টিকা আবিষ্কার হলেও করোনা মহামারি দূর হবে কি? | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 23.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

টিকা আবিষ্কার হলেও করোনা মহামারি দূর হবে কি?

করোনা সংকট সামলাতে টিকা আবিষ্কারের জোরালো উদ্যোগ চলছে৷ কিন্তু জটিল এই প্রক্রিয়া সফল হলেও মহামারি পুরোপুরি দূর হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন৷ ভাইরাসের মিউটেশনের কারণে বার বার নতুন টিকার প্রয়োজন হবে৷ 

ভাইরাস মোকাবিলায় দ্রুত টিকা আবিষ্কার করার জন্য চাপ বাড়ছে৷ সাধারণত প্রতিষেধক তৈরির জন্য বেশ কয়েক বছর সময় লাগে৷ কিন্তু সময়ের চাপে ছ'টি পর্যায় কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ করার তোড়জোড় চলছে৷

সবার আগে গবেষকরা ভাইরাস বিশ্লেষণ করেন৷ তারপর ভাইরাসের উপাদান ও বাড়তি পদার্থ দিয়ে তাঁরা সম্ভাব্য টিকা তৈরি করেন৷ তৃতীয় পর্যায়ে পশুর উপর সেই টিকা প্রয়োগ করা হয়৷ তারপর চতুর্থ পর্যায়ে মানুষের উপর সেটি প্রয়োগ করা হয়৷ অবশেষে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেলে ব্যাপক হারে টিকা উৎপাদন শুরু হয়৷

বিজ্ঞানীরা সত্তরটিরও বেশি টিকা প্রকল্পের জন্য দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন৷ কয়েকজন গবেষক এরই মধ্যে চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন, অর্থাৎ স্বেচ্ছাসেবীদর উপর টিকা পরীক্ষা করছেন৷ তা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষের নাগালে টিকা পৌঁছাতে কমপক্ষে এক বছর সময় লাগবে৷ গবেষকরা নানাভাবে টিকা আবিষ্কারের চেষ্টা চালাচ্ছেন৷

তথাকথিত ভেক্টর ভাইরাস বা পরিচিত ও ক্ষতিকর নয় এমন ‘জীবন্ত' টিকা প্রয়োগের চেষ্টা চলছে৷ সেটির মধ্যে কোভিড-১৯-এর জিনোটাইপের অংশবিশেষ চালান করা হয়৷ ফলে সেটির উপরের স্তরে করোনা ভাইরাসের মতো প্রোটিন সৃষ্টি হয়৷ এমন ‘ছদ্মবেশী' ভাইরাস মানুষের কোনো ক্ষতি করতে পারে না৷ বরং টিকা নেবার পর মানুষের শরীরের প্রতিরোধ শক্তি প্রতিক্রিয়া হিসেবে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে৷ তখন শরীর আসল করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা গড়ে তুলতে শেখে৷

অন্যরা মৃত টিকা – অর্থাৎ করোনা ভাইরাসের নষ্ট করে দেওয়া অংশ নিয়ে গবেষণা করছেন৷ এভাবেই টিটেনাস ও ফ্লু মোকাবিলা করতে টিকা তৈরি হয়েছিল৷ তবে এই প্রক্রিয়ায় দ্রুত বিশাল পরিমাণ টিকা তৈরি করা কঠিন হবে৷

সর্বশেষ প্রবণতা হলো জিন-ভিত্তিক টিকা৷ তার জন্য ভাইরাস থেকে তথাকথিত আরএনএ বা জেনেটিক গঠনের নির্দেশিকা বার করে নেওয়া হয়৷ এই আরএনএ দিয়ে তৈরি টিকা মানুষের শরীরের মধ্যে ভাইরাসের প্রোটিনের গঠন তরান্বিত করবে, এমনটাই ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ কিন্তু এখনো পর্যন্ত এমন কোনো টিকার অনুমোদন দেওয়া হয় নি৷

এই সংকটের সময়ে অনেকেই দ্রুত টিকা আবিষ্কারের আশা করছেন৷ তবে সেটা সম্ভব হলেই যে মহামারি শেষ হবে, এমনটা মনে করার কারণ নেই৷ কারণ ভাইরাসের মিউটেশন বা রূপান্তর ঘটতে পারে, ভাইরাসের জেনেটিক গঠনও বদলে যেতে পারে৷ সে ক্ষেত্রে সফল পরীক্ষা সত্ত্বেও টিকা কোনো কাজে লাগবে না৷ ফ্লু ভাইরাসের জন্য প্রতি বছর নতুন টিকা তৈরি করতে হয়৷ পরিচিত করোনা ভাইরাসগুলিও নিজস্ব ডিএনএ বদলে ফেলার চেষ্টা করে৷

কোভিড-১৯ প্যাথোজেন গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লেও এখনো পর্যন্ত মিউটেশন ঘটায়নি৷ তা সত্ত্বেও সময়ের সঙ্গে সংগ্রাম চলছে৷ টিকা যত তাড়াতাড়ি আসবে তত বেশি মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া যাবে, তাদের প্রাণ বাঁচানো যাবে৷

মাল্টে রোভেয়ার-কালমান/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন