ঝিনাইদহে একটি হিন্দু পরিবার নিয়ে যা হচ্ছে | বিশ্ব | DW | 13.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

ঝিনাইদহে একটি হিন্দু পরিবার নিয়ে যা হচ্ছে

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকার একটি হিন্দু পরিবারের সদস্যরা ৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর পুলিশ শনিবার বিকেলে উদ্ধার করলেও তারা আবার বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়ি গিয়ে উঠেছেন৷ পুলিশ তথ্য গোপন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে৷

default

সুকুমার বিশ্বাসের বাড়ি

গত ৪ মে শুক্রবার কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের পারখালকুলা গ্রাম থেকে চার সদস্যের হিন্দু পরিবারটি নিখোঁজ হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়৷ পরিবারের প্রধান সুকুমার বিশ্বাস৷ অন্য সদস্যরা হলেন: সুকুমার বিশ্বাসের স্ত্রী রেনু রানী, পুত্রবধূ রিপা রানী ও নাতি সনদ বিশ্বাস৷ ৩ মাস আগে নিখোঁজ সুকুমারের একমাত্র ছেলে স্বপন কুমার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন৷ তারা হিন্দু রাজবংশী সম্প্রদায়ের

ঘটনার ৫ দিন পর ৯ মে বুধবার বিকালে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই নিখোঁজের সংবাদটি জানানো হয়৷ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সুকুমার বিশ্বাসের পানের বরজসহ ৮ বিঘা সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে ক্রয় দেখিয়ে আত্মসাতের জন্য এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যরা বিভিন্ন সময় তার ওপর মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে৷

অডিও শুনুন 00:45
এখন লাইভ
00:45 মিনিট

‘প্রভাবশালীদের ভয়ে পরিবারটি এলাকা ছেড়ে চলে গেছে’

তাদের এই নিখোঁজের পেছনে স্থানীয় এসব ভূমিদস্যুর যোগসূত্র থাকতে পারে৷ তারা নিখোঁজ পরিবারটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিজ বাড়িতে শান্তিতে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবি জানান৷ অন্যথায় সুকুমার বিশ্বাস ও তার পরিবারকে উদ্ধারে গণআন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলেন৷

ঐদিনই সাংবাদিক নয়ন খন্দকার সুকুমার বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে তাদের ঘর তালাবদ্ধ দেখতে পান৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘স্থানীয়দের সঙ্গে আমি তখন কথা বলে জানতে পারি যে, প্রভাবশালীদের ভয়ে ওই পরিবারটি এলাকা ছেড়ে চলে গেছে৷ কারণ তাদের আট বিঘা জমি প্রভাবশালীরা নামমাত্র দামে লিখে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন৷ তারা নানা ধরণের হুমকি দিয়ে আসছিলেন৷ চাপ এড়াতেই তারা সপরিবারে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান৷''

অডিও শুনুন 01:03
এখন লাইভ
01:03 মিনিট

‘হুমকি দেয়া হয়েছে এমন কোনো প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী পাইনি’

এদিকে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান রবিবার বিকেলে ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘ওই পরিবারটিকে শনিবার বিকেলে ঝিনাইদহ শহর থেকে উদ্ধার করে তাদের গ্রামের বাড়িতে দিয়ে আসা হয়েছে৷ তারা ঝিনাইদহ শহরে তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন৷''

কেন গিয়েছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘বেড়াতে গিয়েছিলেন৷ দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন৷''

কিন্তু ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কথার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি ঐ এলাকার প্রশান্ত কুমার খা'র কথার৷ প্রশান্ত ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘পুলিশ পরিবারটিকে শনিবার রাতে বাড়িতে নিয়ে আসলেও সকালে আবার চলে গেছেন৷ সুকুমার বিশ্বাস ও স্ত্রী রেনু রানী চিকিৎসার কথা বলে ঝিনাইদহ শহরে তার আত্মীয়ের বাড়িতে চলে গেছেন৷ আর তার পুত্রবধূ নিজের ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে গেছেন৷''

তিনি জানান, ‘‘অল্প সময়ের জন্য তারা বাড়িতে ছিলেন৷ এখন আবার বাড়িতে তালামারা৷ হয়তো আবার ফিরে আসবেন৷''

অডিও শুনুন 02:53
এখন লাইভ
02:53 মিনিট

‘তারা মোবাইল নাম্বার বন্ধ করে দিয়েছেন’

তিনি আরো জানান, ‘‘তাদের অনেক জোত জমি আছে৷ ৪ মে রাতে দুইজন মুখোশধারী লোক সুকুমার বিশ্বাসকে ডেকে কাছেই নদীর তীরে নিয়ে যায়৷ সেখানে তাকে গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে জমি লিখে দিতে বলে৷ তিনি তখন জানতে চান কাকে লিখে দেব৷ তখন ওই মুখোশধারীরা বলে, নাম পরে জানবি,লিখে দিবি কিনা বল৷ তিনি তখন লিখে দিতে রাজি হলে তাকে ছেড়ে দেয়৷ এরপর তিনি বাড়ি ফিরে ঘরে তালা মেরে পাঁচ মিনিটের জন্য পরিবারের সবাইকে নিয়ে বের হয়ে যান৷''

প্রশান্ত কুমার বলেন, ‘‘৯ দিন তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন৷ প্রথমে তারা বদুরগাছায় আশ্রয় নেন, তারপর ঝিকরগাছা ও চৌগাছায় ছিলেন৷ সর্বশেষ ঝিনাইদহের আবারপুরে তাদের পাওয়া যায়৷ আরাবপুরে জীবন বাবু নামের তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে তারা সর্বশেষ আশ্রয় নিয়েছিলেন৷''

এদিকে ওই পরিবারটির সঙ্গে নানাভাগে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি৷ প্রশান্ত জানান, ‘‘তারা মোবাইল নাম্বার বন্ধ করে দিয়েছেন৷''

অডিও শুনুন 01:38
এখন লাইভ
01:38 মিনিট

‘তাদের কেউ জোর করেনি বা হুমকি দেয়নি’

এই তথ্য ধরে আবারো ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করলে তিনি বলেন, ‘‘ওই পরিবারে সদস্যদের হুমকি দেয়া হয়েছে বা জমি দখলের চেষ্টা হয়েছে এমন কোনো প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী পাইনি৷ আর পরিবাররি কেউ অভিযোগও করেনি৷ তারপরও এরকম কিছু ঘটেছে কিনা তা আমরা তদন্ত করে দেখছি৷''

অভিযোগ রয়েছে হিন্দু পরিবারটি হুমকি এবং জমি দখলের পিছনে স্থানীয় একজন ইউপি চেয়ারম্যানের হাত আছে৷ এ নিয়ে স্থানীয় জামাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোদাচ্ছের হোসেন দাবী করেন, ‘‘তাদের জমি জমা তেমন নাই৷ চার-পাঁচ বিঘা থাকতে পারে৷ আর তারা বলেছে তাদের কেউ জোর করেনি বা হুমকি দেয়নি৷''

পরিবারটি কোথায় গিয়েছিল এবং এখন কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘তারা বেড়াতে গিয়েছিল৷ উদ্ধার করার পর ওসি সাহেবকে বলে আবার আত্মীয়ের বাড়ি চলে গেছে তারা৷''

তবে ঐ পরিবারটি আবারো যোগাযোগ বিচ্ছিন অবস্থায় আছে বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন৷

এ বিষয়ে আপনার মতামত জানাবেন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও