1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
গত কয়েক বছর ধরে আমাদের নৈতিকতা, বোধ নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে
গত কয়েক বছর ধরে আমাদের নৈতিকতা, বোধ নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেছবি: S M Kakon/IMAGO

‘তখন মনে হয়েছিল, সুযোগ পেলে চালককে আমিও পেটাবো’

সমীর কুমার দে ঢাকা
৯ ডিসেম্বর ২০২২

সাক্ষাৎকারে শ্যামলী রানী

https://p.dw.com/p/4KhpO

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রাইভেটকার একজন নারীকে টেনে বহুদূর নিয়ে যায়৷ চালকের এই নির্মমতা দেশের প্রতিটি মানুষকে নাড়া দিয়েছে৷ঘটনার সময় প্রাইভেটকারের পেছনে পেছনে দৌড়ে সেখানে গিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে সদ্য মাস্টার্স পরীক্ষা দেওয়া শ্যামলী রানীও৷ সেখানে গিয়ে তিনি কী দেখেছেন? তার নিজের অনুভুতিই বা কী ছিল? এসব বিষয় নিয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন শ্যামলী রানী৷ 

ডয়চে ভেলে : সেদিন কী ঘটেছিল?

শ্যামলী রানী : ওই সময় আমরা কয়েকজন মিলে আমাদের রোকেয়া হলের সামনে স্বপন মামার দোকানে চা খাচ্ছিলাম৷ তখন আমরা দেখলাম, অনেক মানুষ, বলতে গেলে সব মানুষ অর্থাৎ চারভাগের তিন ভাগ মানুষ একদিকে দৌড়াচ্ছে৷আমাদের হলের সামনে দিয়ে ভিসির বাড়ির দিকে যাচ্ছে৷ তখন আমার মাথায় কাজ করেছে, চুরি বা ছিনতাই হলে এত মানুষ দৌঁড়াতো না৷ নিশ্চয় কোন দুর্ঘটনা ঘটেছে বা সিরিয়াস কিছু হয়েছে৷ আমরাও যখন পিছন পিছন গেলাম তখন সবাই বলছেন, একটা প্রাইভেটকারে একজন মহিলা আটকে আছেন, চালক তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে৷ তখন সবাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে গেছেন৷ এক কথায় সবাই কাঁপছেন৷ এত নৃশংস ছিল ঘটনাটা৷তখন আমরাও পিছন পিছন দৌড়ালাম৷ আমরা যেতে যেতে দেখলাম পুরো রাস্তায় একটা কালো দাগ হয়ে গেছে৷ আমি আবার একটু ভীতু৷ দেখলাম ভিসির বাড়ির সামনে রাস্তায় কিছু একটা পড়ে আছে৷ পরে দেখলাম সেটা ওই নারীর শরীরের কিছু অংশ৷ আমরা যখন ওখানে পৌঁছলাম তখন মানুষ চালককে গণপিটুনি দিচ্ছে৷ তখন ওনার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়৷ পরে পুলিশ ভ্যানে করে উনাকে নিয়ে যায়৷

চালককে কোথায় আটকেছিল?

নীলক্ষেতের মোড়ের দিকে যে মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ হয়েছে ওখানে৷

''রাষ্ট্রের ইস্যুগুলো মানুষের বেড়ে উঠায় প্রভাবিত করে''

আপনি পৌঁছে কী দেখলেন?

আমি দেখলাম তখন ড্রাইভারকে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে৷ গাড়িতে তোলা হচ্ছে৷

ওখানে পৌঁছার পর কী আপনার মনে হয়েছে এই গণপিটুনিতে আপনারও অংশ নেওয়া উচিত বা ড্রাইভারকে মারাই উচিত?

আমরা যখন পেছন পেছন যাই তখন তো শুধু রাস্তায় রক্তের দাগ দেখতে পাচ্ছি৷ সেটা দেখেই আমরা অনুমান করতে পারি এটা কতটা নৃশংস ঘটনা ছিল৷ ওখানে যারা ছিলেন রিক্সাওয়ালা থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী তাদের সবার চোখে মুখে একটা রোস ছিল৷ তখন আমারও মনে হয়েছিল, আমি পেলে তাকে আমিও পেটাবো৷

ওখানে যাওয়ার পর আপনার কী মনে হয়েছেবিষয়টি পুলিশকে জানানো উচিত?

আসলে কিছু ব্যাপার থাকে যখন মানুষের উপস্থিত বুদ্ধি লোপ পায়৷ পুলিশের ব্যাপারটা আসে পরবর্তী ধাপে৷ এই বিষয়টি এত নারকীয় বা নৃশংস ছিল যখন মানুষের প্রতিশোধ স্পৃহা জেগে ওঠে৷ এটা তো ইচ্ছাকৃত হত্যার মতো ব্যাপারটা৷ উনি বুঝতে পারছেন, তারপরও টেনে নিয়ে যাচ্ছেন৷ হয়ত উনি নিজে বাঁচার জন্য৷ তখন তো আমরা চালকের অবস্থাটা বিবেচনা করছি না৷

গণপিটুনির ভয়ে তো চালক হয়তো থামাননি?

হয়তো তেমনই হবে৷ তার মাথায় হয়তো এটাই কাজ করেছে৷

আমরা মাঝে মধ্যে হিংস্র হয়ে যাই, কেন?

আমরা কয়েক প্রজন্ম ধরে যদি দেখি, আমরা হিংস্র হয়ে বেড়ে উঠছি৷ এর সঙ্গে আসলে অনেক বিষয় আছে৷

বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি কি এর জন্য দায়ী?

বিচারহীনতার একটা সংস্কৃতি তো আছেই৷ আমরা দেখি, একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর সেটা কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে৷ এটার কোন রায় বা রায় কার্যকর হওয়ার কোন খোঁজ দেখি না৷ প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে এটা তো অবশ্যই কাজ করে৷ কাউকে আটক করে পুলিশে দিলে আসলে এর কোনো বিচার হবে কিনা সেটাও অনেক সময় কাজ করে৷ ফলে মানুষ চায় নিজেই শাস্তি দিয়ে দিতে৷

আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় কম বোধ নিয়ে আমরা বড় হচ্ছি কিনা?

গত কয়েক বছর ধরে আমাদের নৈতিকতা, বোধ নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে৷ স্মার্টফোন বা সামাজিক মাধ্যমের কারণে আমরা কেমন জানি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছি৷ গভীর ভাবনা ও চিন্তার বিষয়টি গড়ে উঠছে না৷ বাবা-মায়ের ক্ষেত্রেও এমন হচ্ছে৷

বাড্ডার রেনু বেগমের কথা আমরা জানি৷ কিছু বুঝে উঠার আগেই গণপিটুনির এই সংস্কৃতিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

এটা তো অবশ্যই নেতিবাচক৷ খারাপ একটা দিক৷ আমরা তো দেখেছি, রেনু বেগম নিজের মেয়েকে আনতে স্কুলে গিয়েছিলেন৷ অথচ গণপিটুনি দিয়ে তাকে মেরেই ফেলা হয়েছে৷ এমন তো কখনই হওয়া উচিৎ না৷ বিচারের দায়িত্ব নিজের হাতে নেওয়া উচিৎ না৷ ভেবে চিন্তে রায়টা আসা উচিৎ৷ কিন্তু দেশের যে অবস্থা বা নতুন প্রজন্মের রগচটা হয়ে বেড়ে উঠাসহ বিভিন্ন বিষয় এখানে কাজ করে৷ নিজে দায় নিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তো অবশ্যই নেতিবাচক৷

রাষ্ট্রে যদি সঠিক গণতান্ত্রিক চর্চা না হয়, তাহলে মানুষের মধ্যেও এর প্রতিফলন হয়?

অবশ্যই৷ রাষ্ট্রের ইস্যুগুলো মানুষের বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে, চিন্তার ক্ষেত্রে প্রভাবিত করে৷

আপনি যখন দেখলে একজন মানুষকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে, তখন আপনার অনুভুতি কেমন ছিল?

আমার কোন সময়ই মনে হয়নি, তাকে পুলিশে দেওয়া উচিৎ ছিল৷ একটু আগেও যেটা বললাম, রাষ্ট্রের অবস্থা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি সবকিছু না ভেবেই আমি যদি বলি, তাহলে বলব, তখন চালকের প্রতি আমার কোন সমবেদনা ছিল না৷ সবাই যে পিটুনি দিয়েছে সেটা আমার মনে হয়েছে যে ঠিক আছে৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

আদানির কয়লার দামে ‘সংশোধন’ চায় পিডিবি

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ
প্রথম পাতায় যান