ডেল্টা সামলাতে নাস্তানাবুদ ইউরোপ | বিশ্ব | DW | 13.07.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইউরোপ

ডেল্টা সামলাতে নাস্তানাবুদ ইউরোপ

করোনা সংক্রমণ কমার ফলে বিধিনিয়ম শিথিল করে বিপাকে পড়েছে ইউরোপের অনেক দেশ৷ ডেল্টা সংস্করণের প্রকোপের ফলে নতুন করে নিয়ন্ত্রণ চাপাতে হচ্ছে৷ শুধু ব্রিটেন ঝুঁকি সত্ত্বেও সব নিয়ম তুলে নিচ্ছে৷

করোনা কিছুটা কমতেই ইউরোপের একাধিক দেশ তড়িঘড়ি করে বিধিনিষেধ শিথিল করেছিল

করোনা কিছুটা কমতেই ইউরোপের একাধিক দেশ তড়িঘড়ি করে বিধিনিষেধ শিথিল করেছিল

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার কিছুটা কমতেই ইউরোপের একাধিক দেশ তড়িঘড়ি করে  বিধিনিষেধ শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছিল৷ বিশেষ করে আরো ছোঁয়াচে ডেল্টা ভেরিয়েন্টের হুমকি সত্ত্বেও সেই বিপদ দূরে রাখতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি৷ ফলে সংক্রমণের হার আবার দ্রুত বেড়ে চলেছে৷ পরিস্থিতি সামলাতে আবার কিছু বিধিনিষেধ চালু করতে বাধ্য হচ্ছে সরকার ও প্রশাসন৷ গ্রীষ্মের ছুটির মরসুমে এমন বিপদ দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তুলছে৷ পর্তুগাল, স্পেন ও সাইপ্রাসের মতো দেশে পর্যটনের সুযোগ আবার খুলে যাবার পর সংক্রমণের হার দ্রুত বেড়ে গেছে৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলিতে করোনা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে বিলম্ব সত্ত্বেও গত কয়েক মাসে বিশাল সংখ্যক মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে৷ টিকার সরবরাহ নিয়েও আর তেমন কোনো সমস্যা দেখা যাচ্ছে না৷ কিন্তু এখনো ইউরোপের জনসংখ্যার একটা উল্লেখযোগ্য অংশ নানা কারণে করোনা টিকা পায় নি৷ টিকা কর্মসূচিতে গতি আনতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ তিনি সব স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য করোনা টিকা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা করেছেন৷ সিনেমা হল বা ট্রেনের মতো বদ্ধ জায়গায় প্রবেশ করতে হলে সে দেশে করোনা টিকা অথবা করোনা পরীক্ষার ফলাফল দেখাতে হবে৷ জাতির উদ্দেশ্যে টেলিভিশন ভাষণে মাক্রোঁ বলেন, দেশের প্রায় সব মানুষ করোনাটিকা না নিলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা কার্যত অসম্ভব৷ উল্লেখ্য, এখনো পর্যন্ত ইউরোপের একমাত্র দেশ হিসেবে শুধু ইটালি স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য করোনা টিকা বাধ্যতামূলক করেছিল৷ ফ্রান্স ও গ্রিসও এখন সেই পথে এগোচ্ছে৷

নেদারল্যান্ডস ও স্পেনের সরকার মাস্ক-সহ অন্যান্য বিধিনিয়ম তুলে নেবার পর আবার কিছু পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে৷ নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে পরিস্থিতির ভুল মূল্যায়নের কারণে জনসাধারণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন৷ স্পেনের কয়েকটি প্রদেশ এমনকি রাতে কারফিউ ও অন্যান্য বিধিনিয়ম আবার চালু করছে৷

ইউরোপের একমাত্র দেশ হিসেবে ব্রিটেন সংক্রমণের উচ্চ হার সত্ত্বেও আগামী সপ্তাহ থেকে করোনা সংক্রান্ত সব বিধিনিয়ম তুলে নেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন অবশ্য দেশবাসীর উদ্দেশ্যে সাবধনতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন৷ মহামারির ঝুঁকি  সত্ত্বেও তিনি আইনি পদক্ষেপের বদলে পরামর্শের ভিত্তিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান৷ দেশের প্রায় ৬৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক টিকার সব ডোজ পেয়ে যাওয়ায় জনসন আর বাকিদের জন্য বিধিনিয়ম চালু রাখার পক্ষে নন৷

জার্মানিতে কিছু বিধিনিয়ম শিথিল করা হলেও বদ্ধ জায়গায় মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে৷ ফলে সংক্রমণের হার সামান্য মাত্রায় আবার বেড়ে চললেও ইউরোপের বাকি অনেক দেশের তুলনায় পরিস্থিতি অনেক স্বাভাবিক৷ জার্মান কর্তৃপক্ষ এবার থেকে শুধু সংক্রমণের হারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অবকাঠামোর উপর মহামারির চাপ বিশ্লেষণ করতে অন্যান্য সূচক বিবেচনা করার উদ্যোগ নিচ্ছে৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েন্স স্পান বলেন, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ের মানুষের মধ্যে প্রায় সবাই করোনা টিকা পেয়ে যাবার ফলে সংক্রমণের হার বাড়লেও গুরুতর অসুস্থ মানুষের অনুপাত অনেক কম৷ মঙ্গলবার থেকে জার্মানির হাসপাতালগুলিকে এ সংক্রান্ত আরও তথ্য পাঠাতে হবে৷

এসবি/এসিবি (রয়টার্স, এপি, এএফপি)

সংশ্লিষ্ট বিষয়