তরুণদের বিনোদনহীন নগর ঢাকা | বিশ্ব | DW | 18.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

তরুণদের বিনোদনহীন নগর ঢাকা

ঢাকায় আসলে কী কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা আছে? ব্যবস্থা যদি থাকে, তবে কম-বেশি নিয়ে আলোচনা করা যায়৷ না থাকলে ‘কম' নির্ণয় হবে কিসের ভিত্তিতে?

সবাই জানি,একটি দেশের প্রধান শক্তি তরুণ প্রজন্ম৷ তাদের সঠিক বিকাশের জন্যে বিনোদন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়৷ অথচ রাজধানী ঢাকায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির বিষ্ময়কর রকমের অনুপস্থিতি৷ সে বিষয়ে সংক্ষেপে কিছু কথা৷

১. মেধা বিকাশের সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতা বা সুস্থতার সঙ্গে বেড়ে ওঠা অপরিহার্য৷ তরুণরা কতটা খেলাধুলার সুযোগ পান, তার উপর নির্ভর করে শারীরিক-মানসিক সুস্থতা৷ ঢাকা শহরের তরুণদের খেলার মাঠ নেই৷ এক সময় যেগুলো খেলার মাঠ ছিল, সেগুলো দখল হয়ে গেছে৷ কোনো কোনো মাঠে উঠেছে বড় বড় ভবন৷

বিশ পঁচিশ বছর আগেও ঢাকা শহরে অনেকগুলো পুকুর ছিল৷ বিশেষ করে পুরনো ঢাকায় অত্যন্ত মানসম্পন্ন পুকুর ছিল৷ সেগুলোতে গোসল-সাঁতার কাটা যেত৷ কিশোর-তরুণদের সাঁতারে মুখরিত হয়ে থাকতো পুকুরগুলো৷ পুকুরগুলো ভরাট করে ভবন তৈরি করা হয়েছে৷ সাঁতারও যে বিনোদন, তা আমাদের ‘উন্নয়নবিদদের' বোধের মধ্যেই নেই৷

বুড়িগঙ্গার তীরের ঢাকার চারপাশেই নদী৷ অথচ একটি নদীতেও গোসল বা সাঁতার কাটা যায় না৷ পানি এতটাই বিষাক্ত হয়ে গেছে যে নদীগুলোর কাছাকাছি গেলেও দুর্গন্ধে দম আটকে আসার উপক্রম হয়৷ নদীতে ঘুরতে যাওয়ার মত পরিবেশ নেই৷

২. ঢাকা শহরের ভেতরে রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, চন্দ্রিমা উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেনের মত বেশ কয়েকটি পার্ক এখনো আছে৷ রমনা পার্কে সকাল-বিকেল যাওয়া যায়৷ সন্ধ্যা-রাতের রমনা পার্ক সন্ত্রাস-অপকর্মের স্বর্গ৷ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা চন্দ্রিমা উদ্যানের পরিবেশও তরুণ-তরুণীদের সময় কাটানোর মত নয়৷ সন্ধ্যার পরেতো নয়ই৷ বোটানিক্যাল গার্ডেনে যাওয়া মানেই বিপদে পড়া৷ কথাগুলো বলছি একারণে যে, তরুণ-তরুণীরা একটি পার্কে গিয়ে বসে কথা বলবে, এমন কোনো পার্ক রাজধানী ঢাকায় নেই৷

৩. শুধু বাইরে নয়, ঘরোয়া বিনোদনেরও বড় আকাল ঢাকা শহরে৷ একসময় পাড়ায় পাড়ায় লাইব্রেরি ছিল৷ পড়াশোনা ছাড়াও লাইব্রেরিকে কেন্দ্র করে নানা রকমের সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছিল৷ এখন লাইব্রেরি নেই৷ নেই কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড৷ এলাকায় এলাকায় কমিউনিটি সেন্টার আগের চেয়ে বেড়েছে৷ কিন্তু সেখানে তরুণ-তরুণীদের সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি৷ কমিউনিটি সেন্টারগুলো হয়ে গেছে মানুষের বিরক্তির কারণ৷ বিয়ে বা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান উপলক্ষে সারা রাত বিকট আওয়াজে হিন্দি গান বাজে কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে৷

Bangladesh Journalist Golam Mortoza (Golam Mortoza)

গোলাম মোর্তজা, সাংবাদিক

৪. ঢাকা নগরের তরুণ-তরুণীরা এক ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে উঠছে৷ তারা ফুটবল-ক্রিকেট খেলে স্ক্রিনে৷ চোখ সরায় না স্মার্টফোন থেকে৷ তরুণদের একটা অংশ সারারাত জেগে ফোনে কথা বলে৷ সারাদিন বা দিনের অর্ধেকটা সময় ঘুমায়৷ তরুণ-তরুণীদের বাইরে বের হয়ে কোথাও যাওয়া মানে রেস্টুরেন্টে যাওয়া৷ রেস্টুরেন্টে গিয়ে আলো-আঁধারীতে বসে খাওয়াটাই প্রধান, সঙ্গে দু'একটি কথা৷ ঢাকা শহরের মত এত বিনোদনের অভাবহীন কোনো রাজধানী পৃথিবীতে আছে কিনা সন্দেহ৷ বসবাসের জন্যে নিকৃষ্টতম শহরের তালিকায় ঢাকা দ্বিতীয়৷ তরণ-তরণীদের বিনোদনহীন শহর হিসেবে তালিকা করা হলে, ঢাকার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে৷

৫. বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকার ভয়ঙ্কর কুফলের শিকার হচ্ছে ঢাকার তরুণ-তরুণীরা৷ একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এককোটির বেশি তরুণ জীবন সম্পর্কে হতাশ৷ এদের একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে৷ বাংলাদেশের তরুণরা যে মাদকের প্রতি আসক্ত হচ্ছে, তা সম্ভবত বিরল নজির তৈরি করছে৷ সব মাদকের কম-বেশি ক্ষতি হয়৷ কিন্তু ফেনসিডিল বা ইয়াবার মত ক্ষতিকর মাদকে পৃথিবীর খুব কম দেশের তরুণ-তরুণীরাই আসক্ত৷

বাংলাদেশে এই মাদক চোরাকারবারিরা রাষ্ট্রীয় আশ্রয়-প্রশ্রয় পায়৷ তরুণদের কথা ভাবার মত কোনো মানুষই যেন সমাজে নেই৷

৬. পৃথিবীর প্রায় সব দেশে একটি সেন্টার থাকে, বিকেল-সন্ধ্যা-রাতে তরুণরা সেখানে সময় কাটাতে পারে৷ ঢাকা নগরে এমন কোনো সেন্টার নেই৷ ছোট আকারে হলেও টিএসসি ছিল তেমন একটি জায়গা৷ বিশ ত্রিশটি সাংস্কৃতিক সংগঠন সেখানে সক্রিয় থাকতো৷ কিন্তু পর্যায়ক্রমে সেই কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷

দেশে ভালো সিনেমা তৈরি হয় না বললেই চলে৷ সিনেমা হলগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে৷ কয়েকটি সিনেপ্লেক্স তৈরি হয়েছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম৷ সবকিছু মিলিয়ে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, নগর ঢাকায় তরুণদের বিনোদনের সুবিধা অত্যন্ত অপ্রতুল৷ সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয়, তরুণদের বিনোদনের এই বিষয়টি দেশ পরিচালনাকারীদের এজেন্ডার মধ্যেই নেই৷

ঢাকায় কতটা বিনোদনের সুযোগ আছে বলে আপনার মনে হয়? লিখুন নীচের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন