টাকা-পয়সার হিসাব চাওয়ায় ছাত্রকে নগ্ন করে ভিডিও প্রচার! | বিশ্ব | DW | 06.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভাইরাল ভিডিও

টাকা-পয়সার হিসাব চাওয়ায় ছাত্রকে নগ্ন করে ভিডিও প্রচার!

কলকাতার এক খ্যাতনামা কলেজের ছাত্রকে নগ্ন করার ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছিল তারই কলেজের প্রাক্তনীরা৷ মমতা ব্যানার্জীর দল তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের এক নেতার নেতৃত্বে এমন দাদাগিরি দেখে কলকাতার সবমহলই স্তম্ভিত!

ছাত্রজীবনেই  চরম লাঞ্ছনার শিকার হলেন বছরআঠারোর যুবক৷ কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিটের সেন্ট পলস কলেজের ইউনিয়ন রুমে ফান্ডের হিসেব চাওয়ায় প্রথম বর্ষের এক ছাত্রকে নগ্ন করে ভিডিও তোলে সেই কলেজের প্রাক্তনীরা৷ এরপর তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় কলেজের পড়ুয়াদের মধ্যে৷

ভাইরাল ভিডিওর সুবাদে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে৷ ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, টেনেহিঁচড়ে নিগৃহীত ছাত্রের পোশাক খুলে নেওয়া হচ্ছে৷ এরপর ছাত্রটি নগ্ন হয়ে কলেজের রুমে সিনিয়রদের কাছে কাতর আবেদন জানাচ্ছেন এবং তাতে কেউই কর্ণপাত করেননি৷ তখন ছাত্র প্রাণপনে লজ্জা নিবারণের চেষ্টা করেন৷ সামনে যা পেয়েছেন, তাই দিয়ে লজ্জা নিবারণ করেছেন এবং ঘরময় ছুটে বেড়িয়েছেন৷ এখানেই শেষ নয়, ওই ছাত্রকে বলা হয়েছিল এ ঘটনার কথা কাউকে বললে এই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হবে৷ ভয়ে নিগৃহীত ছাত্র কিছুদিন কলেজে আসেননি৷ কিন্তু কয়েকদিন পরে কলেজে এসেই তিনি দেখলেন তাঁর নগ্ন অবস্থার ভিডিও চারিদিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ এরপরই তিনি পুলিশের কাছে যান৷

 তারুণ্যের এমন প্রকাশ দেখে সব মহলেই ছিছিকার উঠেছে৷

.

১৭ মে কলেজ ইভেন্টের ফান্ড ঘিরে বচসার জেরে তাকে নগ্ন করে হেনস্থা করা হয় বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন নিগৃহীত ছাত্র৷ ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনের বিরূদ্ধে সোমবার এফআইআর দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ৷ নিগৃহীত ছাত্র জানিয়েছেন, ‘‘আমি জানতে চেয়েছিলাম ইভেন্টের নাম করে যে টাকাগুলো ছাত্রদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে সেগুলো কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে৷ আর সে কারণেই আমাকে হেনস্থা করা হয়েছে৷ আমাকে নগ্ন করে ওরা আমার ভিডিও তুলেছে৷''

এই আকস্মিক বিপর্যয়ে সেইছাত্র মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন৷ এমনকি আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন৷ কিন্তু শুভানুধ্যায়ী বন্ধুদের পরামর্শে তিনি আত্মহত্যা করেননি৷

অভিযুক্তদের মধ্যে সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল মিশন কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ইউনিয়নের সভাপতি অর্ণব ঘোষের পাশাপাশি এফআইআর-এ নাম রয়েছে কলেজের বর্তমান ছাত্র অভিজিৎ দলুই, নন-টিচিং স্টাফ অনন্ত প্রামাণিক ও বহিরাগত শেখ এনামূল হকের৷ তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন৷

পিএস/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন