টেলিভিশনে ম্যার্কেলের টাউনহল মিটিং | জার্মান নির্বাচন ২০১৭ | DW | 21.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

টেলিভিশনে ম্যার্কেলের টাউনহল মিটিং

জার্মানির বৃহত্তম বেসরকারি টেলিভিশন সংস্থা আরটিএল-এর প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল নিরাপত্তা, অভিবাসন ও ডিজেল কেলেঙ্কারি ইত্যাদি প্রসঙ্গে ভোটারদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন৷

রবিবার সন্ধ্যায় আরটিএল-এর ‘লাইভ' অনুষ্ঠানে কোনোরকম হাতে লেখা চিরকুট অথবা অটোকিউ ছাড়াই আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ম্যার্কেল৷

জার্মানিতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী আক্রমণ, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বার্সেলোনা সন্ত্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে ম্যার্কেলকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর সরকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে৷ ম্যার্কেল বলেন যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশি নজরদারি ও প্রযুক্তির একটি সংমিশ্রণ ব্যবহার করতে হবে৷ জার্মানিতে আনুমানিক ১০,০০০ ব্যক্তি উগ্রপন্থি মতবাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকলেও, তাদের মধ্যে মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ জনকে বাস্তবিক বিপজ্জনক বলে গণ্য করা হয়, বলেন ম্যার্কেল৷

ম্যার্কেল বলেন যে, তিনি জার্মানির যাবতীয় ১৬টি অঙ্গরাজ্যে পুলিশের সাজসরঞ্জাম ও কর্মধারা একীকৃত করার চেষ্টা করবেন৷ বিভিন্ন রাজ্যে ভিডিও নজরদারি অথবা পুলিশি তল্লাসির প্রক্রিয়া যে কেন আলাদা হবে, তা অনেক নাগরিকের কাছেই দুর্বোধ্য, বলে মন্তব্য করেন ম্যার্কেল৷ তিনি বলেন যে, তাঁর খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দল পুলিশি প্রক্রিয়াকে সর্বত্র অনুরূপ করার চেষ্টা করার: ‘‘আমি নিজে আবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব৷''

অভিবাসন

২০১৫ সালে ম্যার্কেল উদ্বাস্তুদের জন্য জার্মানির সীমান্ত খুলে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন৷ রবিবার সন্ধ্যায় তিনি তাঁর এই সিদ্ধান্ত পুনরায় সমর্থন করেন: ‘‘আমার সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল, বলে আজও আমার ধারণা৷'' বর্তমানে ইটালি ও গ্রিসের সীমান্তে যে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী এসে পৌঁছাচ্ছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ম্যার্কেল ইউরোপের অপরাপর দেশের প্রতি সংহতি প্রদর্শন করার ও সাহায্য করার আহ্বান জানান৷

একজন ভোটার এ প্রশ্নও তোলেন যে, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীরা যখন তাদের আবেদনের নিষ্পত্তি হবার জন্য অপেক্ষা করছেন, তখন তাদের কাজ করতে দেওয়া হয় না কেন৷ কয়েকজন ভুক্তভোগীকে বলতে শোনা যায় যে, তারা বছরের পর বছর করদাতাদের আনুকুল্যের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে বাধ্য হয়েছেন, যদিও তারা কাজ করতে চান৷

ডিজেল কেলেঙ্কারি

ডিজেল কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে ম্যার্কেল ভোটারদের বলেন যে, তিনি জার্মান গাড়ি শিল্পের কার্যকলাপে হতাশ হয়েছেন৷ সাবেক পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে তিনি এর ফলশ্রুতি বোঝেন৷ ‘‘আমি রুষ্ট'', ম্যার্কেল তাঁর শ্রোতা ও দর্শকদের বলেন৷ এই কেলেঙ্কারি থেকে জার্মান মোটর গাড়ি শিল্পের আন্তরিক হানি ঘটার ঝুঁকি রয়েছে ও গাড়ি শিল্পকে তা যতোদূর সম্ভব সামাল দিতে হবে, বলেন ম্যার্কেল৷

 এক গাড়িমালিক প্রশ্ন তোলেন, জার্মান গাড়িমালিকরা মার্কিন গাড়িমালিকদের চেয়ে কম ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন কেন? ম্যার্কেল বলেন, দু'টি দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণ আলাদা হওয়াটাই এর কারণ

অপরদিকে ডিজেল কেলেঙ্কারির কারণে যে সব জার্মান গাড়িমালিকদের গাড়ির দাম কমে গেছে, ম্যার্কেল জার্মান গাড়ি শিল্পের প্রতি তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান – নয়ত ‘‘সারা বিশ্বে সুপ্রশংসিত জার্মান গাড়ি শিল্পের লক্ষণীয় হানি ঘটতে পারে'', বলে ম্যার্কেল মন্তব্য করেন৷

ম্যার্কেল জার্মান গাড়িনির্মাতাদের প্রতি ডিজেল জ্বালানিতে গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্টা করার আহ্বান জানান৷ ‘‘জলবায়ু সুরক্ষার লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য আমাদের ডিজেলের প্রয়োজন,'' ঘোষণা করেন ম্যার্কেল৷ ডিজেল গাড়ি থেকে একদিকে যেমন কম কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়, অপরদিকে তেমনই বেশি নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়, যা শ্বাসপ্রশ্বাসের কষ্ট সৃষ্টি করতে পারে৷

তুরস্ক

তুরস্ক যে জার্মান লেখক ডোগান আখানলিকে আটক ও তুরস্কে হস্তান্তরের জন্য ইন্টারপোলের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ব্যবহার করেছে, ম্যার্কেল তার সমালোচনা করেন৷ ঐ গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে আখানলিকে শনিবার স্পেনে গ্রেপ্তার করা হয়৷ অতঃপর স্পেন আখানলিকে ছেড়ে দেওয়ায় তিনি খুশি, বলে ম্যার্কেল মন্তব্য করেন ও যোগ করেন, ‘‘এ ধরনের কাজের জন্য ইন্টারপোলের মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনের অপব্যবহার করা উচিত নয়৷''

আগামী ২৪শে সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে ম্যার্কেল একটি চতুর্থ কর্মকালের জন্য সিডিইউ-সিএসইউ দলের প্রার্থী৷ সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে যে, সিডিইউ-সিএসইউ দল সংসদে সর্বাধিক আসন পেতে চলেছে, তবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন