জোট নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হলে জার্মানিতে আবার নির্বাচন? | বিশ্ব | DW | 17.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

জোট নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হলে জার্মানিতে আবার নির্বাচন?

জার্মানিতে তথাকথিত জামাইকা কোয়ালিশন আগামী জোট সরকার গঠনের আলোচনা শুরু করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিচ্ছে৷ সপ্তাহান্তেও প্রাথমিক আলোচনা সফল না হলে নতুন করে নির্বাচন হতে পারে৷

গত ২৪শে সেপ্টেম্বর জার্মানির সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সম্ভাব্য জোট সরকার গঠনের জন্য অনুকূল হয়নি৷ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ইউনিয়ন শিবির পছন্দের উদারপন্থি এফডিপি দলের সঙ্গে জোট গড়তে প্রয়োজনীয় আসন পায়নি৷ সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি ও সবুজ দলের সম্মিলিত আসনসংখ্যাও যথেষ্ট নয়৷ আগের মতো ইউনিয়ন ও এসপিডি দলের মহাজোট সরকার চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও শুরুতেই বাতিল করে দিয়েছেন এসপিডি দলের শীর্ষ নেতা৷

ফলে অবশিষ্ট রয়েছে একটি মাত্র সম্ভাব্য জোট৷ দলের রংগুলির কারণে এই জোটের পোশাকি নাম জামাইকা কোয়ালিশন৷ এফডিপি দলের সঙ্গে সবুজ দলকেও সঙ্গে নিয়ে জোট গঠন করতে চায় ম্যার্কেলের ইউনিয়ন শিবির৷ ভোটারদের রায় মেনে পরস্পরের মধ্যে আপোশ মীমাংসা করে এই জোট গঠন করার জন্য চাপ দিচ্ছেন ম্যার্কেল

এই প্রচেষ্টা বিফল হলে সম্ভবত নতুন করে আবার নির্বাচন ডাকতে হবে৷ সে ক্ষেত্রে জার্মানির মানুষ বিষয়টি মোটেই ভালোভাবে নেবেন না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন ম্যার্কেল৷ উল্লেখ্য, সংখ্যালঘু সরকার গঠনও আরেকটি বিকল্প হতে পারে, যদিও তার স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দেহ থেকে যাবে৷

তিনটি রাজনৈতিক শিবিরের চারটি দলের মধ্যে আদৌ জোট গঠন করা সম্ভব কিনা, সেই নিয়ে প্রায় চার সপ্তাহ ধরে আলোচনা করেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে৷ প্রথা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ঐকমত্য ছাড়া জোট সরকার গঠনের মূল আলোচনা শুরু করাই সম্ভব নয়৷ শুক্রবার সকালের মধ্যেই প্রাথমিক আলোচনা শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছিল৷ কিন্তু ইতিবাচক ফলাফল না পাওয়ায় আলোচনা সপ্তাহান্ত পর্যন্ত চলবে৷

সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিরোধ দেখা যাচ্ছে কয়েকটি বিষয় নিয়ে৷ জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলার প্রশ্নে পরিবেশবাদী সবুজ দলের কঠোর অবস্থান বাকিরা সবাই মানতে পারছে না৷ সবুজ দল চায়, শরণার্থীরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জার্মানিতে নিয়ে আসার অধিকার পাক৷ এই প্রশ্নেও রুখে দাঁড়িয়েছে বাভেরিয়ার সিএসইউ দল৷ সরকারি অর্থ ব্যয় নিয়েও বিরোধ মিটছে না৷

বহুকাল পর সরকারে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েও বিশেষ করে ছোট দলগুলি যে যার নিজস্ব আদর্শ বর্জন করতে প্রস্তুত নয়৷ বরং নিজেদের অবস্থানে অটল থেকে সমর্থকদের আস্থা ধরে রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য৷ তার উপর উগ্র দক্ষিণপন্থি এএফডি দলের উত্থানের কারণে বাভেরিয়ার সিএসইউ দলও শরণার্থী ও অভিবাসনের বিষয়ে কড়া অবস্থান ছাড়তে চাইছে না৷ চ্যান্সেলর ম্যার্কেলও নিজের সিডিইউ দলের মধ্যে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন৷ ফলে সবার মুখরক্ষা করে জোট গঠনের আলোচনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা মোটেই সহজ কাজ নয়৷

এসবি/ডিজি (এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন