জেল হত্যাকাণ্ড: রায় হয়েছে, কিন্তু ‘বিচার’ হয়নি | বিশ্ব | DW | 03.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

জেল হত্যাকাণ্ড: রায় হয়েছে, কিন্তু ‘বিচার’ হয়নি

জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল জেলের ভেতরে৷ নির্মম সেই হত্যাকাণ্ডের ৪২ বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকারীরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে৷ তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলছে৷

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়৷ জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে কারাগারে নেয়া হয়৷ ৩রা নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে তাঁদের চারজনকেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়৷

অডিও শুনুন 01:29
এখন লাইভ
01:29 মিনিট

‘‘ফলে ষড়যন্ত্রকারীরা খালাস পেয়ে যায়’’

ওই নির্মম হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হয়নি দীর্ঘদিন ধরে৷ হত্যাকাণ্ডের ২৩ বছর পর আওয়ামী লীগ মামলাটি সচল করে এবং ১৯৯৮ সালের ১৫ই অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়৷ ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এ মামলার রায়ে আসামি তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন৷ মুত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রিসালদার মোসলেম উদ্দিন, দফাদার মারফত আলী শাহ ও দফাদার আবুল হাশেম মৃধা৷ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এমএইচএম বি নূর চৌধুরী, এএম রাশেদ চৌধুরী, আবদুল মাজেদ, আহমদ শরিফুল হোসেন, মো. কিসমত হোসেন, নাজমুল হোসেন আনসার, সৈয়দ ফারুক রহমান, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন৷ 

এই মামলায় সাবেক মন্ত্রী কেএম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুরকে খালাস দেয়া হয়৷

২০০৮ সালে হাইকোর্ট রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য দুই আসামি মারফত আলী ও হাশেম মৃধাকে খালাস দেন৷ এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকেও খালাস দেয়া হয়৷ কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১৩ সালের ১৫ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ রায়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের দেয়া তিন জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখে৷ 

তাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি মধ্যরাতে সৈয়দ ফারুক রহমান, শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়৷

জেলহত্যা মামলার ১০ জন আসামি এখনো পলাতক৷ তারা হলেন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মোসলেম উদ্দিন, আপিল বিভাগের রায়ে মৃত্যুদণ্ড মারফত আলী শাহ ও আবুল হাসেম মৃধা, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এমএইচএম বি নূর চৌধুরী, এএম রাশেদ চৌধুরী, আহমদ শরিফুল হোসেন, কিসমত হোসেন ও নাজমুল হোসেন আনসার৷ যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবদুল মাজেদ দেশের বাইরে মারা গেছেন বলে জানা গেছে৷

পলাতক আসামিরা যুক্তরাষ্ট্র, ক্যানাডা ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে৷ জাতীয় চার নেতার স্বজনরা পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন৷ এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ছেলে খায়রুজ্জামান লিটন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘দণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না যে বিচার হয়েছে৷ চার নেতার পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আমারও দাবি, আসামিদের দেশের বাইরে থেকে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করা হোক৷ তারা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে৷ সরকার চেষ্টা করছে৷ আমাদের আশা, তাদের ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকরে সরকার সফল হবে৷''

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধু এবং জেলহত্যার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা দেশের বাইরে পালিয়ে আছে৷ তাদের দণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়েই বিচার পূর্ণাঙ্গ হবে৷ আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চেষ্টা করছি তাদের ফিরিয়ে আনতে৷ আর এই ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আমাদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনসহ নানা বিষয় মোকাবেলা করতে হচ্ছে৷ আমরা আশাবাদী, তাদের ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করতে পারব৷''

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু এবং জেলহত্যা মামলায় নেপথ্যের ষড়ন্ত্রকারীদের শাস্তির আওয়তায় আনা যায়নি৷ প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা গত ২৪ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা ও জেল হত্যা মামলার অনেক কিছুই তদন্ত ও প্রসিকিউশনে উঠে আসেনি, অনেক ভুলও ছিল৷ ওই দুই হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র ক্যান্টনমেন্ট থেকেই হয়েছিল৷ মামলা দু'টিতে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ছিল৷ ষড়যন্ত্রে যারা ছিল, তারা সবাই দায়ী৷ মামলায় মাত্র ১৫/১৬ জনের বিচার হয়েছে৷ দুই ঘটনায়ই অনেকেকে বিচারের আওতায় আনা যায়নি৷'' 

অডিও শুনুন 00:59
এখন লাইভ
00:59 মিনিট

‘‘তাদের দণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়েই বিচার পূর্ণাঙ্গ হবে’’

এ বিষয়ে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘‘জেলহত্যা মামলার প্রথম রায় হয়েছে বিএনপি'র নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে৷ ফলে ষড়যন্ত্রকারীরা খালাস পেয়ে যায়৷ আমরা তাদের আইনের আওতায় আনতে আইনি লড়াই চালিয়েছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছে তা আমরা মেনে নিয়েছি৷''

এদিকে তাজউদ্দিন আহমেদের পুত্র তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ ৩রা নভেম্বর জেলহত্যা দিবসে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন৷ তিনি তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন,‘‘বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতার সার্বিক অবদান– ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছয় দফা, গণঅভ্যুথান, সত্তুরের নির্বাচন এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগাবে৷ নতুন প্রজন্ম যাতে জানতে পারে যে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তাঁর সঙ্গে রেখেছিলেন যোগ্য ব্যক্তিদের, যাঁরা তাঁদের দক্ষতটা, যোগ্যতা আর দেশপ্রেম দিয়ে অর্জন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু এবং এ জাতির আস্থা৷ ৩ নভেম্বরকে রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা এবং এই দিনের তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা উচিত৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়