ট্যাম্পন, স্যানিটারি ন্যাপকিনে কর বাতিল করলো জার্মানি | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 10.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

ট্যাম্পন, স্যানিটারি ন্যাপকিনে কর বাতিল করলো জার্মানি

পিরিয়ড পণ্য কোনো বিলাসপণ্য নয়, ঘোষণা দিয়ে ট্যাম্পন, স্যানিটারি ন্যাপকিন ও অন্যান্য পণ্যের ওপর কর বাতিল করলো জার্মানি৷

জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্দোলন চলছিল স্যানিটারি ন্যাপকিন, ট্যাম্পন, মেনস্ট্রুয়াল কাপ ও অন্যান্য পিরিয়ড পণ্যের ওপর কর কমানোর দাবি ঘিরে৷ সেই আন্দোলনের আঁচ এসে পড়েছিল ভারত, বাংলাদেশেও৷ ২০১৮ সালে ভারত এই কর রদ করে৷ গত এক দশকে ক্যানাডা, ভারত, কেনিয়ার মতো দেশে বাতিল হয়েছে এই কর, যা পরিচিত ‘ট্যাম্পন ট্যাক্স' নামে৷

এতদিন পিছিয়ে থাকার পর অবশেষে জার্মানিও হাঁটছে একই পথে৷ বৃহস্পতিবার জার্মান সংসদে ভোটাভুটির হিসাব বলছে, শিগগিরই রদ করা হবে এই কর৷

সিগারেট, ওয়াইনের সাথে সাথে এতদিন জার্মানিতে পিরিয়ড পণ্যও ছিল ‘বিলাস পণ্য'র তালিকায়৷ এই কর বাতিল চাওয়া রাজনীতিকরা বলে এসেছেন, এই পণ্যগুলি নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু, যার অভাব সহজেই নারীর স্বাভাবিক কর্মক্ষমতাকে ক্ষতি করে৷

এই একই বক্তব্য ছিল ভারতে এতদিন৷ কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা এখনও সত্য৷

আসলেই কি বিলাসিতা?

দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পরে ২০১৮ সালে ভারতের আইনে বদল ঘটিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় প্যাড বা ট্যাম্পনের ওপর থেকে এই বিলাস পণ্যের তকমা৷ পাশাপাশি, অক্ষয় কুমারের মতো জনপ্রিয় বলিউড তারকার পৃষ্ঠপোষকতায় একই বছরে মুক্তি পায় ‘প্যাডম্যান' ছবি, যার মূল গল্প নারীর স্বাভাবিক জীবনে স্যানিটারি ন্যাপকিনের গুরুত্ব নিয়ে চিন্তিত এক যুবকের জীবনী৷ পিরিয়ডসংক্রান্ত ট্যাবু ভাঙতে সরব হচ্ছেন সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ৷

এসএনভি বাংলাদেশের একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, বাংলাদেশের নারীদের মোট ৮৯ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় সাত কোটি নারী পিরিয়ডের সময় ছেঁড়া ন্যাকড়া, বস্তার টুকরো বা গাছের পাতা ব্যবহার করেন, যেখান থেকে হতে পারে একাধিক রোগ৷

২০১৪ সালের বাংলাদেশ ন্যাশনাল হাইজিন বেসলাইন সমীক্ষা বলছে, বাজারে ৬০ থেকে ২০০ টাকা দামের যে স্যানিটারি প্যাড পাওয়া যায়, তা ব্যবহার করেন মোট নারী জনসংখ্যার মাত্র ১০ শতাংশ৷ অনেক নারীর পক্ষে এই দামে প্যাড কেনা সম্ভব না৷ সুতরাং দেশের বেশির ভাগ নারীর নাগালের বাইরে রয়ে যাচ্ছে এই সব পণ্য৷ বর্তমানে, স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানির ওপর বাংলাদেশে রয়েছে ৪০ শতাংশ ভ্যাট৷ দেশজ প্যাডের ওপরেও রয়েছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট৷

জাতিসংঘ বলছে, দক্ষিণ এশিয়ায় স্যানিটারি ন্যাপকিন ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের অভাবে স্কুলে যেতে পারে না এই অঞ্চলের এক তৃতীয়াংশ মেয়েরা৷ বয়ঃসন্ধির পর তাই শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে সরে যায় অনেক মেয়েরা৷ এমন পরিস্থিতি বদলাতে অবিলম্বে প্রয়োজন ‘ট্যাম্পন ট্যাক্স' বাতিল, মনে করেন সমাজকর্মী লিসা গাজী৷

ম্যাক্সিমিলিয়ান কসচিক, লুকাস হানসেন, লেওনি ফন হামমারস্টাইন/এসএস (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন