ডেনমার্কের ‘আদর্শ’ দ্বীপের বিশ্বজোড়া আকর্ষণ | অন্বেষণ | DW | 18.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

ডেনমার্কের ‘আদর্শ’ দ্বীপের বিশ্বজোড়া আকর্ষণ

পুরোপুরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, শূন্য কার্বন নির্গমন, নিঃশব্দ পরিবহণ ব্যবস্থার স্বপ্ন অনেকেই দেখেন৷ ডেনমার্কের একটি দ্বীপে সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়ে উঠেছে৷ দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা সেই দৃষ্টান্ত দেখতে আসছেন৷

ডেনমার্কের সামসো দ্বীপ

ডেনমার্কের সামসো দ্বীপ

প্রকৃতির প্রতি আন্তরিক ভালবাসা থাকলেই বাল্টিক সাগরের উপর ডেনমার্কের সামসো দ্বীপে পাকাপাকি বাসা বাঁধা যায়৷ নীরব এই দ্বীপের পাহাড়ি অথচ মসৃণ নিসর্গ আইস এজ বা তুষার যুগের নিদর্শন৷ তবে টিনা ও তাঁর স্বামী বেন বছর তিনেক আগে শুধু এই সব কারণে কোপেনহেগেন ও আরহুস শহরের ব্যস্ততা ছেড়ে এখানে আসার সিদ্ধান্ত নেন নি৷

তাঁরা আসলে এক পরীক্ষার সময় এই দ্বীপে উপস্থিত থাকতে চান৷ সেখানকার মানুষ পৃথিবীকে বাঁচাতে সেই পরীক্ষা চালাচ্ছেন৷ টিনা মনে করিয়ে দেন, ‘‘টেকসই জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে সামসো দ্বীপ একেবারে প্রথম স্থানে রয়েছে৷ সেটা আমাদের কাছে জরুরি৷ বিশ বছর আগে এখানে যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে, তা আমাদের প্রেরণা জোগায়৷ আমরাও তার অংশ হতে চাই৷’’

দীর্ঘকালের উদ্যোগ

প্রায় ৩,৫০০ মানুষের এই দ্বীপটি ঘুরে দেখলে প্রথমে শুধু অতি মনোরম নিসর্গ চোখে পড়ে৷ ডেনমার্কের অন্য দ্বীপগুলির সঙ্গে তেমন কোনো পার্থক্য টের পাওয়া যায় না৷ ভালো করে লক্ষ্য করলে প্রথম প্রজন্মের অসংখ্য উইন্ডমিল এবং টাউন হলের সামনে বিশাল সৌর প্যানেল চোখে পড়বে৷ ইয়োর্গেন ট্রানব্যার্গের মতো চাষি এমন উদ্যোগের পথিকৃৎ৷ বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে তিনি দ্বীপের বাসিন্দাদের নিয়ে প্রথম বায়ুচালিত জ্বালানী কেন্দ্রের পার্ক গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন৷ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ইয়োর্গেন বলেন, ‘‘সে সময় যখন আমার প্রথম উইন্ডমিলের জন্য এক কোটি বিশ লাখ ক্রাউন বিনিয়োগ করলাম, তখন বেশ সমস্যা হয়েছিল৷ ব্যাংক বদল করে অনেক ঋণ নিতে হয়েছিল৷ শুধু ‘ধরিত্রী মা’-র জন্য কেউ এমন করে না৷’’

সে সময়ে ডেনমার্কের মূল ভূখন্ড থেকে তেল ও গ্যাসের উপর নির্ভরতা কমাতে তিনি সহায়তা করেছিলেন৷ আজ সেই উদ্যোগ থেকে যথেষ্ট মুনাফা হচ্ছে৷ শুধু বায়ু ও সৌরশক্তি নয়, গ্রীষ্মে যে খড় পাওয়া যায়, তা দিয়ে শীতকালে ঘর গরম রাখতে পারেন দ্বীপের বাসিন্দারা৷ ইয়োর্গেন ট্রানব্যার্গ বলেন, ‘‘এই খড় এখানেই গজায়৷ বিশ্বের অন্য কোনো প্রান্ত থেকে পেট্রোলিয়াম আসে৷ সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো বসন্তকালে আবার খড় গজায়৷ দারুণ সমাধান, তাই না?’’

বহুমুখী উদ্যোগ

ট্রানব্যার্গের ‘স্মার্ট' খড় ছোট এক চুল্লিতে বাড়িঘর গরম রাখার জন্য উত্তাপ সৃষ্টি করে৷ ফলে সামসো দ্বীপ ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে৷ কার্বন নির্গমন পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যও হাসিল করেছে স্থানীয় সমাজ৷ এলসেবেথ হোখ সেই পথ দেখাচ্ছেন৷ প্রতিদিন সকালে তিনি তাঁর ইলেকট্রিক গাড়ির প্লাগ খোলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ছাদের উপরেই যাকে বলে পেট্রোল পাম্প বসানো আছে৷ সৌরশক্তি দিয়েই গাড়ি চার্জ করা হয়৷ ব্যাপারটা এত সহজ৷’’

সাত বছর আগেই দ্বীপের কর্তৃপক্ষ শুধু বিদ্যুতচালিত সরকারি গাড়ি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল৷ ফলে ডিজেলচালিত গাড়ির তুলনায় ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমে গেছে৷ সেইসঙ্গে নির্গমনও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে৷

দিনে দুই-তিনবার এলসেবেথ গ্রুড্রুন হল্মের দেখাশোনা করতে আসেন৷ ৮৭ বছরের এই বৃদ্ধা প্রথমদিকে গাড়ির শব্দ না পেয়ে একটু বিরক্ত হতেন৷ পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানীর কারণে শব্দও দূর হয়েছে৷

সার্বিক সমন্বয়ই সাফল্যের চাবিকাঠি

এনার্জি অ্যাকাডেমিতে দ্বীপের সব ছোট প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় করা হয়৷ ১৯৯৭ সালে এই প্রতিষ্ঠান ডেনমার্কের সরকারের কাছ থেকে সামসো দ্বীপে ‘বিপ্লব' ঘটানোর দায়িত্ব পেয়েছিল৷ অ্যাকাডেমির সদস্য স্যোরেন হেরমানসেন বলেন, ‘‘আসল কথা হলো, কার্বন নির্গমন কমাতে আমরা সফল হয়েছি৷ প্রথমে শুধু সব চাহিদা মেটানো গেছে৷ আর এখন আমরা চাহিদার তুলনায় বেশি জ্বালানী উৎপাদন করছি৷ গোটা বিশ্বই সেই পথে অগ্রসর হতে চায়৷’’

বিশ্বের সব প্রান্ত থেকে অতিথিরা উপহার নিয়ে এসেছেন৷ বাল্টিক সাগরের উপর ছোট্ট এই দ্বীপ থেকে সব প্রতিনিধিদল প্রেরণা পেয়েছে৷

বেন আর টিনাও এই উদ্যোগে অবদান রাখতে চান৷ দ্বীপের অন্যান্য বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁরা জ্বালানী সাশ্রয়ের আরও পদ্ধতি সম্পর্কে ভাবনাচিন্তা করছেন৷ ২০২০ সালেই তাঁদের সর্বশেষ প্রকল্প শুরু হবার কথা৷ এর আওতায় ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যাত্রীবাহী ফেরি পরিষেবা শুরু হবে৷ অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি হালকা এই যান চালাতে খুব কম ডিজেলের প্রয়োজন হবে৷ টিনা কিয়ির বলেন, ‘‘পুরোপুরি বিদ্যুতচালিত যান হলে খুব ভালো হতো৷ কিন্তু এমন ব্যাটারি এখনো বিশাল বড় ও খুবই দামী৷ ফলে আপোশ হিসেবে ভবিষ্যতে সম্ভব হলেই আমরা ইঞ্জিন বদলে দেবো৷’’

বিশ্বের রক্ষাকর্তা হতে হলে কখনো কখনো বাস্তববুদ্ধি প্রয়োগ করতেই হয়৷

ক্রিস্টোফর সেল/এসবি

২০১৮ সালের মার্চের ছবিঘরটি দেখুন...

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন