ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি কি বদলাবেন বাইডেন? | বিশ্ব | DW | 20.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি কি বদলাবেন বাইডেন?

ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে কি বদল আনতে পারেন জো বাইডেন? লিখছেন, ক্যাথরিন শেয়া।

বহু বছর লড়াই চলার পর ইয়েমেনের ৮০ শতাংশ মানুষ মানবিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল।

বহু বছর লড়াই চলার পর ইয়েমেনের ৮০ শতাংশ মানুষ মানবিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল।

গত পনেরো দিন ধরে ট্রাম্প প্রশাসন তাড়াহুড়ো করে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে তাদের নীতি রূপায়ণ করতে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত সপ্তাহে তারা ইরানের সাহায্যপ্রাপ্ত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে ঘোষণা করেছে, ডিসেম্বরে একজন ইরাকি ও একাধিক ইরানি কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পশ্চিম সাহারার বিতর্কিত এলাকায় মরক্কোর সার্বভৌমত্বও স্বীকার করে নেয়া হয়েছে। 

এ সবই করা হয়েছে ইরানকে কোণঠাসা করতে এবং ইসরায়েলকে সাহায্য করতে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সব পদক্ষেপকে সম্ভবত মার্কিন ভোটদাতাদের একটি অংশ সমর্থন করবে।  তা সত্ত্বেও এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রবল সমালোচনাও হচ্ছে।

ট্রাম্পের নীতির প্রতিক্রিয়া

ব্রাসেলসের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ক্রাইসিস গ্রুপ গত সপ্তাহে বলেছে, মার্কিন কর্মকর্তারা তাড়াহুড়ো করে যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তার প্রতিক্রিয়া সুদূরপ্রসারী হবে। তাদের যুক্তি, হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ফলে ইয়েমেনে যে এইড এজেন্সিগুলি কাজ করছে, তাদের অসুবিধা হবে। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তার মতে, এর ফলে সেখানে বড়সড় দুর্ভিক্ষ হতে পারে। গত ৪০ বছরের মধ্যে এই দুর্ভিক্ষ হবে সব চেয়ে তীব্র।

ইরাকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়েছে. গত সপ্তাহে ফতেহ আল-ফায়াদের উপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে তা মানা যায় না। এই সিদ্ধান্তের কথা শুনে তাঁরা অবাক হয়ে গেছেন।  আল-ফায়াদ হলেন স্থানীয় একটি আধাসামরিক বাহিনী পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সের প্রধান। ইরান তাদের সমর্থন করে। বিশ্লেষক সাজাদ জিয়াদ ২০২০ সালের জুলাইতে সাবধান করে দিয়ে বলেছিলেন, ''মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরাকি রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রতিক্রিয়া হবে। এর ফলে মার্কিন বাহিনীর ইরাক ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রবল চাপ তৈরি হবে।''

মরক্কো নিয়ে সিদ্ধান্তের সমালোচনা

পশ্চিম সাহারার উপর মরক্কোর দাবি দীর্ঘদিনের। এটা হলো সব চেয়ে বেশিদিন ধরে চলা আঞ্চলিক বিবাদ।  মরক্কোর দাবি মেনে নেয়ার পর ট্রাম্প প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন। মনে করা হচ্ছে, মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু করার ফলে তাদের এই উপহার দিলেন ট্রাম্প। 

ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শদাতা জন বল্টনের মতে, ''এটা হলো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং খুব নগ্নভাবে দেয়া-নেয়ার নীতি।'' বিদেশ নীতি সংক্রান্ত একটি পত্রিকায় বল্টনের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকা প্রোগ্রামের ডিরেক্টর জুলিয়ান বার্নেস-ডেসি বলেছেন, ''ট্রাম্পের খেলা হলো,  বিদেশনীতির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নীতি মিশিয়ে দেয়া। যখন পদে থাকার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তখন ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা দেখানোর চেষ্টা করছে। ট্রাম্প কিছু উত্তরাধিকার রেখে যেতে চান। তিনি অ্যামেরিকাকে একটি নির্দিষ্ট দিকে এমনভাবে নিয়ে যেতে চান, যাতে বাইডেন এসেও তার বদল করতে না পারেন।'' 

বাইডেন প্রশাসন কি এই সব সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবেন? যদি তারা বদলাতে চান, তা হলে কতদিনে তা হবে এবং এই প্রক্রিয়া কতটা জটিল হবে?

বদল করতে মাত্র একদিন লাগে

বার্লিনের হের্টি স্কুলের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক মেরিনা হেনকের মতে, ''তত্ত্বগতভাবে কিছু পরিবর্তন করা খুবই সহজ। টেকনিক্যালি, একদিনেই অনেক সিদ্ধান্ত বদল করা যেতে পারে।''

যেমন, মরক্কো নিয়ে ট্রাম্প একটি ঘোষণা করেছেন মাত্র। মার্কিন কংগ্রেস অনুমোদন না করলে, এটা আইনি রূপ পেতে পারে না। নতুন প্রেসিডেন্ট আরেকটি ঘোষণার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারেন।

প্রশাসনিক নির্দেশ ও প্রেসিডেন্টের মেমোরেন্ডামও একইভাবে কাজ করে। জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তা বদলে দিতে পারেন।

তুলনায় কোনো বিদেশি সংস্থাকে একবার সন্ত্রাসবাদী চিহ্নিত করার পর তার থেকে সরে আসার পদ্ধতি কিছুটা জটিল। সেক্ষেত্রে বিদেশমন্ত্রী প্রথমে জানাবেন, তিনি সিদ্ধান্ত বদলাতে চান। তারপর কংগ্রেসের হাতে সাতদিন সময় থাকবে আপত্তি জানানোর। ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে কংগ্রেস গত রোববারের মধ্যে আপত্তি জানাতে পারত। তবে তারা জানায়নি।

জঙ্গিদের সঙ্গে কথা?

হেনকে বলেছেন, কংগ্রেস অন্য বিষয় নিয়ে ব্যস্ত ছিল। এখানেই বিষয়টি কিছুটা জটিল হয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, ''পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে যেসব বিষয় ভোট আনতে পারে, তা নিয়ে ট্রাম্পের বিদেশমন্ত্রী মাইক পম্পেও একটি ন্যারেটিভ তৈরি করেছেন। যেমন, ইরান, চিন ও কিউবা। বাইডেন যদি এই সব নীতি নিয়ে তাড়াহুড়ো করেন, তা হলে রিপাবলিকানরা বলবেন, বাইডেন আসলে সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছেন। তবে তাঁরা যদি কিছুদিন অপেক্ষা করেন, তা হলে প্রেসিডেন্ট  বিতর্ক ছাড়া এই সিদ্ধান্ত বদল করতে পারবেন।''

আরব-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে

বিদেশনীতির কয়েকটি বিষয় বাইডেনও সম্ভবত বদলাতে চাইবেন না। বার্নেস-ডেসি ডিডাব্লিউকে বলেছেন, ''আরব দেশগুলির সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করাকে দুই পক্ষই সমর্থন করে। মার্কিন দূতাবাস জেরুসালেমেনিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও সম্ভবত বাইডেন বদলাবেন না।''

যেখানে মানবিক কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, সেখানে বাইডেন কিছু পরিবর্তন করতে পারেন। বার্নেস-ডেসি বলেছেন, ''ইয়েমেনে বাইডেন সরাসরি সিদ্ধান্ত বাতিল না করলেও কিছু পরিবর্তন করতে পারেন। যেমন মাববিক সাহায্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দিতে পারেন।''

ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যারি পেরিলগার মনে করেন, ''এখানে রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি বড় ভূমিকা নেবে। তবে ইরান, সিরিয়া, ইরাকের স্টেট অ্যাক্টরদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত বদল করা অনেক বেশি কঠিন।''

ইরান নিয়ে

লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সের সিনিয়ার ফেলো ইয়ান ব্ল্যাক মনে করেন, ''আসল বিষয় হলো ইরান-চুক্তি। এ নিয়ে প্রবল চাপ আছে। ট্রাম্প অবশ্য ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলি যাতে ইরানের বিরোধিতা করে তার জন্য চেষ্টা করে গেছেন।''

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান চুক্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অনেকটা সময় লাগবে। কারণ, এর সঙ্গে ইরান এবং সেদেশের মানুষ ও সংস্থার বিরুদ্ধে জারি করা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আছে। এ সব নিয়ে কাজ করতে সময় লাগবে। পেরিলগার মনে করেন, এক বছর সময় লাগতে পারে। কারণ, বাইডেনের সামনে প্রচুর ঘরোয়া, সমস্যা আছে।

ক্যাথরিন শেয়া/জিএইচ