ডাভোসে আশার কথা শোনালেন বিশ্ব নেতারা | বিশ্ব | DW | 27.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ডাভোস সম্মেলন

ডাভোসে আশার কথা শোনালেন বিশ্ব নেতারা

৪৮তম ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এবারের আয়োজনে দু'টো কথা সবার মনে থাকবে: প্রবল তুষারপাত এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি৷ এ বছরের আয়োজন নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন ডয়চে ভেলের মানুয়েলা কাসপার-ক্লারিজ৷

প্রতিবছরের জানুয়ারিতে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে এই সম্মেলনে অংশ নেন৷

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করবেন - তাঁর সঙ্গে একটা ছবি তোলার আশায় বিশ্বের ধনী ব্যক্তিরা তাঁদের দামি ফোন নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন৷ অথচ এর কিছুক্ষণ আগেই ডাভোসের কড়া নিরাপত্তা, রাস্তার যানজট নিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করেছিলেন তাঁরা৷ আর এই কড়া নিরাপত্তা যে ব্যক্তির কারণে, তাঁর সঙ্গে একটা ছবি তোলার জন্য পরে তাঁরাই অস্থির হয়ে উঠলেন...৷

এঁদের মধ্যে একজন জানালেন, তাঁর পরিবার সৌদি আরবে আছেন এবং তাঁরা ট্রাম্পের একটি ছবি চেয়েছেন৷ এরপর যথারীতি ট্রাম্প এলেন তাঁর মন্ত্রীদের সঙ্গে করে৷ তিনি সবার সাথে হাত মেলালেন এবং পরে অন্য একটি কক্ষে চলে গেলেন৷


মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক - এসব ইস্যুতে অনেকেই তাকিয়ে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প কী বক্তব্য দেন সেদিকে৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য অনেকটাই হতাশ করে সবাইকে৷ বক্তব্যে শুধু বলা হয়েছে অ্যামেরিকা কতটা মহান৷ অন্যান্য বিষয় তেমনভাবে উপস্থাপিত হয়নি৷ মনে হয়েছে ট্রাম্পের জন্য ডাভোস ছিল একটি ‘প্রচারমূলক আয়োজন'৷ এমনকি উপস্থিতদের কাছ থেকে কোনো প্রশ্নও নেয়া হয়নি৷

ট্রাম্প যখন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউস শোয়াবের একটি প্রশ্নের উত্তর দেয়া শুরু করেন, তখন গণমাধ্যম কর্মীরা থেকে শুরু করে প্রতিটি দর্শক তাঁকে দুয়ো ধ্বনি দিয়েছিল৷

এ বছর ডাভোসে এই সম্মেলন উপলক্ষ্যে হাজির হয়েছিলেন ৭০টিরও বেশি দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধান৷ এর বাইরে ছিলেন তিন হাজার অংশগ্রহণকারী৷ সম্মেলন শুরুর দিকে এতই তুষারপাত হচ্ছিল যে ২০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে সাত ঘণ্টা সময় লেগেছিল৷ বাস এবং ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল৷

ডাভোস অত্যন্ত ব্যয়বহুল জায়গা, এখানে একবাটি (ছোট) টমেটো স্যুপের দাম প্রায় ৩০ ডলার৷ হোটেলগুলোর প্রতিটি কক্ষ ভাড়া হয়ে যাওয়ায় বৈঠক করতে হয়েছে বাথরুমেও৷ যাঁরা কোনো কক্ষে বৈঠক করতে পেরেছেন, তাঁরা ছিলেন ভাগ্যবান৷ বিলিয়ন ডলার কোম্পানির সিইওদেরও ছোট চেয়ারে গাদাগাদি করে বসে বৈঠক করতে হয়েছে৷ এমনই একটি কোম্পানির সিইও জানান, ‘‘এটা কোনো মজার অভিজ্ঞতা নয়৷ তবে বিশ্বের এত বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী তো আর কোনো সম্মেলনে একসাথে হন না৷'' এছাড়া এই সম্মেলনটি কেবল ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের জন্যই নয়৷ এতে অসংখ্য এনজি-কর্মী, শরণার্থী সংস্থার কর্মী, বিজ্ঞানীরাও অংশ নেন বলে এটা অনেকের কাছেই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ৷



এবারের সম্মেলনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন লাগার্দ আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে৷ তবে এটা সম্ভব করতে হলে সবার একসাথে কাজ করতে হবে বলেও জানান তিনি৷ ডিজিটাইজেশনে বিনিয়োগের প্রতি তিনি জোর দিয়েছেন, যেটা জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলেরও চাওয়া৷

ডাভোসে বেশ কয়েকটি বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একে হুমকি হিসেবেই দেখেছেন আলোচকরা৷

তবে সম্মেলনের প্রথম কয়েকদিন যে বিষয়গুলো নিয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছে তা হলো: অরেথনীতিতে লিঙ্গবৈষম্যের প্রভাব এবং যৌনহয়রানি বন্ধে ‘মিটু' প্রচারণা৷ বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিতর্কের সময় উপ-প্রধান (কো-চেয়ার) ছিলেন নারীরা৷

নারীদের জন্য কম বেতন, অর্থাৎ লিঙ্গ ভিত্তিতে বেতন বৈষম্যের ব্যাপারটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে৷ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২১ ভাগই ছিলেন নারী৷ আগামী বছর হয়ত এতে কিছুটা পরিবর্তন আসবে, অর্থাৎ নারীদের অংশগ্রহণ আরো বাড়বে৷

মানুয়েলা কাসপার-ক্লারিজ/এপিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন