টেক্সাসে বাংলাদেশি পরিবারের ছয়জন খুন | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 06.04.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্র

টেক্সাসে বাংলাদেশি পরিবারের ছয়জন খুন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক বাড়ি থেকে এক পরিবারের ৬ বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ৷ পরিবারের দুই ছেলের বিষণ্ণতায় ভোগার কারণে এমন নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ 

স্থানীয় সময় সোমবার ভোর রাতে টেক্সাস স্টেটের ডালাস সংলগ্ন এলেন সিটির বাসা থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে এলেন সিটি পুলিশের সার্জেন্ট জন ফেলি জানান৷

‘বিষণ্ণতা থেকে' পরিবারটির তরুণ দুই ভাই তাদের মা-বাবা, নানি ও একমাত্র বোনকে হত্যার পর নিজেরাও আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশ ধারণা করছে৷ ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জন ফেলি বলেন, সম্ভবত শনিবার নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে৷ ১৯ বছর বয়সী একজনের ফেইসবুক স্ট্যাটাস থেকে হত্যার পর আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ সেখানে ঘটনার সঙ্গে রয়েছে হতাশার ধারাবিবরণী৷

ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাসের সচিব নাহিদা আলী বলেন, ঘটনার সময় ওই বাড়িতে ৫৬ বছর বয়সী তৌহিদুল ইসলাম তার স্ত্রী ৫৫ বছর বয়সী আইরিন ইসলাম নীলা , দুই ছেলে তানভির তৌহিদ (২১) ও ফারহান তৌহিদ (১৯), মেয়ে পারভিন তৌহিদ (১৯) ও ৭৭ বছর বয়সী তৌহিদের শাশুড়ি আলতাফুন্নেসা সবাই মারা গেছেন৷

"মেয়ে পারভিন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ছাত্রী৷ সপ্তাহখানেক আগে তাকে নিউইয়র্ক থেকে বাসায় নেওয়া হয়৷ ফারহান ও  তানভির পড়তেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের অস্টিনে৷  ফারহান আর পারভিন ছিলেন যমজ৷ গত সপ্তাহে আলতাফুন্নেসার বাংলাদেশে ফেরার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়৷”

একসময়কার পুরান ঢাকার বাসিন্দা তৌহিদুল আট বছর আগে টেক্সাসের এই সিটিতে বসতি গড়ার আগে নিউইয়র্কে বাস করতেন তিনি সিটি ব্যাংকে চাকরি করতেন৷

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তৌহিদের পরিচিত পর্যটন ব্যবসায়ী শাহীন হাসান বলেন, "কোনো কারণে তৌহিদের দুই ছেলেই বিষণ্ণতায় আক্রান্ত ছিল৷”

ছেলে ফারহান ফেসবুকে ঘটনার বিষয়ে লম্বা এক স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেছেন,  সেখানে তিনি ২০১৬ সালে নবম গ্রেডে পড়াবস্থায় ‘বিষন্নতায় আক্রান্ত' হওয়ার কথা চিকিৎসকের বরাতে জানান ৷ এজন্য তার শিক্ষাজীবন বির্পযস্ত হয় ৷ অবস্থা গুরুতর হলে বন্ধুরা তাকে ত্যাগ করে৷ এক পর্যায়ে তিনি আত্মহত্যার কথা ভাবেন৷ কিন্তু তিনি মারা গেলে পরিবারের অন্যরা কষ্ট পাবেন তাই তাদেরও হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং ভাইকে সাথে  যুক্ত করে তারা বন্দুক কেনেন৷

ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেছেন, "আমি যদি আত্মহত্যা করি তাহলে গোটা পরিবার সারাটি জীবন কষ্ট পাবে সেটি চাই না ৷ সেজন্যে পরিবারের সকলকে নিয়ে মারা যাবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বড় ভাইকে শামিল করলাম ৷ দুই ভাই গেলাম বন্দুক ক্রয় করতে ৷ আমি হত্যা করব ছোটবোন আর নানীকে ৷ আমার ভাই হত্যা করবে মা-বাবাকে ৷ এরপর উভয়ে আত্মহত্যা করব, কষ্ট পাবার কেউ থাকবে না ৷” 

অস্ত্র কেনার বিষয়ে সেখানে লেখা হয়েছে, "বন্দুক ক্রয়ের ব্যাপারটি খুবই মামুলি৷ বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনের নামে তামাশা চলছে সর্বত্র৷ বড়ভাই দোকানে গিয়ে বললেন যে, বাড়ির নিরাপত্তার জন্যে বন্দুক দরকার৷ দোকানি কয়েকটি ফরম ধরিয়ে দিলে সেখানে সই করলেন ভাই৷ এরপর হাতে পেলাম কাঙ্খিত বস্তুটি, যা দিয়ে নিজের কষ্ট এবং পরিবারের কষ্ট সহজে লাঘব করা যাবে৷” 

ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান ও ক্যানসাসের ডেমক্র্যাটিক ককাসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন রেহান রেজা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "এমন নিষ্ঠুর পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া দরকার ৷ সময়মত যথাযথ চিকিৎসার পদক্ষেপ নিলে হয়তো এহেন দুঃখজনক পরিস্থিতির অবতারণা হতো না৷”

অবিলম্বে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনের দাবিও জানিয়েছেন রেহান রেজা৷

এনএস/কেএম (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

নির্বাচিত প্রতিবেদন