ঢাকায় অ্যান্টিবডি: স্বস্তির গবেষণায় সীমাবদ্ধতা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 14.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ঢাকায় অ্যান্টিবডি: স্বস্তির গবেষণায় সীমাবদ্ধতা

করোনা নিয়ে দু’টি প্রতিষ্ঠানের গবেষণাকে ‘প্রিলিমিনারি’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা৷ তারা মনে করেন অ্যান্টিবডি টেস্টটা যথেষ্ট নয়৷

তাঁরা বলছেন, গবেষণাটা আরো বেশি মানুষকে নিয়ে করলে প্রতিনিধিত্বমূলক হতো৷ গবেষণা প্রক্রিয়ার মধ্যেও ঘাটতির কথা বলছেন কেউ কেউ৷

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)-র যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরের প্রায় অর্ধেক মানুষের করোনা সংক্রমণ হয়ে গেছে৷ অ্যান্টিবডি  পরীক্ষার ফলাফল বলছে, তিন মাস আগেই রাজধানীর ৪৫ শতাংশ মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন৷

করোনা ভাইরাসের জিন বিশ্লেষণ করে গবেষকদের অনুমান, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছিল৷

গবেষণাটির সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটা কিন্তু রিয়েল টাইম ফাইন্ডিংস নয়৷ এরা এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত চার মাসের স্যাম্পল কালেকশন করেছে, এর পর গড় করেছে৷ সুতারাং আমরা অনেক কিছুই জানতে পারছি না৷আমরা জানি না, কোন মাসে কত ছিল৷ আমি বলবো, এটা প্রিলিমিনারি একটা রিপোর্ট হলো৷ এটা বিস্তারিত অ্যানালাইসিস করার সুযোগ আছে৷’’

যে প্রক্রিয়ায় গবেষণাটি হয়েছে, সেটি ঠিক আছে কিনা জানতে চাইলে ডা. ইসলাম বলেন, ‘‘প্রক্রিয়ার মধ্যে অনেক ঘাটতি আছে৷’’ যে গবেষণাটির আন্তর্জাতিক স্তরে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিকভাবে এই গবেষণাটি যথেষ্ট মূল্য দেবে৷ অ্যান্টিবডি ডেভেলপের ক্ষেত্রে বস্তিগুলো অনেক অগ্রসর হয়ে গেছে৷ এরা তো ডায়নামিক ফাইন্ডিংস দিয়েছে৷ তাতে মানুষ কিভাবে বুঝবে কোন মাসে কত ছিল? কাজটা হলো ঠিকই, কিন্তু আমরা এর মধ্য থেকে কিছু বের করতে পারলাম না৷ বিষয়টি এমন, আমাদের সামনে খাবার দেওয়া হলো, কিন্তু আমরা খেতে পারলাম না৷’’

অডিও শুনুন 05:48

‘এটা কিন্তু রিয়েল টাইম ফাইন্ডিংস নয়’

গবেষণার জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্য থেকে দৈবচয়ন ভিত্তিতে ২৫টি ওয়ার্ড বেছে নেওয়া হয়৷ প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে একটি মহল্লা বাছাই করা হয়৷ প্রতিটি মহল্লা থেকে ১২০টি খানা জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়৷ এছাড়া ৮টি বস্তিকে এ জরিপে যুক্ত করা হয়৷ মোট ৩ হাজার ২২৭টি খানার সদস্যদের গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়৷ খানাগুলোকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়৷ জরিপের দিন বা তার আগের সাত দিনে খানার কমপক্ষে একজন সদস্যের জ্বর, কাশি, গলায় ব্যথা, শ্বাসকষ্ট- করোনা সংক্রমণের এ চারটির একটি লক্ষণ থাকলে তাকে উপসর্গযুক্ত খানার শ্রেণিতে ফেলা হয়৷ অন্যদিকে কোনো সদস্যের একটি লক্ষণও না থাকলে সেই খানাকে উপসর্গহীন শ্রেণিভুক্ত করা হয়৷ নমুনা সংগ্রহ করা হয় মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য জুলাই পর্যন্ত৷ আর বস্তির মানুষের নমুনা সংগ্রহ করা হয় মধ্য জুলাই থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত৷

আইইডিসিআরের পরামর্শক ডা. মুস্তাক হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে যেটা করা হয়েছে সেটা ঠিক আছে৷ কিন্তু অ্যান্টিবডি টেস্টের নমুনাটা অনেক কম হয়েছে৷ এটা খুবই সামান্য৷ এটা ঢাকা শহরকে রিপ্রেজেন্ট করে না৷ মাত্র ৬৯২ জনের টেস্ট করা হয়েছে৷ অবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ১২ হাজারের টেস্ট করা হয়েছে৷ ৬৯২ জনের অ্যান্টিবডি টেস্ট করে পেয়েছে ৪৫ শতাংশ৷ আর বস্তিতে মাত্র ১২৫ জন৷ বস্তির বিষয়টি প্রতিনিধিত্বমূলক হয়নি৷ সেখানে শতকরা ৭৪ পাওয়া গেছে৷ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বস্তিতে পাওয়া গেছে কম৷ ফলে বস্তিটা একেবারেই প্রতিনিধিত্বমূলক না৷ অ্যান্টিবডি টেস্টটাও যথেষ্ট না৷ আরো বেশি সংখ্যায় নিয়ে করলে সেটা প্রতিনিধিত্বমূলক হতো৷’’

এই গবেষণা থেকে কি আমরা মনে করতে পারি করোনা ঝুঁকি কমে যাচ্ছে? জবাবে জনাব হোসেন বলেন, ‘‘না, করোনা ঝুঁকি থেকেই গেছে৷ করোনা হয়ে গেলেই যে, ঝুঁকি কমে যাবে বিষয়টা তা নয়৷ কারণ, করোনা হয়ে গেলে ইউমিনিটি হয় এটা কিন্তু প্রমাণিত না৷

আবার ইনফেকশন হতে পারে৷ আর অধিকাংশ লোকের তো করোনা হয়নি৷ ফলে তারা তো ঝুঁকির মধ্যে আছেই৷ অ্যান্টিবডি টেস্টটা হয়তো প্রতিনিধিত্বমূলক হবে না৷ আর সব আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেই হয়েছে৷’’

সোমবার গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেন আইসিডিডিআরবির সংক্রামক রোগ বিভাগের সিনিয়র বিজ্ঞানী ডা. ফেরদৌসী কাদরি৷ সেখানে তিনি দেখিয়েছেন, ঢাকা শহরের ৪৫ শতাংশ মানুষ ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন৷ আর বস্তির মানুষের মধ্যে এ হার ছিল

৭৪ শতাংশ৷ গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা বলছেন, ধারণা করা হয়,ঢাকা মহানগরের জনসংখ্যা দুই কোটি৷ এর মধ্যে প্রায় এক কোটি মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন৷উপসর্গযুক্ত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষায় ১০০ শতাংশে অ্যান্টিবডি পেয়েছেন গবেষকের৷ অন্যদিকে উপসর্গহীন ৪৫ শতাংশের রক্তে অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে৷ অর্থাৎ, ঢাকা শহরের বহু মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, অথচ তাঁদের কোনো উপসর্গ ছিল না৷

অনুজীব বিজ্ঞানী ডা. সমীর কুমার সাহা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা ধারণাই করেছি, এরকম একটা পজিটিভিটি রেট হবে৷ আমাদের চিন্তাও ছিল এরকম৷ কিন্তু আমি একটু অবাক হয়েছি এটার জন্য যে, জুলাই মাসে যদি এত বেশি পজিটিভ দেখা যায় তাহলে এটা তো বড় ব্যাপার৷ মনে হচ্ছে, এই সময়ের মধ্যে আমরা সবাই অ্যান্টিবডি পেয়ে গেছি৷ আমরা যদি আরো বড় করে

স্টাডিটা করতে পারি তাহলে হয়তো ভালো হবে৷ তবে যেটা এসেছে সেটা আমাদের জন্য গুড নিউজ৷ আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি৷ যেমন, আমাদের বস্তিবাসীদের ক্ষমতা আরো বেশি৷ যারা গ্রামেগঞ্জে থাকিনি, তাদের হয়তো একটু কম প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে৷ আরো বেশি সংখ্যায়, বেশি দিন ধরে করার প্ল্যান নিশ্চয় হবে৷’’

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে কি গবেষণাটি হয়েছে? জবাবে ডা. সাহা বলেন, ‘‘দেখুন এই দু’টি প্রতিষ্ঠানই কিন্তু গবেষণা করে৷ আমরা তো এখনো বিস্তারিত পাইনি৷ এটা যখন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রচার হবে, তখন আমরা নিশ্চয়ই বিস্তারিত জানতে পারবো৷ তখন তো এটা নিয়ে রিভিউ হবে৷ তখন সবাই বুঝতে পারবে৷’’

আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতেই গবেষণাটি হয়েছে বলে আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরিন মনে করেন, ‘‘এটা স্বল্প পরিসরে হয়েছে৷ কারণ, এখানে অনেক বিষয় সম্পৃক্ত৷ আমি চাইলেই ঢাকা শহরব্যাপী করতে পারবো না৷ আমার ম্যানপাওয়ার লাগবে, রি-এজেন্ট লাগবে৷ সবকিছুর মূলে কিন্তু প্রাপ্যতা এবং মানি৷ এগুলোর জোগান কিন্তু কেউ দেয়নি৷ এগুলো আমাদের বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করতে হয়েছে৷

অডিও শুনুন 03:57

‘এটা স্বল্প পরিসরে হয়েছে’

বাংলাদেশে রিচার্সগবেষণা করতে গেলে এত প্রাপ্যতা সম্ভব না৷ কিছু সীমাবদ্ধতা তো আমাদের দেশে রয়েই গেছে৷ সেটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না৷’’

এই গবেষণা আন্তর্জাতিক স্তরে গ্রহণযোগ্য হতে শুরু করেছে বলে জানালেন তিনি, ‘‘আমাদের একটা পার্ট কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে চলে গেছে৷ আমরা যে গবেষণাটি করেছি, এর চারটি পার্ট৷ প্রথম পার্টটি হলো ইমিউনি রেসপন্ড৷ এটা ইন্টারন্যাশন জার্নাল অব ইনফেকশন ডিজিজে ইতিমধ্যে পাবলিশ হয়েছে৷ অন্য তিনটিও প্রক্রিয়াধীন আছে৷ আমার নিজেরও অধিকাংশ পেপারই ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন