ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনায় আরব লিগ | বিশ্ব | DW | 01.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

টিউনিশিয়া

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনায় আরব লিগ

গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের ভূমি হিসেবে ট্রাম্পের দেয়া স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করেছে আরব লিগ৷ আরব দেশগুলোর জোটের বার্ষিক সম্মেলন থেকে এই বার্তা দেয়া হয়েছে৷

দ্বৈরথ সত্ত্বেও অন্তত গোলান প্রশ্নে একজোট হতে পেরেছে ২২ আরব রাষ্ট্র৷ রোববার আরব লিগের সম্মেলনে দেশগুলোর নেতারা গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের সার্বভৌম অঞ্চল হিসেবে ট্রাম্পের দেয়া স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করেছে৷ টিউনিসিয়ায় একদিনের এই সম্মেলন শেষে চূড়ান্ত ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেন তাঁরা৷ এতে বলা হয়েছে, ‘‘আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গোলান সিরিয়ার অধিকৃত অঞ্চল৷''

যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নিন্দা প্রস্তাবের খসড়া পাঠানো হবে বলে জানান জোটের মহাসচিব আবুল ঘেইত৷ পাশাপাশি এই বিষয়ে আইনি মতামত দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি আহবান জানাবেন তাঁরা৷ বলেন, ‘‘আমরা আরব দেশগুলোর নেতারা টিউনিসিয়ায় একসাথ হয়ে গোলানের উপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ট্রাম্পের স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করছি ও এর নিন্দা জানাচ্ছি৷'' অন্য কোনো দেশ যাতে ওয়াশিংটনের পথ অনুসরণ না করে সেজন্যও সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি৷ 

সিরিয়ার সাথে সৌদি আরবের বৈরিতা থাকলেও এ বিষয়ে আলাদাভাবে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে সৌদি আরব৷ সম্মেলনে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ অন্য নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘গোলান মালভূমির উপর সিরিয়ার সার্বভৌম অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন যে-কোনো পদক্ষেপ তাঁর দেশ প্রত্যাখ্যান করে৷''

‘দখলতারিত্ব অপরাধ'

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরের সময় ট্রাম্প গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের সার্বভৌম ভূমি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন৷ ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর সিরিয়ার কাছ থেকে এই ভূমি দখল করে ইসরায়েল৷ ১৯৮১ সাল থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এটি নিজেদের দাবি করে আসলেও তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলেনি৷ ১৯৮১ সালে নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ার গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের আইন ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগকে অবৈধ পদক্ষেপ হিসেবে ঘোষণা করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল৷ সেখান থেকে সরে এসে ট্রাম্পের এই স্বীকৃতি দেশটির পররাষ্ট্রনীতির বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে৷

আরব লিগের মহাসচিব আবুল ঘেইত এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘‘দখলদারিত্ব একটি অপরাধ, সেটিকে জায়েজ করা আরেকটি পাপ৷'' সম্মেলনে অংশ নিয়ে একই মত দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস৷ গোলান হাইটসহ সিরিয়ার সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে যে-কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দেশটির আঞ্চলিক অখন্ডতা নিশ্চিত করার উপর জোর দেন তিনি৷ 

সিরিয়ার অনুপস্থিতি

এই সম্মেলনে সিরিয়ার কোনো প্রতিনিধি ছিল না৷ বিরোধীদের উপর প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের দমন নীতির কারণে ২০১১ সালে দামেস্কের সদস্যপদ স্থগিত করে আরব লিগের সদস্যরা৷ নিকট ভবিষ্যতে জোটে তাদের ফিরে আসার তেমন একটা সম্ভাবনা নেই৷ আসাদ বিরোধীদের সহযোগিতা দেয়া নিয়ে সৌদি আরব ও কাতারের সাথে দেশটির সরকারের টানাপড়েন চলছে৷ তবে মতবিরোধ দূরে রেখে গোলান প্রশ্নে একজোট হয়েছে তারা৷ যদিও ইয়েমেন, ইরান, লিবিয়া সংকট সেই সঙ্গে আলজেরিয়া ও সুদানের অস্থিরতা ঘিরে এখনও দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে৷  

এদিকে ইরানের সাথে সুসম্পর্ক রাখা এবং সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা দেয়ার অভিযোগে কাতারের সাথে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বন্দ্বেরও কোনো উন্নতি হয়নি৷ এই সম্মেলনেও যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে৷ ২০১৭ সালে দোহার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর প্রথমবারের মতো সৌদি আরব ও কাতার একই টেবিলে বসার সুযোগ পায়৷ কিন্তু উদ্বোধনের কিছুক্ষণ পরই সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ৷ তবে দেশটির প্রতিনিধিদের একটি দল সম্মেলনে উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে কাতারের গণমাধ্যম৷

এফএস/জেডএইচ (ডিপিএ, রয়টার্স, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন