ঝিনুক খামারে অপচয় বন্ধ করার উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 01.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ঝিনুক খামারে অপচয় বন্ধ করার উদ্যোগ

মাসেল বা কালো ঝিনুক ইউরোপে সুখাদ্য বলে পরিচিত৷ কাজেই ঝিনুকের খামারে লাখ লাখ টন মাসেল ‘উৎপাদন' করা হয়ে থাকে৷ কিন্তু সেই উৎপাদনের পদ্ধতিতে ঝিনুক, পানি ও জ্বালানিরও অপচয় হয়৷ সেটা কমানোর পন্থা খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা৷

ইংরেজিতে বলে শেলফিশ, অর্থাৎ শক্ত খোলসওয়ালা কম্বোজ বা কবচী প্রাণী – সহজ কথায় ঝিনুক বা কাঁকড়া, চিংড়ি ইত্যাদি৷ মাসেল হল এক ধরনের কালো ঝিনুক, যার খোলার ভিতরের অংশটি ইউরোপে সুখাদ্য বলে পরিচিত – কাজেই অন্যান্য মাছের মতোই, মাসেল-এরও চাষ হয়ে থাকে৷  উৎপাদন বছরে প্রায় পাঁচ লাখ টন৷ঝিনুকের চাষকে আরো দক্ষ ও পরিবেশ সম্মত করার জন্য বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে৷ ঝিনুক খামারের মালিক আন্ডার্স  গ্রানহেড বলেন, ‘‘আমরা আজ যে চার থেকে পাঁচ টন ঝিনুক তুলেছি, তার প্রায় ৩০ শতাংশ ফেলা যাবে, বলে আমার ধারণা৷ এই প্রকল্প থেকে আমাদের অভিজ্ঞতার ফলে আমরা পাঁচ থেকে দশ শতাংশ অপচয় কমাতে পেরেছি৷''

ভিডিও দেখুন 04:27
এখন লাইভ
04:27 মিনিট

ঝিনুক খামারে অপচয় বন্ধ সম্ভব কীভাবে?

ঝিনুক চাষিদের সঙ্গে থেকে ও ঝিনুক উৎপাদনের গোটা প্রক্রিয়াটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানী গবেষকরা দেখেছেন যে, ঝিনুক তোলা থেকে শুরু করে মাছের বাজারে ঝিনুক বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে ঝিনুক ভেঙে যাওয়া বা অন্য ধরনের অপচয় কমানো সম্ভব৷ জীববিজ্ঞানী গ্রেটে আডফ বলেন, ‘‘একটি মূল সমস্যা হল এই বিপুল পরিমাণ অপচয় – ঝিনুক উৎপাদনের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে অপচয় হয়৷ লক্ষ্য হল, এই অপচয় অন্তত ৩৫ ভাগ কমানো৷ আমরা হয়তো তা করতে পারব না, কিন্তু উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে নিঃসন্দেহে উন্নতি হয়েছে৷''

প্রকল্পের মূলমন্ত্র হল পানি রিসার্কুলেট করা, অর্থাৎ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করা, যাতে ঝিনুকগুলোকে দীর্ঘকাল ঐ একই পানিতে রাখা যায়৷ প্রথাগত ঝিনুক শিল্পে ট্রলার থেকে টেনে ঝিনুক তোলা হয়; কাজেই উৎপাদনের নতুন পদ্ধতিটিতে জ্বালানি ও পানি, উভয়ই বাঁচে৷ আরেক জীববিজ্ঞানী মড্স ডোরেনফেল্ড ইয়েনসেন বলেন, ‘‘আমরা মাছের চাষে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করি, এটা বস্তুত তা-ই৷ পানি রিসার্কুলেট করা হলে খুব কম নতুন পানি লাগে৷ ধরুন এই প্রণালীটিতে আমরা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১২,০০০ লিটার পানি রিসার্কুলেট করি – কিন্তু ঘণ্টায় মাত্র ১৫ লিটার নতুন পানি যোগ করি৷''

এ ধরনের একটি ফ্লো-থ্রু সিস্টেমে ঝিনুকের কিলো প্রতি ঘণ্টায় ২০ লিটার পানি লাগে৷ কাজেই পানি ঠান্ডা করার খরচও কমে৷ এছাড়া একটি ‘প্রোটিন স্কিমার' পানির গুণাগুণ নিশ্চিত করতে সহায়তা করে৷ ইয়েনসেন বলেন, ‘‘ঝিনুকগুলো থেকে যে গুঁড়ো জৈব পদার্থ নির্গত হয়, এই পন্থায় তা অপসারণ করা সম্ভব হয়৷ এই সিলিন্ডারটার নীচে যে পাম্প আছে, তা লক্ষ লক্ষ ছোট ছোট বুদবুদ সৃষ্টি করে৷ কাজেই পানিতে ঝিনুকের চর্বি বা মাংসের যে টুকরো আছে, তা এই বুদ বুদগুলোয় আটকে ফেনা হিসেবে ওপরে ভেসে ওঠে৷ পরে সেই ফেনা ধুয়ে ফেললেই পানিটা আবার পরিষ্কার হয়ে যায়৷'' 

বিক্রির জন্য ঝিনুকগুলোকে তাদের মান অনুযায়ী আলাদা করার জন্য বেল্টে করে নানা জায়গায় পাঠানো হয়, ফলে ঝিনুকগুলোয় নানা ধরনের ধাক্কা লাগে৷ জীববিজ্ঞানী গিডা ক্রিস্টোফারসেন বলেন, ‘‘আমরা এই কৃত্রিম ঝিনুকটা তৈরি করে, তার মধ্যে একটি ইম্প্যাক্ট সেন্সর রেখে, সেটাকে অন্য ঝিনুকগুলোর সঙ্গে উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় ফেলে দিই৷ তার ফলে কৃত্রিম ঝিনুকটা ইনস্পেকশান বেল্ট পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় কোথায় কোথায় ধাক্কা লাগছে, তা রেকর্ড করতে পারে৷''

ইমপ্যাক্ট সেন্সরের তথ্য থেকে যন্ত্রের বিভিন্ন অংশের ঘোরার গতি ও পানির মান ঠিক করে নেওয়া যায়,  ফলে ঝিনুকগুলো যাতে বেশি ঝাঁকা না খায়ও শেষমেষ তাদের স্বাদ আরো ভালো হয়, তার ব্যবস্থা হয়৷

এই পরিবেশবান্ধব অ্যাকোয়াকালচারের ফলে মেরিন ইকোসিস্টেমগুলির উন্নতি ঘটানো সম্ভব হবে, বলে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন