ঢাকায় ওআইসি সম্মেলন: প্রাধান্য পাবে রোহিঙ্গা ইস্যু | বিশ্ব | DW | 04.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

রোহিঙ্গা সংকট

ঢাকায় ওআইসি সম্মেলন: প্রাধান্য পাবে রোহিঙ্গা ইস্যু

ঢাকায় ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ৷ সম্মেলনের প্রথমদিনই রোহিঙ্গা ইস্যুর ওপর একটি আলোচনা রয়েছে৷ শুক্রবার কক্সবাজারে শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে ওআইসি-র প্রতিনিধি দল৷

৫-৬ মে ঢাকায় ওআইসি-র সম্মেলনে ৫৭ সদসস্যের মধ্যে ২৮টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, একটি দেশের বিচারমন্ত্রী, ১০টি দেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সাতটি দেশের পররাষ্ট্রসচিব অংশগ্রহণ করবেন৷ প্রথমবারের মতো অসদস্য ক্যানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডকে বিশেষ অথিতি হিসাবে আমন্ত্রণ করা হয়েছে ঢাকায়৷ তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকবেন৷ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ এবারের ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো – টেকসই শান্তি সংহতি ও উন্নয়নের জন্য ইসলামি মূল্যবোধ৷

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা সংকট ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বিশেষভাবে স্থান পাবে৷ সম্মেলনকালে একটি বিশেষ অধিবেশনে এ বিষয়ে আলোচনা হবে৷ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রেসপন্স, বিশেষ করে ওআইসিভুক্ত ইসলামি দেশগুলোর রেসপন্স, কীভাবে আরো জোরদার করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা হবে৷ সেখানে ক্যানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বক্তব্য দেবেন৷’’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওআইসি বাংলাদেশকে সমর্থন দিচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওআইসি আমাদের সমর্থন দিচ্ছে৷ মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক এবং অন্যান্য দেশও আমাদের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে৷’’

সম্মেলনে প্যালেস্টাইন ইস্যু, মুসলিম বিশ্বের সংঘাত ও চ্যালেঞ্জ, বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মানবিক বিপর্যয়, ইসলামোফোবিয়া, মুসলিম উম্মাহর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ওআইসি দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক বিষয়সহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকছে৷

ওআইসি-তে সংস্কার এবং সংস্থার নিজস্ব কনফ্লিক্ট ম্যানাজমেন্ট সেন্টার খোলার বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে৷ মুসলিম বিশ্বের মধ্যে একাধিক দেশ আছে, যাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে সংঘাত আছে এবং এ ধরনের একটি কনফ্লিক্ট অ্যান্ড মেডিয়েশন সেন্টার এই সংঘাতকে প্রশমিত করতে সাহায্য করবে৷ ওআইসি-র সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বড় আকারে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে৷ পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতি এবং মুসলিম উম্মাহর মধ্যে দ্বন্দ্বের ফলে সবাই এটা নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে৷

রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন

শুক্রবার ওআইসি-র প্রতিনিধি দল কক্সবাজার কক্সবাজারে কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প ঘুরে দেখে৷ তারা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথাও বলে৷ পরিদর্শন শেষে কক্সবাজারের একটি হোটেলে তারা সাংবাদিকদের জানায়, ‘‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করবে ওআইসি৷’’

প্রতিনিধি দলের প্রধান হাশেম ইউছেফ জানান, ‘‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ওপর যে নিপীড়ন চালানো হয়েছে, তা গণহত্যা৷ বিশ্বব্যাপী এ ঘটনার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে৷ শুরু থেকে ওআইসি বাংলাদেশে প্রশংসিত উদ্যোগের পক্ষে৷ এখন এ সংকটের সমাধানের জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে৷ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে প্রধান আলোচনার বিষয় হবে রোহিঙ্গা ইস্যু৷’’

প্রতিনিধিরা বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের তৈরি৷ মিয়ানমারকে এর সমাধান করতে হবে৷ রোহিঙ্গারা নিরাপদে যেন স্বদেশে বাস করতে পারেন, তার জন্য পরিবেশ তৈরির দায়িত্বও মিয়ানমার সরকারের৷’’ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীও ছিলেন৷

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওআইসি কি সক্রিয়?

এর আগেও জানুযারি মাসে ওআইসি-র একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে৷ দু'দিন ধরে পরিদর্শনের পর প্রতিনিধি দলের প্রধান ওআইসি-র ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্মানেন্ট হিউম্যান রাইটস কমিটি বা আইপিএইচআরসি-র চেয়ারপার্সন ড. রশিদ আল বালুসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমরা দু'দিন ধরে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছি৷ এতে আমরা যতটুকু জেনেছি, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা ও ধর্ষণসহ বর্বর নানা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে৷ আমরা ওআইসি-র কাছে প্রতিবেদন পেশ করবো৷’’ এরপর অবশ্য ওআইসি-র আর কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি৷

২০১৭ সালের ৪ আগস্ট কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন ওআইসি মহাসচিব ইউসেফ বিন আহমাদ আল-অথাইমিন৷ তিনি সেখানে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জেলা প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা সহ বিভিন্ন এনজিও-র কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেঠকও করেন৷ কিন্তু তারপর কোনো শক্ত অফিসিয়াল বক্তব্য শোনা যায়নি৷

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, গত তিনটি সম্মেলনে চেষ্টা করেও রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে সামনে আনা যায়নি৷ এমনকি কায়রো সম্মেলনেও চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি৷ ঘেষণায় একটি প্যারা অন্তর্ভূক্ত করাও ছিল আনেক কষ্টের৷ তবে এবার সব দেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে রেজোলিউশন গ্রহণে একমত হয়েছে৷

অডিও শুনুন 04:58
এখন লাইভ
04:58 মিনিট

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওআইসি-র ভূমিকা অতীতে আমাদের নিরাশ করেছে: শহীদুল হক

মিয়ানমারে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক সামরিক অ্যাটাশে এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল শহীদুল হক (অব.) ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওআইসি-র ভূমিকা অতীতে আমাদের নিরাশ করেছে৷ সর্ববেশ(২৫ আগস্ট থেকে) যে সংকট সেখানেও আমরা ওআইসি-র পক্ষ থেকে কোনো শক্ত বক্তব্য দিতে দেখিনি৷ বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমর্থন দিয়ে স্ট্রং কোনো অবস্থান ওআইসি-র আমরা দেখিনি৷ এর কারণ হলো, এর সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অনেক ডিভিশন আছে৷ তাদের নিজস্ব স্বার্থের বিষয় আছে৷’’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘‘যদি দক্ষিণ এশিয়ার কথাই ধরি, আমরা আশা করি যে রোহিঙ্গারা যেহেতু মুসলমান, পাকিস্তান হয়ত নাড়াচাড়া দেবে৷ কিন্তু তা হয়নি৷ এর কারণ হলো পাকিস্তান জেএফ-১৭ নামে একটি বিমান তৈরি করে৷ নিজেরা ব্যবহার করে৷ কিন্তু দেশের বাইরে মিয়ানমার হলো এই বিমানের প্রথম ক্রেতা৷ মালয়েশিয়া রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপারে খুবই কনসার্ন্ড৷ কক্সবাজারে ওদের হাতপাতাল আছে৷ কিন্তু ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনাই এ ব্যাপারে নিরবই বলা যায়৷ ওদের তো কোনো স্ট্রং বিবৃতিও দেখিনি৷ এর কারণ, ইন্দোনেশিয়ায় আসিয়ান-এর সদরদপ্তর৷ আসিয়ান দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে দূরে থাকে৷ ইন্দোনেশিয়া সেই কারণে এবং তাদের প্রভাবে ব্রুনাইও রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে তেমন সক্রিয় নয়৷ সৌদি আরবের ইয়াঙ্গনে যে মিশন আছে, তাদের কাজই হলো রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নিউট্রালাইজ সিটিজেন করার চেষ্টা৷ সত্তরের দশকে মোট পাঁচ লাখ রোহিঙ্গাকে সৌদি আরব নেয়৷ এর মধ্যে আড়াই লাখ বাংলাদেশি পাসপোর্টে এবং আড়াই লাখ পাকিস্তানি পাসপোর্টে৷ কিন্তু এটা বিস্ময়কর যে এবারে বা তার আগের ক্রাইসিসে সৌদি আরকের ভূমিকা ছিল আশাহত৷ তুরস্ক এবং সৌদি আরবের মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে৷ এবার তুরস্ক অ্যাকটিভ বলেই সৌদি আরব নিস্ক্রিয়৷’’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘এবার রেজোলিউশন পাস হবে, সেটা আশার খবর৷ কিন্তু তাতে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কতটা প্রভাব বিস্তার করবে, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে৷ কারণ এককভাবে দেশগুলো কী ভূমিকা রাখে, তাও গুরুত্বপূর্ণ৷’’

অডিও শুনুন 04:21
এখন লাইভ
04:21 মিনিট

পরিস্থিতির কারণে সবাই সক্রিয় হয়েছে, ওআইসি-ও সক্রিয় হয়েছে: মুন্সি ফয়েজ

তবে সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বা বিআইআইএসএস-এর চেয়ারম্যান মুন্সি ফয়েজ ওআইসি-র ভূমিকাকে ইকিবাচকভাবেই দেখেন৷ তিনি মনে করেন, ‘‘আগে রোহিঙ্গা সমস্যা এত প্রকট ছিল না৷ তাই ওআইসি-র ভূমিকাও তত প্রবল ছিল না৷ তখন জাতিসংঘও সক্রিয় ছিল না৷ এখন পরিস্থিতির কারণে সবাই সক্রিয় হয়েছে, ওআইসি-ও সক্রিয় হয়েছে৷’’

তিনি বলেন, ‘‘এবার ওআইসি-র পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘে প্রস্তাব আনা হয়েছে৷ যার ওপর ভোটাভুটি হয়েছে৷ এবার ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে প্রস্তাব পাস হচ্ছে৷ বিষয়টির ব্যাপকতার কারণে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অতীতের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় আজ৷ অনেক দেশই এখন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে৷ আগে তারাও সক্রিয় ছিল না৷ তবে এবার সবাই সক্রিয় হওয়ায় কাজ হচ্ছে বলে আমার মনে হয়৷ কারণ মিয়ানমার চাপের মুখে পড়েছে৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়