তাইওয়ানে মার্কিন মন্ত্রীর সফরে চীনের প্রতিক্রিয়া | বিশ্ব | DW | 10.08.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব রাজনীতি

তাইওয়ানে মার্কিন মন্ত্রীর সফরে চীনের প্রতিক্রিয়া

সোমবার মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিবিড় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ঘোষণা করেছেন৷ এই পদক্ষেপের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে বেইজিং৷

অ্যামেরিকা দলমতনির্বিশেষে এতকাল ‘এক চীন নীতি’ মেনে চললেও ট্রাম্প প্রশাসন সেই ধারাবাহিকতার মূলে আঘাত করলো৷ পরিকল্পনা অনুযায়ী তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী৷ কোনো রাখঢাক না করে প্রকাশ্যে এমন সাক্ষাতের ফলে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সঙ্গে সম্পর্কে আরও চিড় ধরতে পারে, এমন ঝুঁকির পরোয়া করলেন না ট্রাম্প৷

সোমবার তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেতে মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালেক্স আজার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গণতান্ত্রিক তাইওয়ানের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের জোরালো সমর্থন জানান৷ সেইসঙ্গে করোনা ভাইরাস মহামারির মোকাবিলা করতে তাইওয়ানের পদক্ষেপকে বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে প্রশংসা করেন তিনি৷ আজার তাইওয়ানের খোলামেলা, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক সমাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন৷ তিনি তাইওয়ানের স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন৷

১৯৭৯ সালে তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ত্যাগ করার পর এই প্রথম কোনো মার্কিন মন্ত্রী এত বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে সে দেশ সফর করলেন৷ ২০১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন পরিবেশমন্ত্রী তাইওয়ান সফর করলেও ট্রাম্প প্রশাসন অন্তত বিষয়টিকে সে ভাবেই তুলে ধরছে৷ অর্থনীতি ও গণস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতার ঘোষণা করেন আজার৷ তিনি বলেন, মহামারি মোকাবিলা ছাড়াও টিকা ও ওষুধ নিয়ে গবেষণা ও উৎপাদনের ক্ষেত্রেও একসঙ্গে কাজ করবে দুই দেশ৷

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই করোনো সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন৷ তিনি বলেন, চীনের আপত্তি সত্ত্বেও অ্যামেরিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সভায় অংশ নিতে সাহায্য করায় তাইওয়ানের খুব সুবিধা হয়েছে৷ সাই মনে করেন, স্বাস্থ্যের অধিকারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ একেবারেই কাম্য নয়৷ তাঁর মতে, চীন যেভাবে ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেমব্লিতে তাইওয়ানের অংশগ্রহণ প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা স্বাস্থ্যর উপর সর্বজনীন অধিকারের পরিপন্থি৷

বলা বাহুল্য, চীন তাইওয়ানের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের বর্তমান নীতির কড়া সমালোচনা করেছে৷ বাণিজ্য, সামরিক ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের লাগাতার অবনতির মাঝে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাইপের সখ্যতা বেইজিং মোটেই পছন্দ করছে না৷ মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তাইওয়ান সফরকে চীন ‘নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা’-র প্রতি হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে৷

অ্যামেরিকার আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে৷ সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন করোনা সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতা ঢাকতে চীনের প্রতি কড়া সমালোচনার আশ্রয় নিচ্ছে৷ তবে এ ক্ষেত্রে ‘লাল সীমা’ অতিক্রম করতে প্রস্তুত নয়৷ তাই তাইপে শহরে মার্কিন প্রতিনিধি দফতর হিসেবে পরিচিত ‘অ্যামেরিকান ইনস্টিটিউ’-এর প্রাক্তন প্রধান ডগলাস পাল জানিয়েছেন, যে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত কোনো মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তা তাইওয়ান সফর করছেন না৷ এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মূল্যায়ন অনুযায়ী আসন্ন নির্বাচনে চীন ট্রাম্পের পরাজয় নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালাচ্ছে৷ তবে ট্রাম্পের বদলে জো বাইডেন ক্ষমতায় এলেও চীনের সঙ্গে বর্তমান শীতল সম্পর্ক রাতারাতি বদলে যাবে কিনা, সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে৷

এসবি/কেএম (রয়টার্স, এএফপি)

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন