তদন্তের অপেক্ষায় যুদ্ধাপরাধের ৬৭০ অভিযোগ | বিশ্ব | DW | 31.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

তদন্তের অপেক্ষায় যুদ্ধাপরাধের ৬৭০ অভিযোগ

মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এখন যে মামলা রয়েছে তার নিস্পত্তি হতে কমপক্ষে সাত-আট বছর লাগবে৷ নয় বছরে ট্রাইবুন্যাল ৪১টি মামলার রায় দিয়েছে৷ কিন্তু আপিল ও রিভিউ শেষে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে আটটি মামলার৷

আপিল বিভাগে বৃহস্পতিবার জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার মধ্য দিয়ে বলা যায় অষ্টম মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো৷ যদিও তিনি এখন রিভিউ এবং রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ পাবেন৷

এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে ছয়টি মামলা৷ এর মধ্যে জামায়াতের সাবেক আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সাবেক দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য মীর কাসেম আলী এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে৷ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড দিলেও আপিল ও রিভিউয়ে তার আমৃত্যু কারাদণ্ড বহাল আছে৷

আপিল শুনানি চলার মধ্যেই জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের মৃত্যু হয়েছে৷ ২৮টি  আপিল এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে৷

অডিও শুনুন 02:05

‘ তিন হাজার ৭১২ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত করার মতো ৬৭০টি অভিযোগ আছে’

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা থেকে জানা গেছে, যুদ্ধাপরাধের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭৪ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়েছে৷ ট্রাইব্যুনালে রায় হওয়া ৪১ টি মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ৮৬ জন৷ তাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে ৫৫ জনকে৷

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘এখন আমরা আরো ২৩টি অভিযোগের তদন্ত করছি৷ আর আমাদের কাছে তদন্ত করার মত ৬৭০টি অভিযোগ আছে তিন হাজার ৭১২ জনের বিরুদ্ধে৷ আমাদের কাছে এ পর্যন্ত চার হাজার ২১ জনের বিরুদ্ধে মোট অভিযোগ জমা পড়েছে সাত হাজার ৪৯০টি৷''

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, ‘‘আপিল নিষ্পত্তি হতেই অনেক সময় লাগছে৷ আজকে (বৃহস্পতিবার) যে মামলাটির আপিল নিষ্পত্তি হলো তাতে প্রায় তিন বছর লাগল৷ এভাবে প্রতিটি আপিল নিষ্পত্তিতে যদি সময় লাগে তাহলে অনেকেতো আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই মারা যাবেন৷ আমার বিবেচনায় যুদ্ধাপরাধের মামলার আপিল নিষ্পত্তির জন্য আলাদা বেঞ্চ করা প্রয়োজন৷''

অডিও শুনুন 04:11

‘আপিল নিষ্পত্তি হতেই অনেক সময় লাগছে’

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ প্রথম ট্রাইব্যুনালটি গঠন করা হয়৷ একটি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার কাজ শুরু হলেও ২০১২ সালের ২২ মার্চ আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়৷ দুইটি ট্রাইব্যুনাল একযোগে আড়াই বছর কাজ করে৷ ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দুইটি ট্রাইব্যুনালকে একিভূত করা হয়৷ এখন একটি ট্রাইব্যুনালই বিচার কাজ করছে৷ তুরিন আফরোজ মনে করেন, ‘‘ট্রাইব্যুনাল একটি হওয়ায় এখন বিচারে কিছুটা দেরি হচ্ছে৷ তবে মামলা তদন্তের গতি বাড়াতে হবে৷ তা না বাড়লে আপাতত আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করলে অর্থের অপচয় হবে৷ এজন্য তদন্ত সংস্থার জনবল এবং কাজের গতি বাড়াতে হবে৷''

তবে হান্নান খান বলেন, ‘‘ট্রাইব্যুনালে জনবল বাড়লে আমাদের তদন্তের গতি বাড়বে সত্য, কিন্তু তাতে ট্রাইব্যুনাল আরো বাড়াতে হবে৷ ট্রাইব্যুনাল বছরে সর্বোচ্চ পাঁচ-ছয়টি মামলার রায় দিতে পারে৷ আমরা তার চেয়ে অনেক বেশি মামলা এখন ট্রাইব্যুনালে তদন্ত শেষে পাঠাচ্ছি৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন