ডাকাতির মামলায় সিআইডির এসআই আকসাদুর গ্রেপ্তার! | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 09.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ডাকাতির মামলায় সিআইডির এসআই আকসাদুর গ্রেপ্তার!

রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় গত বছর একটি আলোচিত ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সিআইডির বরখাস্তকৃত এসআই আকসাদুর জামানকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে প্রকাশ, বুধবার রংপুরের মিঠাপুকুর থানা এলাকার শঠিবাড়ি বাজার এলাকা থেকে আকসাদুর জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাফিজ আকতার জানিয়েছেন৷

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মলনে তিনি বলেন, গত ১৯ অক্টোবর অপহরণের পর ডাকাতির ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় করা একটি মামলা ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ তাদের মধ্যে হাসান রাজা, গাড়ি চালক হারুণ অর রশিদ ওরফে সজীব, অটোরিকশা চালক জোনাব আলী এবং কায়ছার মাহমুদ ওরফে জাকির হোসেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আদালতে৷ তিনি বলেন, ‘‘সেই জবানবন্দি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সিআইডির এসআই আকসাদুরের নেতৃত্বে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ৷ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আকসাদুর জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে৷''

গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে এক প্রবাসীর অর্থ লুট থেকে ঘটনার শুরু৷ দুবাই প্রবাসী কাপড় ব্যবসায়ী রোমান মিয়া এই লুটের শিকার হয়ে মামলা করেন৷

মামলায় বলা হয়, রোমান মিয়া তার ফুফাতো ভাই মনির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে একটি অটোরিকশায় করে শাহজালাল বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন৷ কাওলা ওভারব্রিজের নিচে একটি মাইক্রোবাস তাদের আটকায়৷ গাড়ি থেকে দুজন নেমে এসে নিজেদের ‘ডিবির লোক' পরিচয় দিয়ে রোমানকে লাগেজসহ মাইক্রোবাসে তুলে নেয়৷ রোমানের অভিযোগ, গাড়ির ভেতরে তার হাতে হাতকড়া পড়িয়ে, চোখে কালো কাপড় বেঁধে মারধর করে তার কাছ থেকে ৫ হাজার মার্কিন ডলার, দুই হাজার দিরহাম, দুই হাজার টাকাসহ লাগেজটি ছিনিয়ে নেয়৷ পরে হাতকড়া খুলে রশি বেঁধে রামপুরা-স্টাফ কোয়ার্টার সড়কের পাশে তাকে ফেলে দিয়ে গাড়িটি চলে যায়৷

বিমানবন্দর থানায় করা সেই মামলার তদন্তভার পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ৷ মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করার পর হাসান রাজা ছাড়া পাঁচজনই ইতোমধ্যে জামিনে বেরিয়ে গেছেন৷

ডিবির তদন্ত তদারককারী কর্মকর্তা এডিসি কায়সার কোরায়শি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রথমে মাইক্রোবাসটি শনাক্ত করার পর তারা পুরো চক্রটির বিষয়ে জানতে পারেন৷ তখনই সিআইডি কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বেরিয়ে আসে৷ পরে জবানবন্দিতে আসামিরাও এসআই আকসাদুরের কথা বলেন৷ তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ সদর দপ্তর ও সিআইডিতে প্রতিবেদন পাঠানোর পর আকসাদুরকে বরখাস্ত করা হয়৷ সম্প্রতি একটি ফোনালাপের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এ ঘটনায় সিআইডির সঙ্গে গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তাদের জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সামনে আসে, যা নিয়ে বুধবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম৷

অডিওটিতে এক নারী ও এক পুরুষের কথোপকথনে কোটি টাকার বেশি লেনদেনের কথা উঠে এসেছে৷ সিআইডির উপপরিদর্শক আকসাদুর জামানের দাবি, এটা তার স্ত্রীর সঙ্গে মামলার তদন্ত দেখভালকারী ডিবি কর্মকর্তা কায়সার রিজভী কোরায়শির কথোপকথন৷ তবে এডিসি কোরায়শি অভিযোগ অস্বীকার করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, লুটের মামলা থেকে বাঁচতে এই ‘সাজানো অডিও টেপ তৈরি করেছেন' সিআইডি কর্মকর্তা আকসাদুর৷

বৃহস্পতিবার ডিবির সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাফিজ আকতার বলেন, ‘‘একটি অডিও ফাঁস হয়েছে৷ সেখানে বড় অংকের টাকা লেনদেনের কথা বলা হয়েছে৷ মামলার তদন্তের পাশাপাশি সেই টাকা কোথা থেকে এল, আমাদের কোনো কর্মকর্তা জড়িত আছে কিনা এসব বিষয় আমরা খতিয়ে দেখব৷''

এনএস/কেএম (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়