ট্রাম্পের ‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা’-র কৌশলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া | বিশ্ব | DW | 23.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আফগানিস্তান

ট্রাম্পের ‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা’-র কৌশলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

অবশেষে আফগানিস্তানের জন্য নয়া কৌশল ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র৷ ন্যাটোর সদস্যদের কেউ কেউ এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে, আবার কেউ কেউ আরো পরিষ্কার ধারণা দাবি করেছে৷

২০১৬ সালে আফগানিস্তানের যুদ্ধ সমাপ্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷ সেই প্রতিশ্রুতি ভেঙ্গে সোমবার নতুন করে সেখানে অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেন৷

তবে ন্যাটো সদস্যরা যা শুনতে চেয়েছিল- কতজন সেনা নতুন করে মোতায়েন করা হবে- সে ঘোষণা দেননি৷ অবশ্য পাকিস্তানের দিকে অভিযোগের তীর ছুঁড়ে দিয়ে জঙ্গিবাদ নির্মূলে ট্রাম্পের নতুন এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে কাবুল৷

‘‘কত সেনা মোতায়েন করা হবে, তা নিয়ে এখনই কথা বলতে চাই না,'' ট্রাম্প বলেন৷ ‘‘সেখানকার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই কৌশল নির্ধারিত হবে৷ অ্যামেরিকার শত্রুরা আগে থেকে আমাদের পরিকল্পনা জেনে যাবে, এটা হতে পারে না৷ কবে আঘাত হানা হবে, সেটা বলতে চাই না, তবে এটা বলতে চাই যে আঘাত আমরা হানব৷''

‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা'

ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন সাবেক ন্যাটো কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিক হামদাম৷ তিনি বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা না বললেও আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধের ঘোষণা ট্রাম্প দিয়েছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ৷

আফগানিস্তান বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হামদাম জানান, এই ঘোষণা সরাসরি দেখার জন্য কাবুলের মানুষ সোমবার ভোর থেকেই টিভিসেটের সামনে অপেক্ষা করছিলেন৷

‘‘আফগানিস্তানের জন্য দিনটি ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ,'' ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলছিলেন তিনি৷ ‘‘আর কোনো ঘোষণার জন্য আমরা এতদিন অপেক্ষা করে ছিলাম না৷ আফগানরা এতটাই খুশি যে, তারা মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো কখনোই আফগানিস্তানকে একা ফেলে যাবে না৷''

তালিবানকে দমন করার জন্য পাকিস্তানেরও মদদ চাওয়ায় ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন হামদাম৷ কারণ, তালিবানদের মূল শক্তির উৎস যে পাকিস্তানে, এ বিষয়টি এর আগে কোনো মার্কিন নীতিনির্ধারক উচ্চারণ করেননি৷

‘‘তালিবান ও এ অঞ্চলের অন্য জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর অভয়ারণ্য পাকিস্তান- এ বিষয়ে আর চুপ থাকার কোনো সুযোগ নেই৷'' বলছিলেন ট্রাম্প৷ ‘‘পাকিস্তান সেসব জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে লালন করেছে, যারা প্রতিনিয়ত আমাদের লোকদের হত্যা করছে৷ আমরা পাকিস্তানকে হাজার কোটি টাকা দিচ্ছি৷ অথচ তারা সেসব জঙ্গিদেরই আশ্রয় দিচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করছি৷''

হামদাম বলেন, ‘‘গত ১৬ বছর ধরে আফগানরা যা বলতে চাইছিলেন, সেই কথাগুলোই এসেছে এই ঘোষণায়৷ এই সমস্যার একটি আঞ্চলিক সমাধান দরকার, যা বাস্তবায়নে সবসময়ই পাকিস্তানকে একটি বাধা হিসেবে দেখি৷ আরো পরিষ্কার করে বলতে গেলে, ২০০১ সালের পর থেকে পাকিস্তান তালিবান ও অন্য জঙ্গিগোষ্ঠীদের লালন-পালন, প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ ও রাজনৈতিক প্রশ্রয় দিয়ে আসছে৷ ট্রাম্পের কৌশলে এই বিষয়গুলোকে পরিষ্কারভাবেই তুলে আনা হয়েছে৷''

সংখ্যার অপেক্ষায় ন্যাটো

এদিকে ব্রাসেলসে, ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টোলেনবার্গও ট্রাম্পের ‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা' নেয়ার কৌশলকে স্বাগত জানিরয়েছেন৷ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘‘ন্যাটো আফগানিস্তানের কাছে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷ সেক্রেটারি ম্যাটিস ও আমাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের নিয়ে আমি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে চাই৷''

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘‘ন্যাটো সদস্য ও সহযোগীরা আফগানিস্তানে উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে সংকল্পবদ্ধ৷ দেশটিতে এখন এই জোটের ১২,০০০ সেনা মোতায়েন আছে৷ গেল কয়েক সপ্তাহে আরো ১৫টিরও বেশি দেশ আমাদের এ ধরনের মিশনে সেনা সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে৷''

স্টোলেনবার্গ আরো বলেন, যেসব সেনা মোতায়েন আছে তার সিংহভাগই যুক্তরাষ্ট্রের৷ সেক্ষেত্রে ন্যাটোর যে সম্মিলিত ফোর্স সেখানে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সেনা যোগ করবে না, তাঁরা নিজেরা আলাদাভাবে অভিযান পরিচালনা করবে, সেটা পরিষ্কার হওয়া দরকার৷

এদিকে, ট্রাম্পের ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কত সৈন্য মোতায়েন করবে সেটি না জানা পর্যন্ত ন্যাটোর অপর সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের অবস্থান পরিষ্কার করবে না৷

আফগান সাংবাদিক ও লেখক বিলাল সারওয়ারি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘দিন দিন মাঠ পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে৷ তালিবানরা নতুন নতুন এলাকার দখল নিচ্ছে এবং আঘাত হানছে৷ এ অবস্থায় নতুন সেনা মোতায়েন করা হলে তারা সেখানে কী ভুমিকায় থাকবে সেটিও বড় বিষয়৷''

জার্মানি ও অন্য সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্রের অপেক্ষায়

ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় বলেছিলেন যে, ন্যাটোর অপর সদস্য রাষ্ট্রগুলোও তাঁকে সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশাবাদী৷ কিন্তু ন্যাটো বিশেষজ্ঞ জার্মান মার্শাল ফান্ডের সিনিয়র ফেলো ব্রুনো লেটে বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত আফগানিস্তানে প্রায় এক হাজার ইউরোপীয় সৈন্য নিহত হয়েছেন৷ অথচ সেখান থেকে আশানুরূপ কোনো সাফল্য এসেছে বলে ইউরোপ মনে করে না৷''

জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন পরিষ্কারভাবেই বলেছেন যে, আফগানিস্তানে নতুন করে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি অতটা সহজভাবে নেবে না জার্মানি৷

একইভাবে এসব মিশনে অর্থ খরচের বিষয় আছে৷ সেটিও বিবেচনায় থাকবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা৷

লেটে মনে করেন, যদি বিষয়টি এমন হয় যে, আফগান সেনাদের জঙ্গিবাদ দমনে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, তাহলে ইউরোপ এক কথায় রাজি হয়ে যাবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়