‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যামেরিকাকে আবারো গরিব করে তুলবেন′ | বিশ্ব | DW | 05.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সংবাদভাষ্য

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যামেরিকাকে আবারো গরিব করে তুলবেন'

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বহুকালের মিত্রদেশগুলিও শুল্কের খাঁড়া থেকে বাঁচতে নাও পারেন, এমন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে৷ ওদিকে ট্রাম্পের যুক্তি নিয়ে ধাঁধাঁয় পড়েছেন ডয়চে ভেলের সম্পাদক ড্যানিয়েল উইন্টার ৷ 

ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের উপর শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন, তা বুঝতে অর্থনীতিবিদরা হিমশিম খাচ্ছেন৷ যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬৬ বিলিয়ন ডলারের ব্যাপক বাণিজ্য ঘাটতি ট্রাম্পের সংরক্ষণনীতির একটা কারণ হতে পারে, কেননা বিদেশি পণ্য কেনার জন্য দেশ থেকে যে পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে যাচ্ছে, ট্রাম্প সে বিষয়ে উদ্বিগ্ন৷ 

বাণিজ্য ঘাটতির অর্থ, বিদেশি সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্রের রক্ত চুষে খাচ্ছে, সাধারণ মার্কিন শ্রমিকদের চাকরি নষ্ট করছে এবং দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রোধ করছে, বলে ট্রাম্পের বিশ্বাস৷

বাস্তব সত্য কিন্তু তার ঠিক উল্টো৷ দোষ বিদেশের নয়; বাণিজ্য ঘাটতি বা অর্থনীতি সংক্রান্ত পরিস্থিতির ব্যাখ্যা মার্কিন মুলুকেই পাওয়া যাবে৷

অর্থনীতির কিছু সহজ নিয়মকানুন দিয়েই শুরু করা যাক৷ একটি দেশে কোনো পণ্যের উৎপাদন যদি তার চাহিদার চেয়ে কম হয়, তাহলে তাকে সেই পণ্য আমদানি করতে হবে – গার্মেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় কিছু কিছু সুবিধা আছে৷ দক্ষিণ কোরিয়ার টেলিভিশন শিল্প বা চীনে সেলফোন তৈরি সম্পর্কেও সেকথা প্রযোজ্য৷ কাজেই অ্যামেরিকা এই সব পণ্য নিজে তৈরি না করে আমদানি করে থাকে৷

তাহলে অ্যামেরিকা কি তৈরি করবে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট কি মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে চান শুধু যাতে মার্কিন মুলুকে জামাকাপড়, টেলিভিশন বা টেলিফোন তৈরি হয়? এই সব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের না আছে কারখানা, না আছে কর্মী, না আছে জানকারি বা সাপ্লাই চেন – যা গড়ে তুলতে বিপুল প্রয়াস ও অর্থের প্রয়োজন পড়বে৷ দক্ষিণ কোরিয়া যে তাদের টেলিভিশন তৈরির জন্য চীনের কাছ থেকে ‘হার্ডওয়্যার' কিনে থাকে, সে ধরনের ভৌগোলিক সুবিধাও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থাকবে না৷ ওদিকে ‘মেড ইন অ্যামেরিকা'-র ফলে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে ও সাধারণ মার্কিনিদের ক্রয়ক্ষমতা কমবে৷

ট্রাম্পের পরিকল্পনার মূলে যে বিশাল পরস্পরবিরোধিতাটি রয়েছে, সেটি হলো এই যে, তিনি ঠিক তখন চাকুরি বাঁচানো বা সৃষ্টির কথা বলছেন যখন যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে৷ এছাড়া সম্প্রতি ডলারের (কিছুটা বাড়াবাড়ি রকমের) রমরমার ফলে মার্কিনিরা আরো বেশি বিদেশি পণ্য কিনতে পারছেন – যাকে ঠিক বিদেশিদের দোষ বলা চলে না৷

ওদিকে ট্রাম্প নিজে দেড় ট্রিলিয়ন ডলার পরিমাণ কর কমিয়ে ও বিভিন্ন বড় মাপের আর্থিক প্রেরণা কর্মসূচি ঘোষণা করে বাজার আরো গরম করেছেন: মার্কিনিদের হাতে টাকা বেড়েছে, কাজেই তারা আরো বেশি (বিদেশি) পণ্য কিনছেন৷

Winter Daniel Kommentarbild App

ড্যানিয়েল উইন্টার, ডয়চে ভেলে

আর্থিক শৃঙ্খলা

বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য ট্রাম্পের হাতে অন্যান্য পন্থা আছে, যেমন সরকারি বাজেট কমানো, উচ্চ আয়ের নাগরিকদের মার্কিন পণ্য কিনতে উৎসাহ দেওয়া বা শ্রমিক-কর্মচারীদের ব্যয়ের পরিবর্তে আরো বেশি সঞ্চয়ের প্রেরণা দেওয়া৷ 

যে সব দেশ মার্কিন পণ্য কিনে থাকে, তাদের শাস্তি দেওয়া ট্রাম্পের পরিকল্পনার পক্ষে আরো ক্ষতিকর৷ ইস্পাতের উপর শুল্কের দরুণ যুক্তরাষ্ট্রে ভোগ্যপণ্যের মূল্য বিশেষ বাড়বে না; কিন্তু ট্রাম্প যে চীনের বিভিন্ন পণ্যের উপর কোটি কোটি ডলারের শুল্ক বসাতে চলেছেন, তার অর্থ এই যে, তিনি ‘অ্যামেরিকাকে আবার মহান করার' পন্থা হিসেবে সংরক্ষণনীতিকেই বেছে নিয়েছেন – যার ফলে অ্যামেরিকা আরো গরিব হয়ে পড়তে পারে৷

ড্যানিয়েল উইন্টার/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়