টগবগ ফুঁসছে খাঁচায় বন্দী কাশ্মীর | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 10.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

টগবগ ফুঁসছে খাঁচায় বন্দী কাশ্মীর

পুরো বিশ্ব থেকে এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কাশ্মীর৷ এমনকি এক এলাকার লোকজন অন্য এলাকার খবরও পাচ্ছেন না৷  বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে সেনা-পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ছবি৷ ডয়চে ভেলে কথা বলেছে কয়েকজন কাশ্মীরির সঙ্গে৷

বেশিরভাগ রাস্তায় কিছুদূর পরপরই ইস্পাত ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে চেকপয়েন্ট তৈরি করা হয়েছে

বেশিরভাগ রাস্তায় কিছুদূর পরপরই ইস্পাত ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে চেকপয়েন্ট তৈরি করা হয়েছে

বাতিল করা হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা, নতুন দিল্লীর এমন ঘোষণার পর থেকে কাশ্মীরজুড়ে এক ধরনের থমথমে নীরবতা৷ এরই মধ্যে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিলের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন৷ আহত হয়েছেন শতাধিক।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে জানিয়েছেন বিচ্ছিন্নতাবাদ ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় এমন কঠোর সিদ্ধান্তের প্রয়োজন ছিল৷

বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ঘোষণার পর থেকে নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে অঞ্চলটিকে৷ বিক্ষোভ ঠেকাতে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, জারি করা হয়েছে কারফিউ৷ কাশ্মীরকে এমনিতেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সামরিকীকরণ করা এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷ ঘোষণার আগে-পরে তার সঙ্গে যোগ করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা৷

গণগ্রেপ্তারের খবর

কড়া নিরাপত্তার কারণে বেশিরভাগ মানুষই ঘরের মধ্যে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন৷ স্কুল-কলেজ, দোকানপাট এমনকি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোও বন্ধ রয়েছে৷ ইন্টারনেট ও টেলিফোন সেবা বন্ধ থাকায় কাশ্মীরের কোনো তথ্যও বাইরে আসছে না৷

কিন্তু এর মধ্যেও গত কয়েকদিনে শ্রীনগরে বসবাসরত বেশ কয়েকজন কাশ্মীরির সঙ্গে কথা বলতে পেরেছে ডয়চে ভেলে৷  কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে তাদের পরিস্থিতি কেমন, জানতে চাওয়া হয়েছে তাদের কাছে৷

ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সবাই বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন৷ এমনকি তারা যে ভালো আছেন, যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ায় অন্য এলাকার স্বজনদের সে খবরও পৌঁছে দিতে পারছেন না অনেকে৷

গত কয়েকদিনে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে৷ খুব অল্প সংখ্যক হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্স খোলা রয়েছে৷ এক দোকানদার রশীদ আহমেদ বলছেন, ‘‘সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে জরুরি সেবার ওপর৷ আমার চাচাকে ডায়ালাইসিসের জন্য হাসপাতাল নিতে হবে, নিরাপত্তাকর্মীদের এটা বোঝাতেই আমার দুই দিন লেগেছে৷ তার অবস্থা খুব খারাপ ছিল৷''

আহমেদ জানান, চিকিৎসক ও নার্সরাও নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে হাসপাতান পৌছাতে পারছেন না৷ বেশিরভাগ রাস্তায় কিছুদূর পরপরই ইস্পাত ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে চেকপয়েন্ট তৈরি করা হয়েছে৷

এর আগেও কাশ্মীরে নিরাপত্তা অভিযান চলেছে৷ ২০০৮, ২০১০ এবং ২০১৬ সালে ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পরপর কড়া নজরদারি চালানো হয় কাশ্মীরে৷ কিন্তু কখনও ল্যান্ডফোনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি৷

দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলার৷ এলাকাটিকে একসময় ‘জঙ্গিদের অভয়ারণ্য' হিসেবে বিবেচনা করা হতো৷ জেলাটির কাচদোরা গ্রামের ফায়াজ বুখারি ডয়চে ভেলেকে জানান, এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরিরা কী ভাবছে, তা জানারও কোনো উপায় নেই৷

বুখারি বলেন, ‘‘আমরা কিভাবে যোগাযোগ করবো? আমরা নরকে বাস করছি৷ আমরা শুধু শুনতে পাই নিরাপত্তা বাহিনী লাউডস্পিকারে ঘোষণা দিচ্ছে সবাইকে ঘরের ভেতরেই থাকার জন্য৷ এটা অবিশ্বাস্য৷''

অস্পষ্ট ভবিষ্যত

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বাতিল হয়েছে অনেক বিয়ের আয়োজন৷ গোলাম রসুল নামের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘‘এই পরিস্থিতিতে বিয়ের কথা চিন্তা করা কিভাবে সম্ভব?''

ফার্মাসিস্ট পাশারাত মানজার বলেন, ‘‘কারফিউয়ের মধ্যে খাবার কেনাকাটার জন্য কিছু সময় আমাদের দেয়া হয়েছিল৷ তখন আমরা রাস্তায় পাথর ও ইটের টুকরা পড়ে থাকতে দেখেছি ৷ এ থেকে আমরা কা বুঝবো? অবশ্যই কোনো ধরনের সংঘর্ষ হয়েছে৷ কিন্তু আমরা এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা৷''

তিনি বলেন, ‘‘কাল শুনেছি, একদল ছেলেকে নিরাপত্তাবাহিনী তাড়া দিয়েছিল৷ তাদের একজন পালাতে গিয়ে ঝিলম নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মারা গেছে৷''

ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে শ্রীনগর বিমানবন্দরে আসা যাত্রীরাও শহরে পৌঁছাতে পারছেন না৷  আলতাফ হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘‘কারফিউ পাস পাওয়ার প্রক্রিয়া এক অভিজ্ঞতা৷ এছাড়া কাশ্মীর উপত্যকার মূল অংশ ছেড়ে বাইরে যাওয়াও আমাদের মানা৷''

কাশ্মীর অঞ্চলের পুলিশ প্রধান দিলবাগ সিং জানিয়েছেন ধীরে ধীরে এই নিরাপত্তা শিথিল করে দেয়া হবে৷ কিন্তু সেটা কতোদিন পর, তা জানাতে পারেননি কেউ৷

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কাশ্মীরের কী হবে? সহিংসতার আশঙ্কা বেড়েই চেলেছে৷ সানা ভাট নামের এক কাশ্মীরি ছাত্র ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা এরই মধ্যে সম্পূর্ণ আত্মত্যাগ করেছি৷ আমাদের আর কী বাকি আছে!''

মুরালি কৃষ্ণন/এডিকে

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন