টেকনাফে রোহিঙ্গা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ | বিশ্ব | DW | 01.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

টেকনাফে রোহিঙ্গা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এক রোহিঙ্গাকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ ভুক্তভোগীর বড় ভাইয়ের দাবি এ ঘটনায় সেনা সদস্যরা জড়িত৷ তবে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার বলছেন ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে এক রোহিঙ্গা কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে৷ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি টহল দলের তিন সদস্য কিশোরীকে তার ঘরের ভেতরে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন কিশোরীর বড় ভাই মোহাম্মদ উসমান৷

ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘একজন মুখ চেপে ধরে রেখেছে, আর দুই জন আমার বোনকে ধর্ষণ করেছে৷ ওর বয়স তের বছর৷’’ 

ঘটনার পর ভুক্তভোগী কিশোরীকে প্রথমে শরণার্থী শিবিরের চিকিৎসাকেন্দ্র এবং পরবর্তীতে কক্সবাজার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও জানিয়েছেন উসমান৷ তিনি বলেন, ‘‘হাসপাতালের সবগুলো পরীক্ষায় ধর্ষণ প্রমাণ হয়েছে৷ কিন্তু রিপোর্টগুলো তারা রেখে দিয়েছে৷’’

ভুক্তভোগী বর্তমানে শরণার্থী শিবিরে নিজের বাড়িতে রয়েছেন৷ তবে তার আরো চিকিৎসার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন উসমান৷ তিনি বলেন, ‘‘হাসপাতালে ওর ভালো চিকিৎসা হয়নি৷ ও অসুস্থ, বিছানায় পড়ে আছে৷ ওর সারা শরীর ব্যথা করছে৷ ওকে যে ধর্ষণ করা হয়েছে এটাই প্রমাণ৷’’

তিনি বলেন, ‘‘ওর যৌনাঙ্গ এবং স্তনের বোঁটায় দাগ রয়েছে৷’’

ধর্ষণের অভিযোগ তদন্তে সংশ্লিষ্ট শরণার্থী শিবিরের সরকারি কর্মকর্তারাসহ ব়্যাব ও সেনা সদস্যরা মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলেও জানান উসমান৷ তিনি বলেন, ‘‘আজকে বারোটার সময় আসছে ওরা৷ ঘটনা কিভাবে ঘটেছে জানতে চেয়েছে৷ আমার সঙ্গেও কথা বলেছে৷ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছেন যে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেয়া হবে৷’’

প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এক রোহিঙ্গা পরিবারের সদস্য এই কিশোরী৷ তার জন্ম বাংলাদেশে৷ কিশোরীর পরিবার নয়াপাড়ার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা৷ তার এক প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডয়চে ভেলেকে জানান, (ধর্ষণের সময়) ওই কিশোরী গোঙ্গানির মতো শব্দ করলে আশেপাশের লোকজন টের পায়৷ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা চলে গেলে সেই কিশোরীকে তার প্রতিবেশীরা শিবিরের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায় বলেও জানান তিনি৷

‘‘বলাৎকার বা ধর্ষণের শিকার মেয়েটির রক্তক্ষরণ হচ্ছিল,’’ বলেন প্রতিবেশী৷ 

চিকিৎসা কেন্দ্রে কিশোরীকে দেখেছেন এমন এক রোহিঙ্গা নারী ডয়চে ভেলেকে জানান, কিশোরী হাঁটতে পারছিল না৷ ‘‘তাকে দুই জন দুই দিক থেকে ধরে হাসপাতালের ডেলিভারি রুমে নিয়ে যায়,’’ বলেন তিনি৷ 

ভিডিও দেখুন 04:07

রোহিঙ্গা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সামরিক প্রশিক্ষণ আছে, অস্ত্র নেই

রোহিঙ্গা শিবিরে কিশোরী ধর্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র জোসেফ ত্রিপুরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন বলে জানান৷ তিনি বলেন, ‘‘এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসাসেবাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ার উপযুক্ত৷’’ তবে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে বেশি তথ্য দিতে রাজি নয় ইউএনএইচসিআর৷

এই বিষয়ে উখিয়ায় সামরিক বাহিনীর শিবিরে যোগাযোগ করা হলে ধর্ষণের খবরটি ‘মিথ্যা, গুজব’ বলে দাবি করা হয়৷ আর শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ মাহবুব আলম তালুকদার ডয়চে ভেলেকে জানান, সেই কিশোরীকে কক্সবাজার ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে, তবে ‘ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি৷’  

তিনি বলেন, ‘‘ওটা ধর্ষণের ঘটনা নয়৷ ডাক্তারি পরীক্ষায় দেখা গেছে ওটা ধর্ষণের ঘটনা নয়৷’’

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেদেশের সেনাবাহিনী ভয়াবহ অভিযান শুরু করলে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজার এলাকায় আশ্রয় গ্রহণ করেন৷ অতীতেও এভাবে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন আরো রোহিঙ্গা৷ সব মিলিয়ে দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে অবস্থান করছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন