ট্রোলিং-এর ফাঁদ পাতা ভুবনে | বিশ্ব | DW | 12.01.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

ট্রোলিং-এর ফাঁদ পাতা ভুবনে

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ট্রোল ইদানীং মারাত্মক আকার ধারণ করেছে৷ সুযোগ পেলেই কোনও বিশিষ্ট মানুষকে বিদ্ধ করা হচ্ছে নানা সমালোচনায়৷ সম্প্রতি ইন্টারনেটে ট্রোলিংয়ের ঘটনাগুলো চিন্তা বাড়িয়েছে৷

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বিশিষ্টজনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমিয়ে দিয়েছে৷ এক্ষেত্রে লঘু-গুরু মাপকাঠি নেই কোনো৷ কখনও অজয় দেবগণ-কাজলের মেয়ে কিশোরী নিশা ‘প্যান্ট পরতে কি ভুলে গিয়েছেন?' কেনো আম্বানিদের বিয়েবাড়িতে বচ্চন পরিবার খাবার পরিবেশন করেছিল? ব্যস, ট্রোলড করে দাও৷ কখনো বিয়েতে বাজি পুড়িয়ে ট্রোলড হচ্ছেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া তো কখনও আমির খান তার নতুন চলচ্চিত্রের জন্য৷

ট্রোলের যন্ত্রণাথেকে বাদ যায়নি টলিউডও৷ নায়ক দেব অহরহ ট্রোলিংয়ের শিকার হন৷ ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তরুণী দিতিপ্রিয়া রায়কে ট্রোল করার ঘটনা হইচই ফেলেছিলো৷ টিভি ধারাবাহিকের সংলাপ নিয়ে আক্রমণের মুখে পড়েছেন তিনি৷ একটি অনুষ্ঠানে বেসুরো গান গেয়েছেন, এই অভিযোগেও বিদ্ধ করা হয় তাঁকে৷ গোড়ায় ট্রোলের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করলেও একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী দিতিপ্রিয়া এখন হাল ছেড়ে দিয়েছেন৷ তাই এনিয়ে মুখ খুলতে চাননি ডয়চেভেলের কাছেও৷ তাঁর আশঙ্কা, ফের যদি ট্রোলিং শুরু হয়!

অডিও শুনুন 03:25
এখন লাইভ
03:25 মিনিট

‘সাইবার যুগে তারকাদের সঙ্গে দূরত্ব একেবারেই ঘুঁচে গিয়েছে’

এ বিষয়ে আর্টিস্ট ফোরামের সম্পাদক অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় ট্রোলের নিন্দা করলেও এর ইতিবাচক দিকটির উপর জোর দিয়েছেন৷ তাঁর মতে, ‘‘দিতিপ্রিয়া অভিনেত্রী, গান গাওয়ার কথা নয়৷ তাই গানের জন্য অভিনেত্রীর সমালোচনা করা উচিত নয়৷ আবার এই ট্রোলিংয়ের জন্য দিতিপ্রিয়া প্রচারও পেয়েছেন৷''

রূপালি জগতের অভিনেতাদের ভাবমূর্তি একসময় ছিল ‘লার্জার দ্যান লাইফ'৷ দক্ষিণ ভারতে তারকাদের দেবতার আসনে বসানো হয়৷ তাহলে কি সোশ্যাল মিডিয়া তাঁদের সাধারণের একজন করে তুলছে? অরিন্দমের বক্তব্য, ‘‘সেলুলয়েডের তারকারা টিভি আসার পর ঘরের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন৷ দূরত্ব তখনই কমেছিল৷ কিন্তু, সাইবার যুগে তাঁদের সঙ্গে দূরত্ব একেবারেই ঘুঁচে গিয়েছে৷''

ট্রোল দুনিয়ায় সাহিত্যিকরাও রেহাই পান না৷ কবি শ্রীজাতকে তাঁর কবিতার জন্য ট্রোলের মুখে পড়তে হয়েছিল৷ জুতো পালিশ নিয়ে অতি সম্প্রতি কবি সুবোধ সরকার বিচিত্রভাবে ট্রোলের শিকার হয়েছেন৷ কবি কলকাতার ফুটপাতে জুতো পালিশ করিয়ে একটা গর্হিত কাজ করেছেন বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্বর ট্রোলিং শুরু হয়৷ এ ব্যাপারে তিনি ডয়চেভেলেকে বলেন, ‘‘খুবই অশ্লীল ও কুরুচিকর ভাষায় আমাকে আক্রমণ করা হয়েছে৷ বলা হয়েছে, মানুষের মুখের ওপর পা তুলে জুতো পালিশ করাচ্ছেন৷''

অডিও শুনুন 07:24
এখন লাইভ
07:24 মিনিট

‘কিছু মানুষ আছে যারা ট্রোল করতে ভালোবাসে, এটাই করে বেড়ায়’

সুবোধ বলেন, ‘‘কিছু মানুষ আছে যারা ট্রোল করতে ভালোবাসে, এটাই করে বেড়ায়৷ আজকাল কেউ অটোগ্রাফ নেয় না, সেলফি নেয়৷ যে কোনও ছবি তুলে নিজের মতো ব্যাখ্যা করে দেয়৷ শ্মশানেও সেলফি তুলতে চেয়েছিলেন একজন, আমি হাত জোড় করে রেহাই পেয়েছি৷ কিন্তু সব জায়গায় তো রেহাই মেলে না৷'' সুবোধ জানান, গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে এভাবেই ছবি ওঠে, সেলফি ওঠে, তার অপব্যাখ্যাও চলে সমানতালে৷ তারপর ট্রোল করা শুরু৷ সোশ্যাল মিডিয়ার এটা খারাপ, বিপজ্জনক দিক বলে মনে করেন তিনি৷

রাজনীতির নানা প্রসঙ্গে ট্রোলিং নিয়মিত হয়েই চলেছে৷ যেমন, হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে প্রচার করছেন অভিযোগে কংগ্রেস কর্মী গৌরব গগৈ ও মিতা চক্রবর্তীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল৷ ভারতে থাকলে হিন্দুত্বের বিরোধিতা করা যাবে না, এই ছিল ট্রোলিংয়ের মূল বক্তব্য৷ কংগ্রেস নেতা ও আইন বিশেষজ্ঞ অরুণাভ ঘোষের বক্তব্য, ‘‘আমার পোস্টেও ট্রোল করে অনেকে৷ সেগুলি বেশিরভাগই অশিক্ষার ফসল৷ কীভাবে এই প্রবণতা বন্ধ করা যায়, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনাও চলছে৷'' অরুণাভ বলেন, ‘‘মানহানির মামলা করাই যায়৷ কিন্তু, সেই মামলার নিষ্পত্তি হতে ১০-১২ বছর লেগে যায়৷ তখন আর তার প্রাসঙ্গিকতা থাকে না৷ তাই আইনই আছে, সেটা কাজে আসে না৷ বিশিষ্টজনেরা অবশ্য আইনি পথে হেঁটে পুলিশের সাহায্যেই এর মীমাংসা চান৷ কবি সুবোধ সরকার বলেন, ‘‘পুলিশের দ্বারস্থ হওয়াটাই একমাত্র উপায়৷ আমার ছাত্র মনিশঙ্কর লালবাজারে অভিযোগ জানিয়েই ঠিক করেছে৷ এভাবেই অসভ্যতা বন্ধ করা উচিত৷''

ভিডিও দেখুন 02:37
এখন লাইভ
02:37 মিনিট

ট্রোলের যন্ত্রণা

ট্রোল সংস্কৃতি কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তার নমুনা সাম্প্রতিককালে মিলেছে বহুবার৷ ‘বাঁকুড়া মিম' নামের একটি ফেসবুক পাতায় অশালীনভাবে পোস্ট হওয়া থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পাওলি দাম বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেউই রেহাই পাননি৷ কলকাতা পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে অতিরিক্ত জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভে কিছু বিকৃত মানসিকতা দেখা যায়৷  পুলিশের সাইবার সেল খেয়াল রাখে এসব৷ পুলিশের চোখে ধুলো দিতে অ্যাডমিন পাল্টে বা পেজের নাম ঘুরিয়ে দেওয়া হয়৷ সম্প্রতি নেতাজি সুভাষচন্দ্রের ছবি বিকৃত করে ও অশ্লীল পোস্ট করার জন্য এক যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে৷

তবে কোনটা সীমা আর কোনটা সীমার বাইরে, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক নিখিল নির্মল সেই বিতর্ককে উস্কে দিয়েছেন৷ কয়েকদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়৷ তাতে দেখা গিয়েছে, নিখিল নির্মল ও তাঁর স্ত্রী নন্দিনী কৃষ্ণন এক তরুণকে থানার মধ্যে মারধর করছেন৷ নন্দিনীর ফেসবুক ফ্রেন্ড বিনোদকুমার সরকার নামের ওই তরুণের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জেলাশাসকের স্ত্রীকে ফোন ম্যাসেজে আপত্তিকর কথা বলেছেন৷ নন্দিনী ফেসবুকে তাঁদের কৃতকর্মের পক্ষে সাফাই দেওয়ায় কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন৷ আইনের রক্ষক হিসাবে যিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত, সেই জেলাশাসক নিজের হাতে আইন তুলে নিয়েছেন৷ কেন করলেন এমন কাজ? এর উত্তর জানার জন্য জেলাশাসক ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল৷ কিন্তু, জানিয়ে দেওয়া হয়, তাঁরা এখন কথা বলবেন না৷ এই ঘটনার জেরে প্রথমে ছুটিতে পাঠানো হয় নিখিলকে৷ বৃহস্পতিবার জেলাশাসকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন