ডিএনএ পরীক্ষা করে উৎস খোঁজেন ‘কাঠের গোয়েন্দা′ | অন্বেষণ | DW | 20.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ডিএনএ পরীক্ষা করে উৎস খোঁজেন ‘কাঠের গোয়েন্দা'

জার্মানির ট্যুনেন ইনস্টিটিউটের ‘কাঠের গোয়েন্দারা' কাঠের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বলে দিতে পারেন, কাঠ কোথা থেকে এসেছে: ক্যামেরুন থেকে নাকি ঘানা থেকে৷ গরিব দেশ থেকে বেআইনি কাঠ পাচার রুখতে চান এই বিজ্ঞানীরা৷

ট্রপিক্যাল টিম্বার বা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্যের কাঠের চাহিদা এতোই বেড়েছে যে, ঘানার বৃষ্টিপ্রধান অরণ্য থেকে আসা কাঠ সারা বিশ্বে রপ্তানি হয়৷ জার্মানি অবশ্যই তার মধ্যে পড়ে৷

ট্যুনেন কেন্দ্রের কর্মী গেরাল্ড কখ জানালেন, ‘‘সাপেলি মেহগনি হলো আফ্রিকার সবচেয়ে মূল্যবান কাঠগুলির মধ্যে একটি৷ আগে মেহগনির পরিবর্তে সাপেলি কাঠ ব্যবহার করা হত৷ সাপেলির রঙ অনেকটা মেহগনির মতো, কাঠামো বানানোর জন্য খুব ভালো৷ আমাদের এখানে জানালার ফ্রেম বানানোর জন্য এবং মেঝে কাঠ দিয়ে মোড়ানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়৷ সাপেলি গাছ আফ্রিকার সর্বত্র পাওয়া যায়৷ বর্তমানে আফ্রিকার সবচেয়ে দামি কাঠগুলোর মধ্যে পড়ে এই সাপেলি৷''

বারো হাজার প্রজাতির কাঠ

হামবুর্গের ট্যুনেন ইনস্টিটিউটে সারা বিশ্ব থেকে কাঠ আসে৷ ইনস্টিটিউটের ১২ হাজার প্রজাতির কাঠের সংগ্রহ বিশ্বের বৃহত্তম সংগ্রহগুলির মধ্যে পড়ে৷

জার্মানিতে যে সব কাঠ আমদানি করা হয়, ইনস্টিটিউটের সংগ্রহের সঙ্গে মিলিয়ে তাদের উৎপত্তি পরীক্ষা করে দেখেন গেরাল্ড কখ৷ কোনো সংরক্ষিত প্রজাতির গাছ কাটা হয়ে থাকলে, সেটাও ধরা পড়ে কখ-এর পরীক্ষায়৷ কখ বললেন, ‘‘লোকে আমাদের কাঠের গোয়েন্দা বলে....প্রতিদিন আমাদের কাছে নতুন ‘কেস' আসে, যা আমাদের সমাধান করতে হয়৷''

সরকারি কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ব্যক্তি এই সব কাঠের নমুনা ট্যুনেন ইনস্টিটিউটে পাঠিয়ে থাকেন৷ কাঠের গোয়েন্দাদের কাজ হলো, যে কাঠের নাম দেখানো হয়েছে, নমুনায় সত্যিই সেই কাঠ কিনা, তা বের করা৷ অনেক সংগীতশিল্পী তাদের বাদ্যযন্ত্রে কোন কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানার জন্য ট্যুনেন ইনস্টিটিউটের দ্বারস্থ হন৷

কাঠের নমুনা জলে ফুটিয়ে নরম করে, পরে তা থেকে সরু সরু চাকতি কেটে নেওয়া হয়৷ সেই চাকতিগুলো পরীক্ষা করার সময় গেরাল্ড কখ ঠিক আসল গোয়েন্দাদের মতোই প্রথমে তাঁর অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করেন – বহু ধরনের কাঠ তিনি চোখে দেখেই বলে দিতে পারেন৷

সঠিক বিশ্লেষণের জন্য নমুনাগুলি মাইক্রোস্কোপের তলায় দেখা দরকার৷ কাঠের ধরণ বা প্রজাতি ভুল দেখানো হলে, তার জন্য জরিমানা হতে পারে৷

ইনস্টিটিউটের সংগ্রহে যে সব কাঠের নমুনা রয়েছে কখ তার সঙ্গে এই কাঠের নমুনা মিলিয়ে দেখেন৷ এখন পর্যন্ত তারা প্রতিটি কাঠের নমুনা শনাক্ত করতে পেরেছেন বলে কখ-এর দাবি৷ বিগত কয়েক বছরে নিয়ন্ত্রণ আরো কড়া হওয়ায়, কাঠের নাম ও জাতি ভুল দেখানোর ঘটনা কমে এসেছে৷ তবে ইনস্টিটিউটে পাঠানো নমুনাগুলির মধ্যে ১০ থেকে ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, কাঠের নাম ভুল দেখানো হয়েছে৷

কখ জানালেন, ‘‘বিশেষ করে কাটা কাঠের তক্তা ইত্যাদিতে কাঠের প্রকৃতি ভুল ঘোষণার সমস্যা থাকে৷ বাগানের জন্য কাঠের চেয়ারটেবিলেও অনেক সময় যে কাঠ দেখানো হয়েছে, বস্তুত তার অন্য কাঠ থাকে৷ সে সব ক্ষেত্রে আমরা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দিই৷''

কাঠের ডিএনএ

কাঠ পরীক্ষা করে চুরির হদিশও পাওয়া যেতে পারে৷ ট্যুনেন ইনস্টিটিউটে পাঠানো বিভিন্ন ধরনের কাঠের জেনেটিক পরীক্ষা করে সেই তথ্য জমিয়ে রাখা হয়, যাতে ভবিষ্যতে চোরাই কাঠ কোথা থেকে এসেছে, তার ডিএনএ থেকে তা বলে দেওয়া যেতে পারে৷

গাছের ছাল ও পাতা থেকে ডিএনএ বের করা হয়৷ গাছটা কোন দেশের বা এলাকার, সে অনুযায়ী তার ডিএনএ-র হেরফের থাকবে – যেন একটা আঙুলের ছাপ৷ কাজেই ঘানা থেকে যে কাঠ এসেছে, তাকে ক্যামেরুন থেকে এসেছে বলে ঘোষণা করা আর সম্ভব নয়৷ বেআইনি গাছ কাটার বিরুদ্ধে একটি নির্ভুল অস্ত্র এই জেনেটিক পরীক্ষা৷

ট্যুনেন ইনস্টিটিউটের আর এক ‘কাঠের গোয়েন্দা ব্যার্ন্ড ডেগেন বললেন, ‘‘বেআইনি গাছ কাটার ফলে শুধু যে পরিবেশের ক্ষতি হয়, তা নয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলির বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, কেননা তারা শুল্ক কম পায়৷ ওদিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গাছ কাটা চলে৷''

কাঠের গোয়েন্দাদের লক্ষ্য হল: গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপ্রধান অরণ্যের টেকসই, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার৷ শুধু যেখানে গাছ লাগানো হচ্ছে, সেখানেই শুধু গাছ কাটা চলবে৷

 

মাবেল গুন্ডলাখ/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন