ট্রিপ আর লাভের ফাঁদে যাত্রী জীবন | আলাপ | DW | 28.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ট্রিপ আর লাভের ফাঁদে যাত্রী জীবন

বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ২০-২২ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন৷ গতবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন৷ তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই পথচারী৷ আর্থিক ক্ষতির হিসাবে বছরে এর পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা৷

বাংলাদেশে সড়ক মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল অনেকটাই স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে৷ প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু আর প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন৷ যেন একটি রুটিন ওয়ার্ক৷ গত ৩ এপ্রিল ঢাকার কারওয়ানবাজারে দুই বাসের পাল্লায় তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেনের হাত কাটা পড়ার ঘটনায় আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে সড়ক দুর্ঘটনা৷ দুই বাসের মাঝে রাজীবের আটকে যাওয়া কাটা হাতের ছবি ছাপে বাংলা দৈনিক প্রথম আলো৷ ঐ ছবিটিই মানুষকে নাড়া দেয়৷ সেই ছবি ভাইরাল হয়৷ মানুষ আবার সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে৷ শেষ পর্যন্ত রাজীবকে বাঁচানো যায়নি৷ থামেনি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে বা দুই বাসের চাপে যাত্রী বা পথচারীর মৃত্যুর ঘটনা৷ কিন্তু মানুষ কথা বলছে এই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে৷ চাইছে এর অবসান৷

দুর্ঘটনার নতুন কারণ সামনে এসেছে

দুই বাসের চাপায় রাজীবের হাত আটকে গিয়ে কেটে যাওয়া এবং তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরিবহণ মালিক এবং শ্রমিকের একটি মানসিকতা জানা গেছে৷ সড়ক দুর্ঘটনার একটি কারণ সামনে এসেছে, যা প্রচলিত ধারণার বাইরে৷ বেপরোয়া গাড়ি চালানোর মূল কারণ কী, তা জানা গেছে৷ আর তা হলো মালিকদের মুনাফার লোভ৷ ঢাকা শহরে পরিবহণ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন চালকদের ওপর৷ তাদের কোনো বেতন নেই৷ মালিক প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চালককে গাড়ি দিয়ে দেন৷ চালককে ঐ টাকা দিন শেষে মালিককে দিতেই হবে৷ এর বাইরে যা আয় হবে, তা থেকেই আয় নেবেন চালক এবং বাসের কন্ডাকটার, সুপারভাইজার, হেলপার৷ তাই কাকভোরে শুরু হয় প্রতিযোগিতা৷ কে কত বেশি ট্রিপ দিতে পারে, কত বেশি যাত্রী তুলতে পারে তার প্রতিযোগিতা৷ একটি বাসকে আরেকটি বাসের পেছনে ফেলার প্রতিযোগিতা৷ একটি বাস যাত্রী তুলতে গেলে তাকে চাপিয়ে রাস্তার আরেক পাশে হটিয়ে দেয়া৷ যাত্রী তোলার পাদানির কাছে আরেকটি বাস এমনভাবে অবস্থান নেয় যাতে যাত্রী সহজে উঠতে না পারে৷ এই প্রতিযোগিতা এবং মরণ রেসের শিকার হন যাত্রী, পথচারী সবাই৷

তাহলে প্রশ্ন, দূরপাল্লার বাস মহাসড়কে কেন বেপরোয়া গতিতে চালায়? সেখানেও উত্তর একই রকম৷ বাসের ড্রাইভার, হেলপার বা কন্ডাকটার বাসের মাসিক বেতনের কোনো কর্মচারী নন৷ তাঁদের ভাতা বা বেতন দেয়া হয় ট্রিপের ওপর৷ ট্রিপ নেই তো বেতন নেই৷ উলটে যত বেশি ট্রিপ, তত বেশি টাকা৷ মালিকের লাভ চালকের লাভ৷ আর মাঝখানে মহাসড়কে বাড়ে মৃত্যুর মিছিল৷

অডিও শুনুন 02:38

‘মুনাফার লোভেই মালিক কম দামে ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামায়’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউট (এআরআই)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মুনাফার লোভেই মালিক কম দামে ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামায়৷ ঐ গাড়ি চালাতে সে কোনোভাবেই দক্ষ ড্রাইভার খুঁজবে না৷ সে খুঁজবে কে তাকে দিনের চুক্তির টাকা দেবে৷ কে তাকে বেশি ট্রিপ দেবে৷ তাই চালকদের দায়ী করার আগে আমাদের মালিকদের নিয়ে ভাবতে হবে৷ তাদের দায়িত্বশীলতা এবং আইনের মধ্যে আনতে হবে৷''

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মালিকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না৷ ট্রিপ অনুযায়ী অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ দৈনিক টাকা দেয়ার ভিত্তিতে চালকদের হাতে গাড়ি দিয়ে দেয়াই সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ৷ চালকরা যেহেতু নির্দিষ্ট বেতন পাননা তাই তারা বেশি ট্রিপ মেরে বেশি টাকা আয় করতে চান৷ তার তো পরিবার আছে৷ তাকে তো টিকে থাকতে হবে৷ ফলে তার ঘুমানোর সুযোগ কম থাকে৷ ক্লান্ত শরীর নিয়ে গাড়ি চালায়৷ মালিকরা বেশি মুনাফার লোভে চালকদের এটা করতে বাধ্য করে৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘এখন এই মালিকরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত৷ তাঁদের কেউ সংসদ সদস্য অথবা তাঁরা আমলা বা পুলিশের লোক৷ ফলে আইন করে পরিবহণ ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলায় আনা কঠিন৷ তারা মনে করে, তাতে তাদের ব্যবসা কমে যাবে৷ কিন্তু পরিবহণ ব্যবসায় শৃঙ্খলা আনলে তাদের মুনাফা কমবে না, বরং বাড়বে, এটা তাদের বোঝাতে হবে৷ এ জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা৷ কারণ সংসদে এখন ৭০ ভাগের বেশি ব্যবসায়ী৷ তাই তারা না চাইলে হবে না৷ আমাদের উচিত হবে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা৷''

অডিও শুনুন 06:13

‘মালিকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না’

অন্যান্য কারণ ও পরিসংখ্যান

সড়ক এবং গণপরিবহণ নিয়ে কাজ করে এ রকম প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক গবেষণা আছে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে৷ তারা বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার কিছু সাধারণ কারণ নির্ণয় করেছেন৷ এর মধ্যে আছে: ১. ভাঙাচোরা এবং ত্রুটিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত সড়ক, ২. ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ৩. চালকদের অদক্ষতা ৪. মাদকাসক্তি ও চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার, ৫. বেপরোয়া গতি এবং ৬. ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা৷ এছাড়া যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার, রাস্তায় ফুটপাত না থাকার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে৷

যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য মতে, ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭,৩৯৭ জন৷ আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ১৯৩ জন৷ ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে৷ তারা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে৷ তাদের হিসাবে, ২০১৬ সালে ৪ হাজার ৩১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৫৫ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৯১৪ জন আহত হয়েছিল৷ আগের বছরের তুলনায় ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ৷ নিহত ২২ দশমিক ২ শতাংশ এবং আহত ১ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে৷ ২০১৭ সালে আহতদের মধ্যে হাত-পা বা অন্য কোনো অঙ্গ হারিয়ে পঙ্গু হয়েছেন ১ হাজার ৭২২ জন৷

যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জিডিপির কমপক্ষে দুই শতাংশ৷ এছাড়া বছরে ৫০ হাজার পরিবার সরাসরি এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷''

‘নিরাপদ সড়ক চাই' (নিসচা)-এর তথ্য অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিন বছরে ১৫ হাজার ৭২৯ জন নিহত ও ২২ হাজার ১৯২ জন আহত হয়েছেন৷ আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই আবার চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন৷

অডিও শুনুন 12:45

‘বছরে ৫০ হাজার পরিবার সরাসরি এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়’

ছয়টি জাতীয় দৈনিকের তথ্য নিয়ে প্রস্তুত নিসচার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা দেশে ২০১৪ সালে ২ হাজার ৭১৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে৷ পরের বছর দুর্ঘটনার সংখ্যা ৮৭টি কমে হয়েছে ২ হাজার ৬২৬টি৷ ২০১৬ সালে ২ হাজার ৬২৬টি থেকে আরও ৩১০টি কমে দুর্ঘটনার সংখ্যা হয়েছে ২ হাজার ৩১৬৷ ২০১৪ সালের তুলনায় পরের দুই বছর দুর্ঘটনার সংখ্যা গড়ে ৭ দশমিক ৫১ শতাংশ হারে কমেছে৷ কিন্তু ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে৷ চলতি বছরেও বাড়তির দিকে৷

বাংলাদেশে মোট যানবাহনের কত অংশের রাস্তায় চলাচলের ফিটনেস আছে আর কতভাগ চালকের যথাযথ প্রশিক্ষণ আছে, তা অনুসন্ধান করলেই সড়ক দুর্ঘনার বড় দু'টি কারণ খুঁজে বের করা যাবে৷

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যমতে, সারা দেশে চলাচল করছে প্রায় ৩০ লাখ যানবাহন৷ এর মধ্যে ঢাকায় চলছে প্রায় ১১ লাখ৷ আর সারা দেশে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা ১ লাখ ৬০ হাজার, যার এক-তৃতীয়াংশ বা ৫০ হাজারের বেশি চলে রাজধানীতে৷ এইসব যানবাহনের চালকদের মধ্যে ২০ লাখের বিআরটিএ-র লাইসেন্স আছে৷

তবে যাত্রীকল্যাণ সমিতি মনে করে, এই হিসাবে অনেক ফাঁক আছে৷ বাস্তব পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ৷ তাদের মতে, সারা দেশে যানবাহনের চালকের সংখ্যা ৭০ লাখ৷ মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, ‘‘তাদের মধ্যে শতকরা ১৫ ভাগের মতো চালকের দক্ষতা বা প্রশিক্ষণ আছে৷ অনেক লাইসেন্সধারী চালক আছেন যাদের প্রশিক্ষণ নেই৷ তবে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, চালকদের শতকরা ৩৫ শতাংশের বয়স ১৫ বছরের নীচে৷ যাদের শিশুই বলা যায়৷ আর বাংলাদেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৩১ লাখ৷ তাদের মধ্যে ১০ লাখের মতো যানবাহনের ফিটনেস নেই৷ ফিটনেস ছাড়াই বাকি ২১ লাখ যানবাহন সড়ক মহাসড়কে চলছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘আরো ভয়াবহ তথ্য হলো, নিবন্ধন ছাড়া আরো ১৯-২০ লাখ যানবাহন আছে, যা ঢাকার উপকণ্ঠে এবং ঢাকার বাইরে চলাচল করে৷ এই যানবাহনগুলো স্থানীয়ভাবে গ্যারেজে তৈরি৷ এই হিসাব ধরলে দেশে এখন যানবাহন চলছে ৫০-৫১ লাখ৷ অনিবন্ধিত যানবাহন ভুয়া নাম্বার প্লেট বা পুলিশকে ম্যানেজ করে চলে৷''

বাংলাদেশে চালকদের প্রশিক্ষণের জন্য কোনো ভালো প্রতিষ্ঠান নেই৷ হেলপার থেকেই ওস্তাদ ধরে ধীরে ধীরে চালক হয়ে ওঠা এখানে রেওয়াজ৷ তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী এক লাখ চালককে মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা বলেছেন৷

২০১৭ সালে ১ হাজার ২৪৯টি বাস, ১ হাজার ৬৩৫টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ২৭৬টি হিউম্যান হলার, ২৬২টি কার, জিপ, মাইক্রোবাস, ১ হাজার ৭৪টি অটোরিকশা, ১ হাজার ৪৭৫টি মোটরসাইকেল, ৩২২টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৮২৪টি নছিমন করিমন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে৷ আর এখানেই পরিবহণের নানা শ্রেণি স্পষ্ট৷ ব্যাটারিচালিত রিকশা, নছিমন করিমন, হিউম্যান হলার এদের কোনো নিবন্ধন নেই৷ এগুলো অবৈধ যানবাহন৷ আর দুর্ঘটনার শীর্ষে আছে বাস ও ট্রাক৷

এআরআই-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘‘বাংলাদেশের পুরো পরিবহণ ব্যবস্থা মুনাফাকেন্দ্রিক হওয়ায় এক নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে৷ উন্নত বিশ্বে পরিবহণে সাবসিডি দেয়া হলেও আমাদের এখানে তা দেয়া হয় না৷ আর এই খাত মনিটর এবং নিয়ন্ত্রণের জন্যও কোনো কার্যকর প্রতিষ্ঠান নেই৷ যা আছে তাদের জনবল খুবই সামান্য৷ আর সেই জনবলও দক্ষ নয়৷''

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে সড়ক দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখা হয়৷ এখানে চালকের গাফিলতি, বেপরোয়া চালনা, অযোগ্যতা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এগুলো বিবেচনায় নেয়া হয় না৷ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, ‘‘এ সব কারণে দুর্ঘটনাকে তো দুর্ঘটনা বলা যায় না৷ এগুলো হত্যাকাণ্ড৷ কিন্তু প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে আইনের পরিবর্তন হচ্ছে না৷ তাদের বিচারের আওতায় আনা যাচ্ছে না৷ মালিকদের আইন ও বিচারের আওতায় আনার সময় এসে গেছে৷ তাদেরই দায় বেশি৷ আর সবার উপরে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে৷''

সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মন্টু, তারেক মাসুদসহ সর্বশেষ রাজীবের ঘটনায় আদালত ক্ষতিপূরণের আদেশ দিলেও আপিলসহ নানা জটিলতায় কারুর পরিবারই এখনো ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি৷

অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউট-এর মতে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ৭০ ভাগই পথচারী৷ তবে যাত্রীকল্যাণ সমিতি তাদের গবেষণায় এই সংখ্যা ৫১-৫৫ ভাগ বলছে৷ এক্ষেত্রে পথচারীদের একাংশকেও দায়ী করছেন কেউ কেউ৷ সড়ক ব্যবহার নীতিমালা না মানা, ফ্লাইওভার এবং আন্ডারপাস ব্যবহার না করা, ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার, ফুটপাত ব্যবহার না করে মূল সড়কে চলাচল, হেডফোন বা মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তায় চলাচল, ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনে ওঠা নামা – এ সবকে দায়ী করা হয়৷ তবে ফুটপাথ দখল হয়ে যাওয়া এবং বাসে চলন্ত অবস্থায় ওঠা- নামায় বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ আছে৷ আর বেপরোয়া ড্রাইভিং-এর কারণে পথচারীরা ফুটপাতহীন বা দখল হয়ে যাওয়া ফুটপাথের সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হন৷

এর সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ এবং ভাঙাচোড়া সড়কতো আছেই৷ ব্র্যাক-এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক এবং বাঁকের ক্ষেত্রে সড়ক নিরাপত্তার জন্য যে ধরনের নিরাপত্তা সাইন আর গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করার কথা তা করা হয় না৷ ফলে বাঁকে অতিরিক্ত গতিতে এসে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে৷ অনেক সেতুর দু'পাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী ও নিরাপত্তার জন্য রেলিংয়ের সঙ্গে কোনো ওয়াকওয়ে নেই৷ বঙ্গবন্ধু সেতুর দুই পাশে সোজা রাস্তা এসে হঠাৎ ইন্টারক্রসিংয়ে মিলে যাওয়ার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে৷ কিছু টাকা বাঁচানোর জন্য সড়ক ও সেতু নির্মাণে এ ধরনের বড় ত্রুটি রেখে দেয়া হচ্ছে, যার পরিণতি হচ্ছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা৷ তাদের মতে, শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশি সড়ক ত্রুটিপূর্ণ৷ ওই একই গবেষণায় বলা হয়, ৫৯ শতাংশ চালক ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালান না৷ অধিকাংশ চালকের সড়ক নিরাপত্তা বাতি এবং সাইন সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই৷

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা বা এ নিয়ে মতামত লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন