ঢাকায় ‘রাইড শেয়ার’ করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় যাত্রীরা | বিশ্ব | DW | 06.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

ঢাকায় ‘রাইড শেয়ার’ করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় যাত্রীরা

বাংলাদেশে অ্যাপভিত্তিক ‘রাইড শেয়ারিং’ সেবা নিয়ে তৈরি নীতিমালা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে৷ গ্রাহকরা যেমন এই নীতিমালার সমালোচনা করছেন, তেমনি যারা সেবা দেন তারাও অসন্তুষ্ট৷

গত ১৫ জানুয়ারী মন্ত্রিসভা রাইড শেয়ারিং সেবার নীতিমালা অনুমোদন করে৷ ২৮ ফেব্রুয়ারী রাইড শেয়ারিং সেবার নীতিমালার গেজেট জারি করা হয়৷ মার্চ থেকে এটা কার্যকর হয়েছে৷ অ্যাপভিত্তিক ক্যাব এবং মোটর বাইক উভয়কেই এই নীতিমালার আওতায় আনা হয়েছে৷ এই নীতিমালায় ৮টি অনুচ্ছেদ এবং ১১টি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে৷ শর্তগুলো হল:

  • কোম্পানিকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) থেকে তালিকাভুক্তির সনদ নিতে হবে৷
  • অ্যাপসের মালিককে টিআইএনধারী হতে হবে এবং নিয়মিত ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে৷ আর কোম্পানি হলে জয়েন্ট স্টক থেকে কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে৷
  • নিজস্ব অফিস থাকতে হবে৷
  • ঢাকায় সেবা দেওয়ার জন্য কমপক্ষে ১০০, চট্টগ্রামে ৫০টি এবং অন্য জেলা শহরে ২০টি গাড়ি থাকতে হবে৷
  • গাড়িগুলোর বিআরটিএ থেকে ট্যাক্স পরিশোধ ও রুট পারমিট আপডেট থাকতে হবে৷
  • মালিক ও চালকের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি থাকতে হবে৷
  • স্ট্যান্ডছাড়া যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করা যাবে না৷
  • বিআরটিএর ওয়েবসাইটে এই সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, মালিক ও চালকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকতে হবে৷
  • তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনের সঙ্গে এক লাখ টাকাসহ অন্যান্য ফি জমা দিতে হবে৷ তালিকাভুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর৷ পরে এটি নবায়ন করতে হবে৷ নবায়ন ফি হবে ১০ হাজার টাকা৷
  • মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে অনলাইনে অভিযোগ করা যাবে৷
  • শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তালিকাভুক্তির সনদ বাতিলসহ প্রচলিত আইনে মামলা করা যাবে৷

নীতিমালায় বলা হয়েছে, রাইড শেয়ারিং সেবার আওতায় চলাচল করা ব্যক্তিগত গাড়ির ভাড়া ঠিক করবে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান৷ এ নীতিমালার অধীনে একজন মোটরযান মালিক একটি মোটরযান রাইড শেয়ারিং সেবার আওতায় পরিচালনার অনুমতি পাবেন৷ ব্যক্তিগত মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার পর এক বছর পার না হলে রাইড শেয়ারিং সেবায় নিয়োজিত করা যাবে না৷ 

অডিও শুনুন 05:48
এখন লাইভ
05:48 মিনিট

‘যাত্রীদের প্রতি দুর্ব্যবহার দিনে দিনে বাড়ছে’

এই নীতিমালার বিষয়ে জানতে ‘উবার' এবং ‘পাঠাও'-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি৷ তবে নানা সূত্র থেকে জানা গেছে উবারের গাড়ি সার্ভিসে সর্বনিম্ন ভাড়া ৪০ টাকা; পরের প্রতি কিলোমিটারের জন্য ১৮ টাকা৷ প্রতি এক মিনিট ওয়েটিং চার্জ ৩ টাকা৷ সেবা বাতিলের জন্য দিতে হবে ৩০ টাকা৷ এই কোম্পানির বাইক সার্ভিসের জন্য গুনতে হবে সর্বনিম্ন ৩০ টাকা৷ প্রতি কিলোমিটার ১২ টাকা এবং প্রতি এক মিনিট ওয়েটিংয়ের জন্য ১ টাকা নির্ধারণ করা রয়েছে৷

পাঠাও এর গাড়ির সর্বনিম্ন ভাড়া ৫০ টাকা৷ প্রতি কিলোমিটারের জন্য ২০ টাকা এবং প্রতি এক মিনিট ওয়েটিংয়ের জন্য ৫০ পয়সা৷ একই কোম্পানির বাইক সার্ভিসের সর্বনিম্ন ভাড়া ২৫ টাকা৷ পরের প্রতি কিলোমিটার ১২ টাকা এবং প্রতি মিনিট ওয়েটিং চার্জ ৫০ পয়সা৷

কিন্তু যাত্রীরা অভিযোগ করছেন নীতিমালা কার্যকর করার পর ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে৷ আর রাইড শেয়ারিং-এর চালকদের বিরুদ্ধে ও দুর্ব্যবহারসহ নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে৷ অভিযোগের পরিমান দিন দিন বাড়ছে৷ বিশেষ করে নারী যাত্রীরা তাদের দুর্ব্যবহার ও ননপ্রফেশনাল আচরণের শিকার বেশি হচ্ছেন৷ 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই নীতিমালা করার আগে যাত্রী এবং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান - কোন পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করা হয়নি৷ ফলে ফ্লাইওভারের চার্জ, পার্কিং চার্জ কে দেবে তা নির্ধারণ করা হয়নি৷ আর কোম্পানিগুলো এখন তা যাত্রীদের কাছ থেকেই আদায় করছে৷ ভাড়া নির্ধারণের ক্ষমতা কোম্পানিগুলোর হাতে থাকায় তারা পরিস্থিতি বুঝে ভাড়া নির্ধারণ করছে৷ তাই যে এলাকায় যাত্রী বেশি সেখানে ভাড়া বেশি৷ যে এলাকায় যাত্রী কম সেখানে ভাড়া কম৷ আবার সামান্য লোকেশন জটিলতার কারণে তারা যাত্রীদের পথেই নামিয়ে দেয়৷ একারণে রোগী এবং বৃদ্ধরা বিপাকে পড়েন৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘যাত্রীদের প্রতি দুর্ব্যবহার দিনে দিনে বাড়ছে৷ আমরা অনেক অভিযোগ পাচ্ছি৷ কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কাছে তাৎক্ষণিক অভিযোগ ও প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নাই৷ বিমানবন্দরের যাত্রীদের কাছ থেকে পণ্যের আলাদা ভাড়া দাবি করা হচ্ছে৷''

২০১৬ সালের মে মাসে রাজধানী ঢাকায় প্রথম মোটর সাইকেল রাইড চালু করে স্যাম৷ সংস্থাটির প্রধান ইমতিয়াজ কাশেম৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘যারা নীতিমালা করেছেন তারা রাইড শেয়ারিং এবং ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিসকে এক করে ফেলেছেন৷ আসলে দু'টি দুই জিনিস৷ রাইড শেয়ারিং হল চালু থাকা প্রাইভেট কার বা ব্যক্তিগত মোটর সাইকেলকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে যানবাহনের উপর চাপ কমানো এবং মানুষকে কম ভাড়ায় যানবাহনে চাড়ার সুযোগ দেয়া৷ ফলে এই সার্ভিসে ট্যাক্সিক্যাবের চেয়ে ভাড়া অবশ্যই কম থাকবে৷ কিন্তু তা না করায় এখন কেউ কেউ মোটর সাইকেল বা গাড়ি কিনে কোন রাইড শেয়ারিং কোম্পানিতে যুক্ত হয়ে পুরোপুরি ব্যবসায় নামছেন৷ এভাবে চললে এক সময় এই সার্ভিস বন্ধ হতে বাধ্য৷'' 

অডিও শুনুন 05:30
এখন লাইভ
05:30 মিনিট

‘এটা রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি করবে’

তিনি বলেন, ‘‘যারা রাইড শেয়ার করবেন তারা ফ্রিল্যান্সার৷ তাই তাদের একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার নিয়মের কারণে তারা ওই প্রতিষ্ঠানের হাতে জিম্মি হয়ে পড়বেন৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘রাইড শেয়ার যারা করেন তারা তাদের সুবিধামত অফার গ্রহণ করেন৷ কিন্তু ট্যাক্সিক্যাব-এর এই সুযোগ নেই৷ কোনো যাত্রী তাকে অফার করলে সে যেতে বাধ্য৷ ট্যাক্সিক্যাবের একটি নির্দিষ্ট রং থাকে৷ কিন্তু রাইড শেয়ারের গাড়ির জন্য তা প্রযোজ্য নয়৷ একটি ভুল নীতিমালা করে সবাইকে এখন ট্যাক্সিক্যাব ব্যবসায়ী হওয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে৷ এটা রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি করবে৷''

প্রিয় পাঠক, আপনি কি কখনো উবার বা পাঠাও ব্যবহার করেছেন? আপনার অভিজ্ঞতা লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও