টেস্টের স্বাদ নিতে জানে ক’জনা! | আলাপ | DW | 19.02.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

টেস্টের স্বাদ নিতে জানে ক’জনা!

দৈর্ঘ্যে স্বল্প৷ বলে বলে উত্তেজনা৷ এধারার ক্রিকেট জনপ্রিয়তায় এগিয়ে বাংলাদেশে৷ তুলনায় টেস্টে আগ্রহ কম ক্রিকেটপ্রেমীদের৷ পাঁচ দিনের ক্রিকেটে দর্শকখরার এই বিজ্ঞাপনও কি পিছিয়ে দিচ্ছে টাইগারদের?

২০০৮ সালে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টেস্ট ম্যাচ

২০০৮ সালে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টেস্ট ম্যাচ

বছর তিনেক আগের কথা৷ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের কোনো এক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ চলছে৷ বিকেলবেলায় ঢাকা শহরে চলতে চলতে প্রায় সবাই মুঠোফোনে খেলা দেখছে৷ ভিড় জমেছে পাড়ার চায়ের দোকানেও৷ সকলে ছোটপর্দায় খেলা দেখছে৷ বাজিও ধরছে কেউ কেউ৷ আমি গিয়েছি ধানমন্ডিতে কূটনীতিক কলামিস্ট মোহাম্মদ জমিরের বাসায়৷ তিনিও বৈঠকখানায় টিভিতে ক্রিকেট খেলা দেখছেন৷ তবে টি-টোয়েন্টি নয়, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ম্যাচ, অর্থাৎ অ্যাশেজ সিরিজ৷ বিষয়টি আমার কাছে ছিল বিস্ময়জাগানিয়া৷ বাংলা সাহিত্যের সিরিয়াস পাঠকদের মতোই বাংলাদেশে টেস্ট ক্রিকেটের সত্যিকারের দর্শকও এমন হাতেগোনা৷ তাই তো করোনাকালের আগের উন্মুক্ত গ্যালারির সময়েও ঢাকায় টেস্ট ক্রিকেটে দর্শক থাকতো কমই৷ সেই শূন্যতা পূরণে শিক্ষার্থীদের বিনা টিকিটে খেলা দেখার সুযোগ দেয়া হতো৷ তারপরও বা কতটাই পূর্ণ হতো গ্যালারি?

এই পরিস্থিতিই আসলে বলে দেয় যে, আমাদের ক্রিকেট উন্মাদনার প্রায় পুরোটাই টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেকেন্দ্রিক৷ তাই যেখানে করতালির মুখরতা নেই সেখানে ক্রিকেটাররা উৎসাহ পাবেন কম, সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়৷

অন্যদিকে ম্যাচও যদি হয় শুধুই নিয়মরক্ষার, না থাকে প্রতিযোগিতার ঝাঁজ, না থাকে তারকা ক্রিকেটার, সেখানে দর্শক এসেও তো আবার ঘরে ফিরে যাবেন৷ বাংলাদেশের দীর্ঘ পরিসরের ঘরোয়া লিগ সেই পরণতিই বরণ করে বসে আছে অনেক দিন হলো৷ একটি টেস্ট মর্যাদার দেশ যদি তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের এই দশা নিয়েই চলতে থাকে, তবে সেই সামর্থ্যের ক্রিকেটার বের হওয়া যেমন কঠিন, তেমনি সমঝদার দর্শক তৈরির পথও আটকেই থাকবে৷ কারণ, ম্যাচ ভালো হলে মানুষ তাতে চোখ রাখতে বাধ্য৷

একটা অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে৷ আমাদের তারকা ক্রিকেটাররা বিপিএল ছাড়া অন্য ঘরোয়া ক্রিকেটের আসরে অনাগ্রহী৷ এর বড় কারণ হতে পারে সম্মানির স্বল্পতা৷ আবার নিজের ঘর মনে করার মতো দল না থাকাও একটা ব্যাপার হয়ে থাকতে পারে৷ এক বিপিএল ছাড়া দর্শকদের মনেও এমন আবেগ উসকে দেয়া যায়নি অন্য কোনো প্রতিযোগে৷ ফলে নিজ দলের খেলা দেখতে যাওয়ার টান থেকে ভরে না আর গ্যালারি৷ দর্শকের এই অনুভূতির জায়গা নিয়ে কীভাবে খেলা যায়, তা ভেবে বের করতে হবে আমাদের ক্রিকেট-কর্তাদের৷ এতে করে টিকিট থেকে আয়ের উৎস গতি পাবে৷ আবার পক্ষে-বিপক্ষের দর্শকের চাপ মাথায় নিয়ে পারফর্ম করার পরীক্ষাও হয়ে যাবে ঘরোয়া আসরেই৷

তায়েব মিল্লাত হোসেন, সাংবাদিক

তায়েব মিল্লাত হোসেন, সাংবাদিক

আমাদের মাথায় রাখতে হবে, একটা সময় আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের চাপ জয় করেই একজন নান্নু, একজন আকরাম, একজন বুলবুল সফল হয়েছিলেন৷ সেই সময়ের চেয়ে আমাদের ক্রিকেট অনেক এগিয়েছে, এটা সত্য৷ কিন্তু খাল নদীর পর সমুদ্রজয়ের জন্য তার প্রস্তুতিও আরো বড় হওয়া চাই৷ ক্রিকেটের বেলায় সেটা যদি টেস্ট ম্যাচ হয়, সেই সামর্থ্যের ক্রিকেটার লাগবে৷ লাগবে যুতসই হাততালি৷ কিন্তু সেই সমর্থক কই? কোথায় পাবো তাদের? ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কিংবা পাশের ভারতের মতো টেস্ট সমঝদার দর্শক যেদিন আমাদের হবে, সেদিন আমরা টেস্ট ম্যাচ জিততে অভ্যস্ত হবো, এটা আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি৷ আর সেই সমর্থকরা প্রতিপক্ষের কৃতিত্বেও বাহবা জানাতে ভুলবেন না৷ ভবিষ্যতের সেই দর্শকরা কাইল মেয়ার্সের ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো কিংবা রাকিম কর্নওয়ালের ৯ উইকেট শিকারের মতো ঘটনা আপন দলের অযোগ্যতার উপহার হিসেবে নয়, প্রতিপক্ষের যোগ্যতর অর্জন হিসেবেও মানতে শিখবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়