টিলারসনের ফোনে কি নমনীয় হবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী? | বিশ্ব | DW | 27.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

রোহিঙ্গা সংকট

টিলারসনের ফোনে কি নমনীয় হবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী?

অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্তের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন টেলিফোনে কথা বললেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অংয়ের সঙ্গে৷ সংকট সমাধানে তিনি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রতি সে দেশের সরকারকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন৷

default

রাখাইনে পুড়িয়ে দেয়া রোহিঙ্গাদের একটি গ্রামের অংশ

শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়৷ বৃহস্পতিবার রেক্স টিলারসন ও মিন অংয়ের মধ্যে টেলিফোনে আলাপ হয়৷ রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার সেনাদের নির্যাতনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিগত নিধন বলে ঘোষণা করার কথা বিবেচনা করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর৷ তার আগে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বললেন টিলারসন৷ রোহিঙ্গাদের উপর চালানো নিধনযজ্ঞে উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এই সংকট সমাধানে সরকারকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান৷

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের উপর নিধনযজ্ঞ শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী৷ হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা৷ এ পর্যন্ত ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা এসেছে বাংলাদেশে৷ রোহিঙ্গারা যেন দেশে নিরাপদে ফিরতে পারে সেই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে৷ ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে যে যৌথ সমঝোতা হয়েছিল, নতুন কোনো শর্ত আরোপ না করে তা যেন অনুসরণ করা হয়৷ একইসঙ্গে রাখাইনে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের সহায়তা পৌঁছানোর জন্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়৷

এর আগে ২৪ অক্টোবর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত জাতিগত নিধনের প্রতিবাদে মিয়ানমারের জেনারেলদের ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র৷ তার আগেই তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও জারি করে যুক্তরাষ্ট্র৷

২৪ অক্টোবর রাখাইনের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতিতে নতুন অবরোধের ঘোষণা দেয়া হয়৷ রাখাইনে রোহিঙ্গা নিপীড়নের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করা হয় ওই বিবৃতিতে৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার থেকে সামরিক সহায়তা তুলে নেওয়ার কথা ভাবছে৷ পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হিদার নরেট বিবৃতিতে বলেন, ‘‘আমরা রাখাইনের ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন৷ হত্যাযজ্ঞে জড়িতদের শাস্তি হওয়া উচিত৷'' বিবৃতিতে বলা হয়, এই হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত ও দায়ী যে কোনো সরকারি ও বেসামরিক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে৷’’

বিবৃতিতে সহিংসতার শিকার এলাকাগুলোতে জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়৷ নরেট বলেন, ‘‘মিয়ানমার সরকার ও তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা নিতে হবে, মানবিক সহায়তা দিতে সংস্থাগুলোকে অনুমোদন দিতে হবে এবং যারা পালিয়ে গেছে তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে৷’’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন আগেই বলেছেন, রোহিঙ্গাদের দুর্দশার জন্য মিয়ামারের সেনাবাহিনীকে দায়ী মনে করে যুক্তরাষ্ট্র৷

অডিও শুনুন 03:57
এখন লাইভ
03:57 মিনিট

আন্তর্জাতিক চাপ যাতে অব্যাহত থাকে সেই উদ্যোগ নিতে হবে: মুন্সি ফয়েজ

চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এর চেয়ারম্যান মুন্সি ফয়েজ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মিয়ানমারের ওপর মার্কিন চাপ বাড়ছে৷ মিয়ানমারের সেনাপ্রধানকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন অনেক গুরুত্বপূর্ন, কারণ, মিয়ানমারে এই জতিগত নিধনে নেতৃত্ব দিচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী৷ আমি মনে করি, এর একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে৷’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কিছু নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করতে যাচ্ছে৷ আর এতে স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বেশ সিরিয়াস৷ আর যুক্তরাষ্ট্রের এই ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো প্রভাব ফেলবে৷ এটা মিয়ানমারকে বুঝতে হবে, রোহিঙ্গা ইস্যুটি শুধু বাংলাদেশ-মিয়ানমারের দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নয়৷ এটা এখন সারা বিশ্বের ইস্যু৷ আর এই ইস্যুতে বাংলাদেশ মিয়ানমারে সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাবে৷ কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপ যাতে অব্যাহত থাকে এবং আরো বাড়ে সেই উদ্যোগ নিতে হবে৷’’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত ও চীনের অবস্থান এখন আগের চেয়ে নমনীয়৷ ভারত তো আগের অবস্থান থেকে অনেক সরে এসেছে৷ চীন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো অবরোধের বিরোধিতা করছে৷ দু'টি দেশের নানা ধরণের স্বার্থ আছে৷ কিন্তু তারা এ-ও বুঝতে পারছে যে রাখাইনে সহিংস পরিস্থিতি থাকলে তাদের অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যও বাধাগ্রস্ত হবে৷তাছাড়া মানবিকতারও একটা প্রশ্ন তো আছেই৷’’

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়