ডিজিটাল আইন নিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা | বিশ্ব | DW | 27.09.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

ডিজিটাল আইন নিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা

তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার শিকার হচ্ছেন শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী৷ আর এরই মধ্যে সংসদে পাস হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন৷ এই অবস্থায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটিকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)৷

ইইউ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন পুনর্বিবেচনা ও আইনটি নিয়ে আরো আলোচনার আহ্বান জানায়৷  তারা সনে করে,‘ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের কয়েকটি ধারা বাকস্বাধীনতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমকে বাধাগ্রস্ত করবে৷

ইইউ সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মিশন প্রধান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড মিশন প্রধান একটি যৌথ বিবৃতি বলেন, ‘‘গত ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৮ পাস হয়েছে৷ এই আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি, যা স্বাধীন গণমাধ্যম, বাকস্বাধীনতা এবং বিচারিক প্রক্রিয়াকে নিশ্চিতভাবে অবমাননা করবে৷ এই আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা দমন করা হতে পারে৷''

বিবৃতিতে এই আইনের বিষয়ে আরো আলোচনা অব্যাহত এবং গত মে মাসে ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউতে দেওয়া প্রতিশ্রতিগুলো অনুসরণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়৷ তারা ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনটি ইউনিভার্সাল ডিক্লেয়ারেশন অব হিউম্যান রাইটস, দ্য ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস এবং বাংলাদেশের সংবিধানের আদলে তৈরির সুপারিশ করেছেন

গণমাধ্যমে পাঠানো ইইউ সদস্যভুক্ত দেশগুলোর যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশনের অ্যাম্বাসেডর মিসেস রেন্সজে টেরনিক, ইটালি, স্পেন, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার৷

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ব বিভাগের শিক্ষক মাইদুল ইসলামকে ৫৭ ধারার মামলায় কারাগারে পাঠানোর পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে৷ কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় ২৩ জুলাই মামলা করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইফতেখারুল  ইসলাম৷ হাইকোর্ট তাঁকে এই মামলায় অন্তবর্তীকালীন জামিন দিলেও সোমবার চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেনের আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নিদেশ দেন৷

শুরু থেকেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ (যদিও কমিটি নেই) মাইদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার এবং তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের দাবি জানিয়ে আসছিল৷

টট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক খ আর রাজী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা এখনো জামিন বাতিলের কাগজপত্র পাইনি৷ এ কারণে আপিল করতে পারছি না৷ কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোথা থেকে আদালতের আদেশ পেল এবং মাইদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করলো?  ফেসবুকে একটি লেখার জের ধরে তাঁকে জেলে যেতে হলো৷ আবার তাকে সাময়িক বরখাস্তও করা হলো অতি দ্রুত৷ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার প্রতি বৈরী আচরণ করছে৷''

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এত খারাপ সময় হয়তো বাংলাদেশে আসেনি৷ আমরা শিক্ষকরা যারা মুক্তিবুদ্ধির চর্চা করি, তারা ভয়ের মধ্যে আছি৷ আমাদের হাত-পা বেঁধে দেয়া হচ্ছে৷ এখন আবার আসছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন৷ আমরা কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না৷ এ কারণে সাংবাদিকতা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও বাক স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হবে৷''

অডিও শুনুন 03:29
এখন লাইভ
03:29 মিনিট

আমরা শিক্ষকরা যারা মুক্তিবুদ্ধির চর্চা করি তাঁরা ভয়ের মধ্যে আছি: খ আর রাজী

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ জন শিক্ষক বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছেন,‘‘আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি যে, এইক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের একটি যৌক্তিক আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করাকে অন্যায় হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তার শাস্তিস্বরূপ শিক্ষক মাইদুল ইসলামকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে৷ অথচ একটা সময়ে এই সমাজে শিক্ষকদের এমন প্রতিবাদী ভূমিকাকে যথোচিত এবং গৌরবজনক হিসেবেই গণ্য করা হতো৷ একটি গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক৷ কিন্তু মতভিন্নতার কারণে কাউকে হুমকি দেয়া হবে, তাঁকে তাঁর কাজের জায়গায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে, তাঁর চাকুরিচ্যুতির দাবি উঠবে--এমনটা মেনে নেয়া যায় না৷ বিশেষত, পাবলিকের পয়সায় চলছে যে প্রতিষ্ঠান, যার সাথে যুক্ত শিক্ষার্থী-শিক্ষকেরা নিজেদের জাতির বিবেক বলে মনে করেন, দাবি করেন, সেখানে এ ধরনের কণ্ঠরোধী চর্চা আমাদের উদ্বেগকে আরো বাড়িয়ে দেয়৷ আমরা স্পষ্ট দেখতে পাই, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়৷ সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে ভিন্নমতকে দমনের, ভয়ভীতির দেখানোর, নিপীড়নমূলক যে চর্চা শুরু হয়েছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববি্যালয়ের আলোচিত ঘটনাটি তারই অংশমাত্র৷ আজকের বাংলাদেশে দাগী, এমনকি খুনের আসামীর জন্য রাষ্ট্রপতি বিশেষ ক্ষমার আইনটি প্রয়োগ করেন, অথচ একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে মত প্রকাশের জন্য জেলে যেতে হয়৷ আমরা এই হুমকি এবং জেলজুলুমের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি৷''

খ্যাতিমান আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে আটক করা হয় ৫ অগাষ্ট৷ মামলা দায়ের করা হয় ওই ৫৭ ধারায়৷ তিনি এখনো জামিন পাননি, কারাগারে আছেন৷ ম্যাজিষ্ট্রেট ও দায়রা আদালত তাকে জামিন দেননি৷ জামিন আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বিব্রত হয়েছে৷ শহিদুলের আইনজীবীরা আরেকটি বেঞ্চে জামিনের আবেদন করেছেন৷ তবে শুনানির তারিখ পড়েনি৷ আর তাঁকে হাইকোর্ট কারাগারে ডিভিশন দিলেও তাঁর বিরুদ্ধে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ৷ ১ অক্টোর আবেদনের ওপর আপিল বিভাগে শুনানি হবে৷

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত তথ্য প্রযুক্তি আইনে তিন শতাধিক মামলা হয়েছে, যার অধিকাংশই ৫৭ ধারায়৷ আর এর আসামি হয়েছেন শিক্ষক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীসহ সাধারণ মানুষ৷

অডিও শুনুন 02:29
এখন লাইভ
02:29 মিনিট

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অচল বা কার্যকারিতা হরিয়েছে: নূর খান

মানবাধিকার কর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান ডয়চে ভেলকে বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে ৫৭ ধারার মামলায় কারাগারে পাঠানো হলো৷ শহিদুল আলমকে আদালত কারাগারে ডিভিশন দেয়ার পরও তা বাতিলের চেষ্টা৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমর্থক এক ছাত্রের ওপর হামলা এবং তাকে মেডিক্যাল সুবিধায় পরীক্ষার সুযোগ না দেয়া, এইযে অবস্থা এটাকে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক অবস্থা বলা যায় না৷ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অচল বা কার্যকারিতা হরিয়েছে৷ কর্তৃত্ববাদীতা থেকে আরো খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে৷ মানুষ এখন আর প্রতিবাদ করতে, সত্য বলতে সাহস পাচ্ছে না৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘ডিজিটাল আইন কর্যাকর হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে৷ তার নেতিবাচক প্রভাব আগামী নির্বাচনেও পড়বে৷ মানুষ ভোটের মাধ্যমে তার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারবেনা৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন