টেস্ট শুরুর আগে মেয়েদের প্রস্তুতিতে মনোযোগ ক্রিকেট বোর্ডের | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 03.04.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

টেস্ট শুরুর আগে মেয়েদের প্রস্তুতিতে মনোযোগ ক্রিকেট বোর্ডের

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল আইসিসির টেস্ট মর্যাদা পেলেও ক্রিকেট বোর্ড এক্ষেত্রে কোন তাড়াহুড়া করতে চায় না৷ যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েই মেয়েদেরকে ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণের লড়াইয়ে নামানোর পরিকল্পনা বোর্ডের৷

অনেকটা চাওয়ার আগেই পাওয়া৷ তাই বলে সেটি মোটেও অপ্রত্যাশিত নয়৷ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির লড়াইয়ে নিজেদের সামর্থের প্রমাণ আগেই দিয়েছেন সালমারা৷ ০১১ সালে ওয়ানডে স্ট্যাটাস পায় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল৷ সাত বছর পর ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক শিরোপর স্বাদ পায় মেয়েরা৷ সেবছর এশিয়া কাপের ফাইনালে শক্তিশালী ভারতকে টি-টোয়েন্টিতে হারিয়ে দেশকে শিরোপা উপহার দেন জাহানারারা৷ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই যুগ পথ চলার পরও পুরুষদের জাতীয় দলের জন্য যা এখনও অধরা৷

অবশ্য ক্রিকেটের দীর্ঘ সংস্করণে বাংলাদেশের মেয়েরা এখনও ঘরোয়া ম্যাচে অংশ নেয়ারও সুযোগ পাননি৷ আইসিসির সিদ্ধান্তে এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেই লাল বলের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার দুয়ার খুলে গেল তাদের৷ মেয়েদের ক্রিকেটে পূর্ণ সদস্য সব দেশকেই টেস্ট মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি বোর্ড৷ পূর্ণ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটাররাও তাই টেস্টের আঙিনায় প্রবেশের সুযোগ পেলেন৷

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এটিকে নারী ক্রিকেটারদের জন্য ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে৷ তবে প্রস্তুতি ও অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টিও তারা মাথায় রাখছেন৷ বিসিবির নারী বিভাগের ম্যানেজার তৌহিদ মাহমুদ বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তেমনটাই জানিয়েছেন৷ ‘‘আমি মনে করি, বাংলাদেশের মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য এটি খুব ইতিবাচক একটি ব্যাপার৷ মেয়েদের ক্রিকেটে আমরা হয়তো একটা সময় পর টেস্ট মর্যাদার জন্য আবেদন করতাম৷ সেটা আগেভাগেই পেয়ে গেলাম৷ এখন খেলোয়াড়রা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত থাকবে৷ আরও অনেক বেশি মেয়ে ক্রিকেটকে ইতিবাচকভাবে নেবে,'' বলেন তিনি৷

আইসিসি যে গাইডলাইন পাঠাবে সেটি ধরেই এগুবে বিসিবি৷ তবে সবার আগে ঘরোয়া ক্রিকেটকে সাজাতে চায় কর্তৃপক্ষ৷ মেয়েদের জন্য যত দ্রুত সম্ভব বড় দৈর্ঘ্যের টুর্নামেন্ট শুরুর পরিকল্পনা তাদের৷ তৌহিদ মাহমুদ বলেন, ‘‘ওরা এখন কেবল ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি খেলে, হঠাৎ করে তিন কিংবা চারদিনের ম্যাচ খেলতে নামলে মানিয়ে নিতে ওদের সমস্যা হতে পারে৷ এ জন্য প্রাথমিকভাবে আমরা দুই দিনের ম্যাচ দিয়ে শুরু করতে চেয়েছিলাম৷ অন্তত বড় দৈর্ঘের ক্রিকেটটা শুরু হোক৷ আইসিসির এই সিদ্ধান্ত আমাদের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করবে৷ টেস্ট তো আর হঠাৎ করে খেলা যাবে না৷ একটা প্রস্তুতির ব্যাপার আছে, খেলোয়াড় তৈরির ব্যাপার আছে৷''

আর খেলোয়াড় তৈরির বিষয়টিও রাতারাতি হওয়ার নয়৷ তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা চাই৷ সেটিকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ক্রিকেট বোর্ড৷ বিসিবির নারী ক্রিকেট বিভাগের প্রধান শফিউল ইসলাম চৌধুরি নাদেল বিডিনিউজকে বলেন, ‘‘স্কুল ক্রিকেট, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট চালুর পর মেয়ে ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়ছে৷ এই সংখ্যাটা আমরা আরও বাড়িয়ে নিতে চাই৷''

মেয়েদের ক্রিকেটের ভিতকে শক্ত করতে একটি স্টেডিয়ামও নির্দিষ্ট করে পেতে চান বিসিবির এই পরিচালক৷ ‘‘পরের বোর্ড মিটিংয়েই ব্যাপারটা তুলব৷ সেই মাঠটা হবে শুধু মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য৷ সেখানে ইনডোর, জিম থেকে শুরু করে সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে,'' বলেন তিনি৷

সব প্রস্তুতি সেরেই তাই মেয়েদের টেস্টের আঙ্গিনায় পা রাখতে চায় বাংলাদেশ৷ যাতে শুরু হওয়ার পর খুব একটা পিছনে ফিরে তাকাতে না হয় কিংবা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নেমে সবকিছু নতুন করে শিখতে না হয়৷ বিষয়টিতে জোর দিয়ে নাদেল বলেন, ‘‘চাই না হুট করে খেলতে নেমে মেয়েরা বাজে ফল করুক৷ আগে আমাদের বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেট শুরু করতে হবে৷ করোনাভাইরাস পরবর্তী সময়েই যেন শুরু করতে পারি, সেই চেষ্টা থাকবে৷''

অবশ্য আন্তর্জাতিক পরিসরে মেয়েদের টেস্ট ক্রিকেটের আয়োজনও হয় খুব কম৷ গত পাঁচ বছরে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ছাড়া আর কেউ টেস্ট খেলেনি৷ ভারতের মেয়েরা সবশেষ খেলেছে ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে৷ আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মেয়েরা ২০০৪ সালের পর কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলেনি৷ শ্রীলঙ্কান নারী ক্রিকেট দল একমাত্র টেস্ট খেলেছে ১৯৯৮ সালে৷

এফএস/আরআর (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়