ কে এম মহসীনুজ্জামান খান ২০১৩ সালে ১৯ ডিসেম্বর ১৩ জনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগপত্র দাখিল করেন, সেখানে বলা হয় - ভবনটির নকশায় ত্রুটি ও জরুরি নির্গমনের পথ ছিল না এবং আগুন লাগার পর শ্রমিকরা বাইরে বের হতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীরা কলাপসিবল গেট লাগিয়ে দিয়েছিলেন৷ এরপর ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ১৩ আসামির বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়৷ কিন্তু সাক্ষীর অভাবে ঝুলে আছে মামলাটি৷

অডিও শুনুন 04:24
এখন লাইভ
04:24 মিনিট

‘‘আদালতে সাক্ষী আনার দায়িত্ব পুলিশের’’

পুলিশ বলছে, সাক্ষীদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না৷ সাক্ষী হাজির করতে না পারায় আদালতের ভর্ৎসনাও শুনেছেন রাষ্ট্রপরে কৌঁসুলিরা৷ আত্মসমর্থনে তারা বলছেন, মামলাটিতে অধিকাংশ সাক্ষী শ্রমিক, আগের ঠিকানায় তাদের পাওয়া যাচ্ছে না৷

মামলাটিতে আগামী ধার্য তারিখ ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি৷ সেদিন অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ১৬ থেকে ২১ নম্বর ক্রমিকের সাক্ষীদের হাজির করাতে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপারের মাধ্যমে পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে৷ আদালতকর্মীরা বলছেন, তদন্ত কর্মকর্তা বেশিরভাগ সাক্ষীর স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ না করায় অস্থায়ী ঠিকানায় আদালতের পাঠানো পরোয়ানা ফেরত আসছে৷ বেশিরভাগ সাক্ষীই পোশাক শ্রমিক৷ তারা আগের ঠিকানায় থাকেন না৷

মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মহানগর দায়েরা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আদালতে সাক্ষী আনার দায়িত্ব পুলিশের৷ পুলিশ যদি সাক্ষীদের আনতে না পারে তাহলে প্রসিকিউটর কি করবে? আদালত আমাদের ভর্ৎসনা করলে তো কোনো লাভ নেই৷ পুলিশতো অনেক সময় সমন তামিলের রিপোর্টও আদালতে দেন না৷ ফলে আমরা অসহায়৷'' 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও