জোট সরকার গঠনের আলোচনায় বিপদটা কোথায়? | বিশ্ব | DW | 23.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

জোট সরকার গঠনের আলোচনায় বিপদটা কোথায়?

এসপিডি চায় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চাকরির চুক্তি, উদ্বাস্তুদের পরিবারকে জার্মানিতে নিয়ে আসার সুযোগ ও স্বাস্থ্যবীমার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি বীমাধারীদের সমানাধিকার৷ কিন্তু সিডিইউ-সিএসইউ কী চায়?

রবিবার সামাজিক গণতন্ত্রী দল এসপিডি বন শহরে তাদের দলীয় সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেয় যে, ইউনিয়ন দলগুলির সঙ্গে জোট সরকার গঠন সংক্রান্ত বিধিবদ্ধ আলাপ-আলোচনা শুরু করা হবে৷ অবশ্য এই সিদ্ধান্তের পক্ষে পড়ে মাত্র ৫৬ শতাংশ ভোট, বিপক্ষে ৪৪ শতাংশ৷ কাজেই সোমবার এসপিডি দলের সংসদীয় গোষ্ঠী বার্লিনে মিলিত হয়ে এই ফলাফল ও তার ফলশ্রুতির পর্যালোচনা করেছে৷ সোজা কথায় বলতে গেলে, এসপিডি দল নতুন জোট সরকার গঠন সম্পর্কে বিশেষ উচ্ছ্বসিত বোধ করছে না৷ 

‘বাগ্মী' শুলৎস?

সংসদীয় গোষ্ঠীর অধিবেশন চলে প্রায় দু'ঘণ্টা এবং দলনেতা মার্টিন শুলৎসকে এবারও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়, তবে শুলৎস তার জবাবে এবার ভালোই ভাষণ দিয়েছেন, বলে শোনা যাচ্ছে, অন্তত রবিবার বনের দলীয় সম্মেলনে যা দিয়েছিলেন, তার চেয়ে বেশি প্রেরণাদায়ক৷ কিন্তু দলের অনেকেই এখনো বলছেন, সিডিইউ-সিএসইউ দলের সঙ্গে জোট সরকার গঠন সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনায় এসপিডি দল অন্তত কয়েকটি বিষয়ে ‘জিততে' না পারলে, তথাকথিত মহাজোটের একটি নতুন সংস্করণ বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ৷ কারণ, এসপিডি দলের চার লাখ চল্লিশ হাজার পার্টিবুকধারী সদস্য আলাপ-আলোচনার ফলাফল অনুমোদন না করলে মহাজোটের সেখানেই ভরাডুবি ঘটবে৷

সিডিইউ কেঁচে গণ্ডূষ করতে আগ্রহী নয়

রবিবারের ‘জয়ে' শুলৎস যত না উৎফুল্ল, তার চেয়ে বেশি স্বস্তি বোধ করছেন৷ কিন্তু তিনিও জানেন, তাঁর কাছে দলের এখন কী প্রত্যাশা: ‘‘প্রাথমিক আলাপ-আলোচনায় যে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, (জোট সরকার গঠন সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনায়) আমরা সে সব আবার বিবেচনা করে দেখব৷'' প্রাথমিক আলাপ-আলোচনার ফলাফল একটি ২৮ পাতার দলিলে ধরে রাখা হয়েছে, সামাজিক গণতন্ত্রীদের কাছে যা একটি বুনিয়াদি খসড়া ছাড়া কিছু নয় – এক্ষেত্রে সিডিইউ দলের মনোভাব ঠিক তার উল্টো৷ সারল্যান্ড রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আনেগ্রেট ক্রাম্প-কারেনবাউয়ার সিডিইউ দলের তরফে প্রাথমিক আলাপ-আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন এবং বার্লিনে তাঁর প্রভাবও কিছু কম নয়৷ সপ্তাহান্তে তিনি স্যুডওয়েস্টরুন্ডফুংক সরকারি বেতারকেন্দ্রের একটি সাক্ষাৎকারে ঘোষণা করেন: ‘‘যারা (প্রাথমিক) সমঝোতার কিছু কিছু বিষয় পুনর্বিবেচনা করতে চান, তাদের দরুণ গোটা আপোশটাই ভেঙে পড়বে, যা আমরা ঘটতে দিতে রাজি নই৷''

স্বল্প মেয়াদের বদলে দীর্ঘমেয়াদি চাকরির চুক্তি

ক্রাম্প-কারেনবাউয়ার যা-ই বলুন না কেন, এসপিডির তরফে অন্তত তিনটি বিষয় পুনর্বিবেচনা করার দাবি ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে৷ এসপিডি দল চায় যে, কোনো বিশেষ কারণ না দেখিয়ে বাঁধা মেয়াদের চাকরিতে লোক নেওয়ার অন্ত ঘটুক – যেমন কোনো কর্মী মেটারনিটি লিভে গেলে, তার জায়গায় সেই বাঁধা সময়ের জন্য লোক নেওয়া চলতে পারে৷কিন্তু জার্মানিতে যে প্রায় ২৮ লাখ মানুষ বাঁধা মেয়াদের চাকরিতে আবদ্ধ রয়েছেন, তার মধ্যে বেশ কিছু কর্মীর ক্ষেত্রে তাদের চাকরির মেয়াদ বাঁধা কেন, তার কোনো কারণ দেখানো হয়নি বলে প্রকাশ৷ বিশেষ করে ৩০ বছরের কম বয়সিদের ক্ষেত্রে নাকি প্রায়ই এ ধরনের বাঁধা মেয়াদের চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়ে থাকে৷ সিডিইউ-সিএসইউ দল বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলাপ-আলোচনা করতে রাজি কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়৷

সরকারি আর বেসরকারি স্বাস্থ্য বীমা

 জার্মানিতে স্বাস্থ্যবীমাধারীদের একটি প্রধান অংশসরকারি, অর্থাৎ বাধ্যতামূলক বীমা করিয়ে থাকেন; অপরদিকে রয়েছেন প্রায় ৯০ লাখ মানুষ, যারা বেসরকারি বীমা সংস্থাগুলির সঙ্গে স্বাস্থ্যবীমা করিয়েছেন৷ তফাৎটা হলো এই যে, যেহেতু বেসরকারি বীমা সংস্থাগুলি সাধারণত ডাক্তার ও হাসপাতালের কর্মীদের বেশি পারিশ্রমিক দেয়, সেহেতু ডাক্তার ও হাসপাতাল তথাকথিত ‘প্রাইভেট পেশেন্ট'-দের অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে৷ এর ফলে জার্মানিতে (বেসরকারিভাবে) ‘দুই শ্রেণীর চিকিৎসা ব্যবস্থার' অবতারণা ঘটেছে: যেমন প্রাইভেট পেশেন্ট-রা তাড়াতাড়ি বড় ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পান ও হাসপাতালে আলাদা ঘর পান, বাকি সাত কোটি বিশ লাখ ‘বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবীমাধারীরা' যা পান না৷ এসপিডি দল এই পরিস্থিতির পরিবর্তন, অন্তত উন্নতি ঘটাতে চায়, যেমন সকলের জন্য একই স্বাস্থ্যবীমা (যা সিডিইউ-সিএসইউ ইতিপূর্বেই প্রত্যাখ্যান করেছে), অথবা সব ধরনের বীমাধারীদের চিকিৎসার জন্য একই পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করে (যা কিনা আলোচনাসাপেক্ষ)৷

অপ্রাপ্তবয়স্ক উদ্বাস্তুদের পরিবারকে জার্মানিতে আনার সুযোগ দেওয়া 

বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি৷ সিরিয়ার মতো যুদ্ধপীড়িত দেশ থেকে আগত উদ্বাস্তুরা জার্মানিতে প্রভূত সুরক্ষা পেয়ে থাকেন, যার মধ্যে পড়ে, পরিবারবর্গকে জার্মানিতে আনার সুযোগ৷ আপাতত এই ‘পারিবারিক পুনর্মিলনের অধিকার' দু'বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে৷ এসিপিডি, সিডিইউ ও সিএসইউ দলের প্রাথমিক আলাপ-আলোচনায় স্থির হয়েছে যে, ভবিষ্যতে প্রতি বছর ১,০০০ পারিবারিক সদস্যকে জার্মানিতে আসতে দেওয়া হবে৷ এক্ষেত্রে অনেক বিশেষজ্ঞের মত হলো এই যে, সাধারণভাবে  উদ্বাস্তুদের জার্মান সমাজে অন্তর্ভুক্তি ও বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক উদ্বাস্তুদেরঅপরাধবৃত্তি থেকে দূরে রাখার জন্য তাদের পরিবারবর্গের উপস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ৷ তা সত্ত্বেও সিএসইউ দল আরো বেশি উদ্বাস্তু-অভিবাসীদের জার্মানিতে আসতে দেওয়ার বিরুদ্ধে৷

এসপিডির একটা না একটা জিত চাই

এ কথার অর্থ, সিডিইউ-সিএসইউ দলকে কোনো-না-কোনো ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে, কেননা, এসপিডি দলের সাধারণ সদস্যরা ঠিক সেটাই প্রত্যাশা করবে৷ মজার কথা, রবিবার সামাজিক গণতন্ত্রীদের দলীয় সম্মেলনে জোট সরকার গঠন সম্পর্কে যে বিপুল দ্বিধা প্রকাশ পেয়েছে ও সেই সরকার গঠন সংক্রান্ত চুক্তি যে শেষমেষ দলের সব সদস্যের কাছে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে – এই দু'টি শর্তের পরিপ্রেক্ষিতে এসপিডির কোনো-না-কোনো (নতুন বা পুরনো) দাবি না মিটিয়ে ইউনিয়ন দলগুলির পক্ষে ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়৷

ইয়েন্স থুরাও/এসি 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন