ড্রেনের পানিতে করোনার জীবাণু উদ্বেগের নয় | বিশ্ব | DW | 31.05.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ড্রেনের পানিতে করোনার জীবাণু উদ্বেগের নয়

ঢাকার পয়ঃনিষ্কাশনের পানিতে এবং কর্দমাক্ত স্থানে করোনার জীবাণুর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ড্রেনের পানিতে ৫৬ শতাংশ ও কর্দমাক্ত স্থানে ৫৩ শতাংশ ভাইরাসটির উপস্থিতি রয়েছে।

Moskito Brutgebiete in Dhaka, Bangladesch

ফাইল ফটো

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ- আইসিডিডিআর,বি ও ঢাকা ওয়াসার যৌথ এক গবেষণায় এমন তথ্য মিলেছে। সোমবার গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। পয়ঃনিস্কাশনের পানিতে যে জীবানুর উপস্থিতি মিলেছে সেটা থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর সুযোগ নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ডয়চে ভেলেকে বলেন, "এই ধরনের গবেষণা এটাই প্রথম না। এর আগেও এমন গবেষণা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত কাজের অংশ এগুলো মনিটরিং করা। আমরা নিয়মিত এগুলো পরীক্ষা করে থাকি। করোনা আক্রান্ত কোন ব্যাক্তির মল-মূত্রে জীবাণু পাওয়া যেতে পারে। এটাকে বলা হয়, মৃত জীবাণু। এখান থেকে কোনভাবেই সংক্রমণ ছড়াবে না। তবে আশার কথা, কিছুদিন আগেও যে পরিমান জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যেত, এখন তার চেয়ে অনেক কম পাওয়া যাচ্ছে। সংক্রমণ কমার সঙ্গে সঙ্গে এসব জায়গাতেও জীবাণুর উপস্থিতি কমে।”

২০২০ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসে ‘ঢাকা শহর এবং এর আশপাশে সার্স কোভ-২-এর উপস্থিতির জন্য পয়ঃনিষ্কাশন ও অন্যান্য দূষিত পৃষ্ঠের পানি এবং শোধিত পানির উৎস' শীর্ষক এই গবেষণার কাজ চালানো হয়। এর নেতৃত্ব দেন আইসিডিডিআরবির ইমেরিটাস সাইন্টিস্ট ড. সিরাজুল ইসলাম।

‘এখান থেকে কী পরিমাণ সংক্রমিত হবে সেটা গবেষণা না করে বলা যাবে না’

গবেষণার বিষয়ে জানতে ড. ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, "এ বিষয়ে এখন আমার কথা বলার অনুমতি নেই।” এর আগে সোমবার গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় বলা হয়েছিল, ঢাকা ওয়াসার পাগলা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, নারিন্দা, বাসাবো পয়োপাম্পিং স্টেশন, ঢাকা শহরের ভূপৃষ্ঠের পানি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দু'টি পুকুর, মিরপুর মাজার পুকুর এবং বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর পানি নমুনা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ওয়াসার পরিশোধিত পানিতে ভাইরাসটির কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ঢাকা শহরের পুকুর ও নদীর পানিতেও মেলেনি করোনার জীবাণু। গবেষণায় পাওয়া যায়, সংক্রমিত মানুষের মলের মাধ্যমে এটি স্যুয়ারেজ সিস্টেমে যায়। তাই পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা সঠিকভাবে শোধন ও নিষ্কাশন সঠিকভাবে না হলে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা থেকে যায়।  

একেবারে যে শঙ্কা নেই তেমনটি মনে করেন না, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, "আমাদের ওয়াসার গাফিলতির কারণে অনেক জায়গায় খাবার পানির লাইনে লিকেজের কারণে পয়ঃনিস্কাশনের লাইন মিলে একাকার হয়ে গেছে। ফলে সেখানে যে কোন ঝুঁকি নেই, সেটা তো বলা যাচ্ছে না। এখান থেকে কি পরিমাণ সংক্রমিত হবে সেটা তো আর গবেষণা না করে বলা যাবে না। তবে কিছু মানুষ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে সেটা বৈজ্ঞানিক ধারণা থেকে বলাই যায়। ফলে এখনই আমাদের এ বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে।”

গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থানের সময় ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান বলেন, শুধু গতানুগতিকভাবে এই গবেষণা চালানো হয়নি, প্রকৃত অবস্থা তুলে আনতেই গবেষণাটি করা হয়েছে। করোনার সময়ে জীবন ও জীবিকা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানাতে হাত ধোঁয়ার বিষয়টি দেখেছি।

‘করোনায় আক্রান্ত ব্যাক্তির মল-মূত্রের জীবাণু থেকে কোনোভাবেই সংক্রমণ ছড়াবে না’

একই সঙ্গে আমাদের পানিতে করোনার কোন অস্তিত্ব আছে কিনা? সেটি দেখতে আইসিডিডিআর,বির সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণাটি করা হয়। আশার কথা হলো, আমরা নিশ্চিত হলাম ঢাকা ওয়াসার পানিতে করোনার জীবাণু নেই। তবে করোনার সঙ্গে অন্যান্য কোন ভাইরাস যাতে ওয়াসার পানিতে না থাকে সেই ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট- আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর ডয়চে ভেলেকে বলেন, "এই গবেষণাটির সঙ্গে আইইডিসিআরও সম্পৃক্ত। তবে আইসিডিডিআর,বি গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছে। এমন একটি গবেষণা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই জন শিক্ষকও করেছেন। সেখানেও ড্রেনের পানিতে করোনা ভাইরাসের জীবাণুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। নতুন এই গবেষণাটি একটি আন্তর্জাতিক একটি জার্নালেও প্রকাশিত হয়েছে। তবে মৃত এই জীবাণুর কারণে নতুন কোন সংক্রমনের সুযোগ নেই। ভবিষ্যতের জন্য এই ধরনের গবেষণা কাজে আসবে। সাধারণ মানুষের এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোন কারণও নেই। এটা নিয়মিত গবেষণার অংশ।”

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেনও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, "নাক-মুখ দিয়ে বের হওয়া জীবাণুর কারণে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। কিন্তু মল-মূত্র দিয়ে বের হওয়া জীবানু মৃত। এদের কোন কার্যক্ষমতা থাকে না। এমনকি নাক-মুখ দিয়ে বের হওয়ার পরও যদি চার ঘন্টা মাটিতে পড়ে থাকে সেই জীবাণুও মারা যায়। সংক্রমিত ব্যক্তির মল-মূত্রে তো করোনার জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যাবেই। এটাই তো স্বাভাবিক। সেই মল-মূত্র ড্রেনে গেলে সেখানকার পানিতে এদের উপস্থিতি পাওয়া কোন অস্বাভাবিক বিষয় না।”