ডোকলামের পর লাদাখ, চীনের প্ররোচনায় ভারতের অস্বস্তি | বিশ্ব | DW | 16.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

ডোকলামের পর লাদাখ, চীনের প্ররোচনায় ভারতের অস্বস্তি

ভারতের লাদাখ অঞ্চলে চীনের সেনাবাহিনীর একটি দল প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতীয় ভূখন্ডে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের রুখে দেয় ভারতীয় সেনা৷ এতে দুদেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে ধস্তাধস্তি ও পাথর ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে৷

মঙ্গলবার ভারতের ৭০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীর সকালে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার, একবার ভোর ৬টায় ও আরেকবার সকাল ৯টায় লাদাখের প্যানগং হ্রদ বরাবর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে চীনা সেনারা ভারতীয় ভূখন্ডে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে৷ ভারতের অভিযোগ, দুটো জায়গা দিয়ে জনা ১৫ চীনা সৈন্য ফিঙ্গার-৪ এবং ফিঙ্গার-৫ পয়েন্ট দিয়ে ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে ঢুকে পড়ে৷ দু'বারই ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী তা রুখে দেয়৷ সীমান্ত জওয়ানরা সেনা শৃংখল তৈরি করে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাঁদের বাধা দেয়৷ সে সময় দুদেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে হাতাহাতি হয়৷ দুপক্ষের মধ্যে শুরু হয় পাথর ছোড়াছুড়ি৷ তবে গোলাগুলি চলেনি৷ পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়৷

চীন ও ভারতীয় সেনা অফিসাররা বুধবার নিজেদের মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং করেছেন৷ বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনহিং এই হাতাহাতির খবর সম্পর্কে অবহিত নন বলে জানান৷ তাঁর মতে, চীনের সেনারা স্রেফ নিজেদের ভূখন্ডেই টহল দিয়ে থাকে৷ তিনি পাল্টা দাবি করেন, ডোকলাম থেকে ভারত তার ফৌজ সরিয়ে না নিলে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা হতে পারে না৷ তাই আলোচনার পূর্বশর্ত ভারতের সেনা প্রত্যাহার৷ তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ভারত সেনা না সরালে তার ফল ভুগতে হবে৷ দিল্লির প্রত্যুত্তর, উভয় পক্ষেরই উচিত তাদের পূর্ব অবস্থানে ফিরে যাওয়া৷ তবে পরিস্থিতির স্থিতাবস্থা আপাতত বজায় আছে৷

উল্লেখ্য, লাদাখ অঞ্চলে এই দুপক্ষের হাতাহাতি লড়াই, অন্যদিকে সিকিম সেক্টরে ভারত-চীন সেনা ৫০ দিন ধরে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে৷ ভারত ঐ এলাকায় চীনের সড়ক তৈরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়৷ কারণ যে জায়গা দিয়ে চীন রাস্তা তৈরি করতে চাইছে সেটা চীনের নয়৷ বস্তুত সেটা ভুটানের৷ দিল্লির আশংকা, ঐ এলাকায় চীন রাস্তা তৈরি করতে পারলে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির সঙ্গে ভারতের অন্য অংশের সংযোগ ইচ্ছা করলেই চীন বিচ্ছিন্ন করতে পারবে৷ এই ত্রিমুখী সংযোগস্থল স্ট্র্যাটিজিক্যালি বা নিরাপত্তার দিক থেকে ভারতের পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ দ্বিতীয়ত, ভুটানের সঙ্গে ভারতের যে প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে তাতে ভুটানের স্বার্থরক্ষা করতে ভারত চুক্তিবদ্ধ৷

ভারত ও চীনের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত৷ কিন্তু সরকারিভাবে সীমান্ত চিহ্নিতকরণ হয়নি বলে যত বিপত্তি৷ বছরে প্রায় ৪০০ বার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর এই ধরণের ঘটনা লেগেই থাকে৷ সীমান্ত লংঘন নিয়ে পারস্পরিক দোষারোপ চলতে থাকে৷ তবে এবার ডোকলাম সংকট একটা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে৷ চীনের হুঙ্কারে একটা যুদ্ধ যুদ্ধভাব৷ ভারতীয় সামরিক বাহিনী ভবিষ্যত পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য রেখে নিজেদের তৈরি রাখতে লাদাখের প্যানগং হ্রদের ভারতীয় দিকে স্পীড বোট তৈরি রেখেছে, রাডার ও সেন্সর বসিয়েছে৷

মঙ্গলবার স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, নিজেদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ভারত সক্ষম৷ তা সে জল, স্থল ও আকাশ সীমান্ত যেখানেই হোক৷ কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও প্রতিবেশী দেশগুলির প্রতিই যে এই বার্তা, সেটা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন৷ গত দু মাসেরও বেশি যাবত ভারত, ভুটান ও চীন সীমান্তে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি রয়েছে তার প্রেক্ষিতে মোদীর এই মন্তব্য তাত্পর্যপূর্ণ৷ পাশাপাশি চলেছে ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা৷ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ভুটান ও নেপালের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন কাঠমান্ডুতে৷ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, এবার ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে প্রতিবছর দুদেশের সেনা অফিসারদের মধ্যে যে প্রথাগত সৌজন্যসূচক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে, এবছর নাথুলা সীমান্তে তা বাতিল করা হয়৷ দিল্লির কূটনৈতিক মহলের ধারণা, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের দাদাগিরি মেনে নেবার জন্য চাপ সৃষ্টি করাই বেইজিং-এর আসল উদ্দেশ্য৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন