ডাইভারসিটির নিজস্ব সৌন্দর্য তুলে ধরছেন যে ফটোগ্রাফার | অন্বেষণ | DW | 12.08.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

ডাইভারসিটির নিজস্ব সৌন্দর্য তুলে ধরছেন যে ফটোগ্রাফার

আমাদের অবচেতন মনে ভিন্ন ধরনের মানুষের প্রতি কতটা অসহিষ্ণুতা জমে আছে, তা সব সময়ে উপলব্ধি করা যায় না৷ এক রুশ আলোকচিত্রী ডাইভারসিটির নিজস্ব সৌন্দর্য তুলে ধরতে অভিনব এক প্রকল্পে হাত দিয়েছেন৷

ফটো শিল্পী হিসেবে ক্রিস্টিনা ভাররাক্সিনা সমাজের বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলেন৷ প্রতিবন্ধকতা, যৌন অভিমুখীতা বা সাংস্কৃতিক ভিন্নতা তাঁর বিষয়বস্তু৷ মোটকথা, প্রথাবিরুদ্ধ সৌন্দর্যের এক প্রকল্প নিয়ে তিনি কাজ করছেন৷

লন্ডনে এক ফটোশুটিংয়ে তার মডেল নান্দিফা মতেম্বু এবং জুয়ান দিয়ন৷ দুজনেই অ্যালবিনিজম নামের জন্মগত ব্যাধিতে ভুগছেন৷ সঙ্গে রয়েছেন মিলি এলিস-ব্রাউন, যিনি নিজেকে পুরুষ বা নারীর সংজ্ঞাই দিতে চান না৷ এঁরাই রুশ ফটোগ্রাফার ক্রিস্টিনা ভাররাক্সিনার মিউজ বা প্রেরণা৷ ক্রিস্টিনা বলেন, ‘‘শুরুতে শুধু নারীদের সঙ্গে কাজ করতাম৷ তারপর বুঝলাম বিষয়টির ব্যাপ্তি আসলে অনেক বড়৷ তথাকথিত ‘নন বাইনারি ও ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরিত লিঙ্গের মানুষেরও একই সমস্যা হয় এবং তাদের কণ্ঠও শোনা হয় না৷ আমরা নিজেদের যেভাবে দেখি, যে সব মূল্যবোধ আঁকড়ে ধরি, তা সমাজের চাহিদার বিপরীত হতে পারে৷''

তাঁর ছবির প্রকল্পের নাম ‘এসেন্স অফ বিউটি'৷ এর মাধ্যমে তিনি সেই সব মানুষকে দৃশ্যমান করে তুলতে চান এবং মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে চান, যাঁদের কণ্ঠ বেশি শোনা হয় না৷ সেইসঙ্গে তিনি প্রথাগত সংজ্ঞার বাইরে সৌন্দর্য্যের রূপ তুলে ধরতে চান৷ নান্দিফা মডেল হিসেবে মতেম্বু বলেন, ‘‘অনেক মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হয়৷ নিজের কাহিনি তুলে ধরের সুযোগ সত্যি ক্ষমতায়নের পরিচয়৷''

আলোকচিত্রী হিসেবে ক্রিস্টিনা ভাররাক্সিনাবলেন, ‘‘আজ আমার তিন মডেলই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই গুণ আমার সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন৷ সেটা হলো অন্তরের শক্তি৷ তারা নিজেদের বুঝতে পেরেছেন এবং জগতে নিজেদের জায়গা পেয়েছেন, নিজেদের বিশ্বাস করতে ও ভালোবাসতে পেরেছেন এবং নিজেদের শরীর ও বৈশিষ্ট্য মেনে নিতে পেরেছেন৷''

ভিডিও দেখুন 04:24

ডাইভারসিটির নিজস্ব সৌন্দর্য এবং এক ফটোগ্রাফার

ক্রিস্টিনার তোলা ছবি আন্তর্জাতিক স্তরেও পরিচিতি পেয়েছে এবং নিউ ইয়র্ক থেকে মস্কো পর্যন্ত অনেক শহরের আর্ট গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়েছে৷ ২০১৯ সালে লন্ডনে আসার আগে তিনি দশ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করেছেন এবং সেখানে মাশা কিয়েখাইভার মতো শিল্পীর ছবি তুলেছেন৷

লকডাউনের সময় ‘শেভড হেড' নামের আত্মপ্রতিকৃতির দৌলতে তিনি ২০২০ সালে নেদারল্যান্ডসের ‘লেন্স কালচার ক্রিটিক্স চয়েস' পুরস্কার পেয়েছেন৷ একই বছর ‘ক্যাট গ্রেস' নামের ছবির জন্য ব্রিটেনের ফটোগ্রাফার্স অ্যাসোসিয়েশনের ‘সিলভার উইনার' হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি৷

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পরিচিত মহল এবং এজেন্সির মাধ্যমে তিনি ছবির মডেল খুঁজে পান৷ জুয়ান দিয়ন ও নান্দিফা মতেম্বু আগেও মডেল হিসেবে কাজ করেছেন৷ জুয়ান দিয়ন বলেন, ‘‘নানা ধরনের সৌন্দর্য্য এবং সৌন্দর্য্যের ভিন্ন মানদণ্ডের স্বীকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি৷ কারণ আমাদের জগত নানা ধরনের মানুষে ভরা৷ এমনটা হওয়া জরুরি৷''

মডেল হিসেবে মিলি এলিস-ব্রাউন মনে করেন, ‘‘এই মুহূর্তে নারীদের সম্পর্কে এবং নারী হওয়ার অর্থ সম্পর্কে তুমুল তর্কবিতর্ক চলছে৷ এটা ২০২১ সাল৷ এমনটা বদলানোর সময় এসে গেছে৷''

ক্রিস্টিনা নিজের ফটোর মাধ্যমে সেই পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে চান৷ তিনি বলেন, ‘‘মানুষ যে ভিন্ন হতে পারে এবং নিজেদের সম্পর্কে তাদের ভিন্ন অনুভূতি থাকতে পারে, আমাদের সবাইকে সে কথা মনে করিয়ে দিতে হবে৷ আমার মতে, এমন ডাইভার্সিটির অস্তিত্ব সত্যি খুব জরুরি৷''

এই আলোকচিত্রী নিজের প্রকল্পের জন্য সব মিলিয়ে ৩০ জন মানুষকে তুলে ধরতে চান৷ ‘এসেন্স অফ বিউটি' সেই বৈচিত্র্যের বার্তা বহন করবে বলে তাঁর মনে আশা রয়েছে৷

ডিয়ানা পিনিয়েরোস/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়