ঝাঁকের মধ্যে মাছের অভিনব ক্ষমতা | বিশ্ব | DW | 08.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ঝাঁকের মধ্যে মাছের অভিনব ক্ষমতা

একা যা করা যায় না, সবাই মিলে সেই কাজ প্রায়ই সহজ হয়ে ওঠে৷ প্রকৃতির মধ্যে এমন দৃষ্টান্তের অভাব নেই৷ কিন্তু বিশেষ এক প্রজাতির সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তা বিজ্ঞানীদের অবাক করছে৷ তাদের আচরণ বিশ্লেষণ করে অনেক তথ্য জানা যাচ্ছে৷

ইয়ান কুজিন বড় একটা পুল তৈরি করিয়েছেন৷ তার মধ্যে স্টিকলব্যাক মাছের চারাপোনা কিলবিল করছে৷ পুলের কিছু অংশে আলো, কিছু অংশে ছায়া রয়েছে৷ মাছেরা রোদের তাপ এড়িয়ে যতটা সম্ভব ছায়ার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে৷ এই প্রজাতির মাছের জন্য এমন আচরণ অত্যাবশ্যক৷ কারণ রোদের আলোয় তাদের ত্বক জ্বলজ্বল করে৷ শত্রুরা তাদের সহজেই শনাক্ত করতে পারে৷

ইয়ান কুজিন যখন একটিমাত্র মাছকে পানিতে ছেড়ে দেন, তখন কিন্তু সেটি ছায়া খুঁজে পায় না৷ সম্ভবত শুধু ঝাঁকের মধ্যেই তাদের এই ক্ষমতা প্রকাশ পায়৷ তিনি বলেন, ‘‘ঝাঁক হিসেবে তারা যে সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তা দেখায়, তা সত্যি বিস্ময়কর৷ এককভাবে কোনো সমস্যা সমাধান করতে না পারলেও গোষ্ঠীবদ্ধ হিসেবে প্রায়ই তা সম্ভব হয়৷''

কিন্তু এই সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তা কীভাবে সম্ভব? ঝাঁকের মধ্যে মাছেরা কীভাবে এমন ক্ষমতা আয়ত্ত করে, এককভাবে যা সম্ভব নয়?

গবেষকরা বহুকাল ধরে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন এবং মাছেদের পর্যবেক্ষণ করছেন৷ তাঁরা প্রাচীন এক রুশ বইয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত খুঁজে পেয়েছেন৷ দিমিত্রি রাডাকভ বুঝতে পেরেছেন, যে গোষ্ঠীর নিজস্ব চরিত্র গড়ে ওঠে৷ ইয়ান কুজিন ও তাঁর সহকর্মীরা আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে সেই আইডিয়াকে আরও সূক্ষ্ম করে তুলেছেন৷ গবেষকরা প্রতিটি মাছের পিঠে বারকোড লাগিয়েছেন৷ ফলে প্রত্যেকটি মাছকে আলাদাভাবে চেনা ও সব সময়ে শনাক্ত করা সম্ভব৷ তারপর তিনি বড় পুকুরে মাছের ঝাঁক ছেড়ে দিয়েছেন৷ প্রত্যাশা অনুযায়ী মাছগুলি ছায়ার মধ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে৷

একটি ক্যামেরা সর্বক্ষণ তাদের ছবি তুলে যাচ্ছে৷ পরে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রত্যেকটি মাছের গতিপথ দেখা যায়৷ পর্যবেক্ষণের সময় বিজ্ঞানীদের আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ একটি বিষয় চোখে পড়লো৷ দেখা গেল, ছায়ার মধ্যে এলে মাছেদের সাঁতারের গতি কমে যায়৷

গতির এই পার্থক্য ঝাঁকের মধ্যে কী পরিবর্তন আনছে, ড. কুজিন সে দিকেও লক্ষ্য রাখছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করার পর আমরা প্রতিটি মাছের গতিবৃদ্ধির প্রবণতা, তাদের মধ্যে সামাজিক প্রভাবের দিকে নজর দিতে পারি৷ তাদের মধ্যে যোগাযোগ বেশ স্পষ্টভাবে কল্পনা করা যায়৷ ঠিক যেন স্প্রিং বা ইলাস্টিক দিয়ে যুক্ত৷ বোঝা যায়, যোগাযোগের এই নেটওয়ার্ক কীভাবে গোষ্ঠীবদ্ধভাবে তাদের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে৷ আমরা দেখতে পাচ্ছি, তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ অদৃশ্য এক স্প্রিং-এর মতো৷ দুটি মাছ একসঙ্গে এগোলে প্রথমটি ছায়া পেয়ে গতি কমিয়ে দিলে অন্যটি দ্রুত এগোতে থাকে৷ তারপর যেন স্প্রিং-এর টানে সে ছায়ার দিকে চলে আসে৷ এমনকি দ্বিতীয় মাছটি সেটা জানতেই পারে না৷''

এই মাছের ঝাঁকের মধ্যে একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়৷ তারা পাশের মাছেদের সঙ্গে সমান দূরত্ব বজায় রাখে৷ কিন্তু গতি কমার কারণে কোনো মাছ পিছিয়ে গেলে প্রথমে দূরত্ব বেড়ে যায়৷ স্পিং-এ টান পড়লে ঠিক যেমনটা ঘটে৷ তারপর মাছটি আবার ঝাঁকের কাছে চলে আসে৷

আর্নল্ড ট্র্যুম্পার/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন