1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
Bangladesch | Neuer Bus-Service in Dhaka
ছবি: Mortuza Rashed/DW

জোড়াতালি আর গোঁজামিলের বিআরটি

১৬ আগস্ট ২০২২

ফিজিবল না হলেও এক রকম জোর করে গোঁজামিল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি৷ যেনতেনভাবে শেষ করে উদ্বোধন করতে চাওয়া এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নেই বললেই চলে৷

https://www.dw.com/bn/%E0%A6%9C%E0%A7%8B%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A6%86%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A7%8B%E0%A6%81%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%B0%E0%A6%9F%E0%A6%BF/a-62823979

তারপরেও চলছে কাজ৷ তবে ছিল না সঠিক তদারকি আর নজরদারি৷ ফলে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা৷

বিআরটি হলো শহরের কোনো রাস্তার মাঝ দিয়ে ডেডিকেটেড একটা লেন তৈরি করে সেখান দিয়ে বিশেষায়িত বাস চালানো৷ ঐ রাস্তায় অন্য কোনো গাড়ি ঢুকতে পারে না৷ আর এই বাস শুধুমাত্র নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ ছাড়া থামে না৷ ফলে যাত্রীরা দ্রুত এক স্থান থেকে অন্যত্র চলাচল করতে আর৷

বিআরটি ঘনবসতি আর বিশৃঙ্খল শহরে অনেক কার্যকর৷ আবার এর খরচও স্বল্প৷ তাই ২০০৮ সালে ঢাকায় বিআরটি করা যায় কিনা সে ব্যাপারে সমীক্ষা করা হয়৷ সমীক্ষা শেষে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত রাস্তা বাছাই করা হয়৷ সকল বিবেচনায় সেটা ছিল ফিজিবল৷ কিন্তু পরবর্তীতে বাধ সাধে মগবাজার-মৌচাক উড়াল সেতু৷ এর ফলে বিআরটির রুট কমিয়ে আনা হয়৷ ফলে এই প্রকল্পের যৌক্তিকতা হারায়৷ এটি আর ফিজিবল থাকে না৷ কিছু বিশেষজ্ঞ সে সময় এই প্রকল্প বাতিলের কথা বলেন৷ তবে সরকার পরবর্তীতে বিআরটির রুট গাজীপু্র পর্যন্ত বৃদ্ধি করে এর যৌক্তিকতা দেখানো হয়৷

এর পর কাজ শুরু হলে তা চলে ধীরগতিতে৷ তবে শহর ও শহরের বাইরের গন্তব্য নিয়ে কখনও বিআরটি করা হয়৷ প্রশ্ন উঠে গাজীপুর থেকে মানুষ বিআরটির বাসে এসে বিমানবন্দরে বিপদে পড়বে৷ কেউ যদি মতিঝিল যেতে চায় তাহলে তাকে আবার যানবাহনের সেই ঝক্কির মধ্যেই পড়তে হবে৷ আস্তে আস্তে বিআরটি তার যৌক্তিকতা হারায়৷

বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শামসুল হক যিনি অনেক প্রকল্পের মতো বিআরটি প্রকল্পেও বিশেষজ্ঞ মতামত দিয়ে থাকেন তিনি বিআরটি নিয়ে হাতাশা ব্যক্ত করেন৷ আদৌ এটা বিআরটি হবে কিনা সেটাই তার কাছে বড় প্রশ্ন৷

‘‘এটা নামে বিআরটি৷ এর সাথে অনেক কিছু যোগ করে জোড়াতালি দিয়ে অন্য কিছু বানানো হচ্ছে৷ ফলে এ থেকে যে সুবিধা পাওয়া যাবার কথা তা যাবে না,'' বলছিলেন অধ্যাপক হক৷ 

তিনি বলেন, ‘‘শুরুতে যে কারণে এই প্রকল্পটি ফিজিবল হয়েছিল সেটা আর নাই৷ অরিজিনালি এই প্রকল্পের রুট ছিল বিমানবন্দর থেকে মতিঝিল৷ তখন এটাকে দ্রুত যাত্রী বহনের জন্য উপযুক্ত মনে করেছিল সবাই৷ কিন্তু এই অরিজিনাল রুট আর নাই, এটাকে কেটে ছোট করা হয়েছে৷ নতুন রুট হয়েছে গাজীপুর-বিমানবন্দর৷''

তার মতে, পৃথিবীর ইতিহাসে বাইরে থেকে এসে ঢুকেছে এমন ফ্রাগমেন্টেট বিআরটির কোনো উদাহরণ নাই৷ বিআরটির জন্মটাই হচ্ছে পা কাটা, হাত কাটা, বাপ-মা নাই৷ অরিজিনাল রুট দেখিয়ে ফিজিবল করেছিলাম কিন্তু সে অরিজিনাল বিআরটি আর নাই৷ তাই এটা আর ফিজিবল প্রকল্প না৷ মানে অল্প বাসে দ্রুত যাত্রী পরিবহনের যে বিষয়, সেটা আর হচ্ছে৷

এদিকে ১৩০টি এসি বাস কেনার পরিকল্পনা হয়েছে বিআরটি রুটে চালানো জন্য৷ কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (বিআরটিসি) বাস চালানো সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে৷ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই বাসে মানুষ কীভাবে উঠা-নামা করবে?

বিআরটির বাসে দরজা থাকে উল্টা দিকে৷ অর্থাৎ যাত্রীদের রাস্তার মাঝখান থেকে বাসে উঠতে হয়৷ কিন্তু বিআরটিসির বাস উঠতে হলে বাস বিআরটি লেন থেকে বের হয়ে ফুটপাতে আসতে হবে৷ ফলে এটা অন্য রাস্তার মতোই হয়ে যাবে৷

অধ্যাপক হকের মতে, আমাদের শহরের যে অবস্থা৷ যানজটের কারণে মানুষ বিআরটি লেনে ঢুকে পড়বে এবং কর্তৃপক্ষ তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে বলে মনে হয়৷ এতে রাস্তায় আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে বলে মনে হয়৷

শুধু বিআরটি নয়, বরং বাংলাদেশে প্রায় সব প্রকল্পই সমীক্ষা ভালোমতো হয়৷ প্রকল্প শুরুর আগে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ বিবেচনা করে সেগুলোর সমাধান ঠিক করা৷ এছাড়াও জনগণের টাকা যৌক্তিকভাবে খরচ হচ্ছে কিনা সেটা ভালোভাবে যাচাই করতে হয়৷ এটা হয় না বলেই প্রকল্পের কাজ আরম্ভ হলে একটার পর একটা সমস্যা দেখা দেয়, সময় বাড়ে আর সাথে খরচও৷

২০০৮ সালে সমীক্ষা শুরু হলেই ২০১২ সালে ২,০৩৭ কোটি টাকার প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয়৷ ২০১৬ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বারবার সময় বাড়িয়ে এ বছরের মধ্যে শেষ করার কথা৷ তবে এখন প্রকল্পের ২২ শতাংশ কাজ বাকি থাকায় আগামী বছরের জুলাইয়ে শেষ হবে বলে জানা যায়৷ আর এর মধ্যে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ বেড়ে যায়৷

‘‘এক্ষেত্রে সরকারের মূল্যায়নের একটা ব্যাপার আছে৷ সব প্রকল্প কী কারণে দেরি হয়, বাস্তবায়ন কেন ঠিকমতো হয় না, খরচ কেন বাড়ে বিষয়গুলো সরকারের উচিত,” মনে করেন অধ্যাপক শামসুল হক৷

প্রতিবেদন : এম আবুল কালাম আজাদ (ঢাকা)

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত বছর পাঁচ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত

বাংলাদেশে কি আবার সহিংস জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটতে যাচ্ছে?

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ

প্রথম পাতায় যান