ঝড়ে ক্ষতি পরিবেশের, সবুজ বাঁচাতে চেষ্টা | বিশ্ব | DW | 28.05.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

ঝড়ে ক্ষতি পরিবেশের, সবুজ বাঁচাতে চেষ্টা

ঘূর্ণিঝড়ে বিপুল সংখ্যক গাছ পড়ে যাওয়ায় ক্ষতি পরিবেশের৷ বাড়ছে দূষণের মাত্রা৷ না কেটে কিছু সংখ্যক গাছ বাঁচানোর চেষ্টা করছে প্রশাসন৷

কলকাতার উপরে তাণ্ডব চালানো ঘূর্ণিঝড় আমফান এই শহরের সবুজকে অনেকটাই মুছে দিয়েছে৷ শুধু কলকাতা নয়, দুই ২৪ পরগনা, হুগলি ও হাওড়াতে অসংখ্য গাছ ঝড়ে পড়ে গিয়েছে৷ প্রথমে মনে করা হয়েছিল, হাজার পাঁচেক গাছ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ কিন্তু, সংখ্যাটা তিনগুণেরও বেশি৷ কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, এই শহরে ১৫ হাজার ৫০০টি গাছ পড়েছে৷ কলকাতায় ছোট, বড় মিলিয়ে হাজার তিনেক রাস্তা রয়েছে৷ এমন কোনো রাস্তা পাওয়া ভার, যেখানে গাছ পড়েনি৷ এই বৃক্ষ বিপর্যয়ের ফলে ক্ষতি হয়েছে পরিবেশের৷ 

অডিও শুনুন 03:03

‘বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে গাছ লাগাতে হবে’

লকডাউনের ফলে রাস্তায় গাড়ি কম থাকায় পৃথিবীর অন্যান্য শহরের মতো কলকাতার বায়ুদূষণের মাত্রা কমেছে৷ একইসঙ্গে কমেছে বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার পরিমাণ৷ কিন্তু, সপ্তাহখানেক আগে ঘূর্ণিঝড়ে একটা বড় সংখ্যক গাছের ক্ষতি হওয়ায় দূষণ বেড়েছে৷ অথচ, এই সময় কলকাতার রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা রয়ে গিয়েছে প্রায় একই৷ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ঝড়ের ফলে গাছ পড়ে যাওয়ার নিরিখে ক্ষতি হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকার৷ কীভাবে হিসেব হচ্ছে এই ক্ষতির?

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট ফর নেচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট-এর এই সংক্রান্ত একটি গবেষণায বিষয়টি উঠে এসেছে৷ গবেষণাপত্র অনুযায়ী, একটি বড় মাপের বটগাছ পরিবেশের যে উপকার করে, তার অর্থমূল্য বছরে তিন কোটি টাকার বেশি৷ কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস থেকে ধূলিকণার বিরুদ্ধে লড়ে গাছ৷ এই বাবদ যে লাভ হয় মানবসভ্যতার, তা দুই কোটি টাকার সমান৷ এছাড়া একটি গাছ অক্সিজেন তৈরি করে, প্রাণীকে আশ্রয় দেয়৷ এই ধরনের কাজ ধরলে একটি বড় বটগাছ বছরে দেড় কোটি টাকা মূল্যের পরিষেবা দেয়৷ এই হিসেব অনুযায়ী কলকাতায় ক্ষতি ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি৷ ঝড়ে শুধু বট নয়, বিভিন্ন ধরনের ছোট ও বড় গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ তাই আর্থিক মূল্যে এর হিসেব করা দুরূহ৷ 

 

তবে এই ক্ষতি যে বিপুল এবং অপূরণীয়, তা বলাই যায়৷ পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই ক্ষতি পূরণ করা যায় না৷ নতুন গাছ পুঁতেও নয়৷ কারো তরুণ সন্তান মারা গেলে যদি তাঁকে আবার সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা বলা হয়, তাহলে কি ক্ষতিপূরণ হয়? তবু গাছ লাগাতেই হবে, তার বিকল্প কিছু নেই৷ পরিবেশবিদদের মতে, কলকাতা যে সবুজ হারালো, তা ফিরে পেতে কয়েক দশক সময় লেগে যাবে৷ অর্থাৎ, লকডাউনের পর সব বাস, অটো, চারচাকা গাড়ি রাস্তায় নেমে পড়লে দূষণের হার আগের থেকেও বেড়ে যাবে৷ যেহেতু বিষাক্ত গ্যাস ও ধূলিকণা মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট সংখ্যক গাছ আর শহরে নেই৷

বৃক্ষরোপণের কথা বলা হচ্ছে সরকার থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে৷ গাছ লাগানোর কাজে এগিয়ে আসছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ক্রিকেট দল কলকাতা নাইট রাইডার্সও৷ ব্যাপক হারে গাছ লাগালে ভবিষ্যতে আগের মতো সবুজ হয়ে উঠবে কলকাতা, এই আশা করাই যায়৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধিকর্তা তড়িৎ রায়চৌধুরীর মতে, বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে গাছ লাগাতে হবে, যেভাবে খুশি নয়৷ যেখানে ইচ্ছে একটা বট বা অশ্বত্থ লাগিয়ে দিলাম, সেটা চলবে না৷ এটাকে সামাজিক আন্দোলনের চেহারা দিতে হবে৷ নইলে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে না৷
তবে বিপদের আশু কোনো সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না৷ পরিবেশের ক্ষতি কিছুটা কমাতে কলকাতা পুরসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গাছ বাঁচানোর চেষ্টা করা হবে৷ বড় রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ যানবাহন চলাচলের জন্য কেটে ফেলতেই হচ্ছে৷ কিন্তু, অপেক্ষাকৃত ছোট রাস্তা, গলিতে যেসব গাছ পড়েছে, সেগুলি বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে৷ উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন পড়ে যাওয়া গাছ পরীক্ষা করে বলবেন, কোনটির বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী সেই গাছগুলিকে বাঁচানোর উদ্যোগ নেবে পুরসভা৷ বাকি গাছগুলি কেটে ফেলা হবে৷ 

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন